This is default featured slide 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured slide 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured slide 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured slide 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured slide 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

যক্ষা ভাল হয়।

২৪ মার্চ, বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস। সর্বপ্রথম ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস পালনের প্রস্তাব করা হয়। এর অবশ্য একটি কারণও ছিলো। কারণটি হলো ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ ছিলো যক্ষ্মা শনাক্তকারী বিজ্ঞানী রবার্ট কক – এর উদ্ভাবনীর একশত বছর পূর্তি। এই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন এগেইনস্ট টিউবারকুলোসিস অ্যান্ড লাং ডিজিজ এই উদ্যোগ গ্রহণ করে। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন এগেইনস্ট টিউবারকুলোসিস অ্যান্ড লাং ডিজিজের সঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একাত্মতা ঘোষণা করে। এরপর থেকে সারা বিশ্বে এই দিবসটি যথাযথভাবে পালন হয়ে আসছে।
প্রতিপাদ্য বিষয়:
আজ থেকে বেশ কয়েক বছর আগে শহর, নগর, বন্দর, গ্রামে প্রায় মানুষের মুখে একটি কথা শোনা যেত “যক্ষ্মা হলে রক্ষা নাই”।হ্যা সেই সময় যক্ষ্মা মানেই ছিলো অবধারিত মৃত্যু। তবে সময় অনেকটা পাল্টেছে। একবিংশ শতাব্দীতে এসে আগের সেই শহর, নগর, বন্দর ও গ্রামের মানুষগুলোর মুখেই শোনা যাচ্ছে “যক্ষ্মা হলে রক্ষা নাই, এই কথার আর ভিত্তি নাই”।হ্যা সময়ের বিবর্তনের সাথে সাথে বিজ্ঞান আবিষ্কার করতে পেরেছে যক্ষ্মা নিরোধক চিকিৎসা। শুধু তাই নয় পাশাপাশি তারা মানুষের মাঝে যক্ষ্মা প্রতিরোধে গণসচেতনতা সৃষ্টির প্রতিও তারা জোর দিয়েছেন। সারা বিশ্বের মানুষকে যক্ষ্মা প্রতিরোধ ও প্রতিকার সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যেই মূলত এই দিবসটি পালন করা হয়।
বিশ্ব যক্ষ্মা দিবসের এই একটি দিনে যদি আমরা যক্ষ্মা প্রতিরোধ বিষয়ে সচেতনতা লাভ করে সারা বছর নিজের মধ্যে ধারণ করতে সক্ষম হই তাহলে এই ভয়াবহ এই রোগ আমাদের স্পর্শ করতে পারবে না।
যক্ষ্মা কি?
যক্ষা একটি মারাত্মক সংক্রামক রোগ যা প্রাথমিকভাবে ফুসফুসকে আক্রান্ত করে। মাইক্রোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকিউলোসিস নামক এক ধরণের জীবাণুর সংক্রমণের মাধ্যমে যক্ষা হয়।যক্ষ্মা যক্ষা দুই ধরণের হয় :
সুপ্ত বা Latcut TB: এক্ষেত্রে যক্ষার সংক্রমণ হলেও জীবাণুগুলো সক্রিয় থাকে না এবং সমস্যার কোন লক্ষণ দেখা যায় না।
সক্রিয় বা Active TB: এক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং তার থেকে অন্যরাও আক্রান্ত হতে পারে।
আসুন প্রথমে আমরা এই রোগের প্রতিরোধ সম্পর্কে জানি:
জন্মের পর পর প্রত্যেক শিশুকে বিসিজি টিকা দেয়া
হাঁচি-কাশি দেয়ার সময় রুমাল ব্যবহার করা
যেখানে সেখানে থুথু না ফেলা
রোগীর কফ থুথু নির্দিষ্ট পাত্রে ফেলে তা মাটিতে পুঁতে ফেলা
যাদের যক্ষ্মা হতে পারে:
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যাদের কম
যক্ষায় সংক্রমিত ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে আসা ব্যক্তি
বয়স্ক ব্যক্তি
অপুষ্টি
যারা সুষম খাদ্য গ্রহণ করেন না
যারা দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন করছেন
এই রোগে যে ধরনের জটিলতা দেখা দিতে পারে:
ফুসফুসের ক্ষতি
অস্থিসন্ধি ব্যথা, ক্ষয়
মেনিনজাইটিস (মস্তিষ্ক এবং স্নায়ু সংক্রমিত হলে)
মিলিয়ারি টিবি (Miliary TB) (সমস্ত শরীরে সংক্রমিত হলে )
যক্ষা রোগের জীবাণু যেভাবে ছড়ায়:
বাতাসের মাধ্যমে যক্ষা রোগের জীবাণু ছড়ায়। যক্ষা রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি বা কাশির মাধ্যমে রোগের জীবাণু বাতাসে গিয়ে মিশে এবং রোগের সংক্রমণ ঘটায়।
লক্ষণ:
কাশি, মাঝে মধ্যে রক্ত সহ শ্লেষ্মার নির্গমন
বুকে ব্যথা
হালকা জ্বর
ওজন কমে যাওয়া এবং অবসাদ
রাতের বেলায় ঘামানো
কাপুনী
ক্ষুধা মন্দা
চিকিৎসা
যক্ষার লক্ষণ ও উপসর্গ দেখা দেয়ার সাথে সাথে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করতে হবে এবং ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা শুরু করতে হবে। বাংলাদেশের বিভিন্ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বিনামূল্যে যক্ষ্মার চিকিৎসা করা হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
জেলা সদর হাসপাতাল
বক্ষব্যাধি ক্লিনিক/হাসপাতাল, নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্র
এনজিও ক্লিনিক ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সমূহে বিনামূল্যে কফ পরীক্ষা, রোগ নির্ণয়সহ যক্ষার চিকিৎসা করা হয় ও ঔষধ দেয়া হয়।
যে সকল টেস্ট করাতে হয়:
ত্বকের পরীক্ষা
রক্তের পরীক্ষা
কফ পরীক্ষা
বুকের এক্স-রে পরীক্ষা অথবা সিটি স্ক্যান
কালচার টেস্ট
পরীক্ষার ফল নেতিবাচক হলেও অনেক সময় যক্ষার সংক্রমণ হতে পারে। যেমন:
যক্ষার সংক্রমণের ৮-১০ সপ্তাহ পরে তা ত্বকের পরীক্ষায় ধরা পড়ে। তার আগে পরীক্ষা করলে ধরা নাও পড়তে পারে
এইডস এর মতো কোন রোগের কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে অনেকসময় পরীক্ষায় যক্ষা রোগ ধরা পড়ে না। এছাড়া এইডস এবং যক্ষা রোগের লক্ষণ ও উপসর্গ গুলো প্রায় এক রকম হওয়ায় এইডস রোগীদের যক্ষা রোগ নির্ণয়ের বিষয়টি জটিল হয়ে থাকে।
হামের টিকা নিলে এগুলোতে অনেক সময় জীবন্ত জীবাণু (Live virus) থাকে, এর জন্য ত্বক পরীক্ষায় যক্ষা ধরা নাও পড়তে পারে।
শরীরে যক্ষা রোগের জীবাণু বেশী মাত্রায় ছেয়ে গেলে (Overwheliming TB disease) ত্বকের পরীক্ষায় রোগের জীবাণু ধরা নাও পড়তে পারে
অনেক সময় সঠিকভাবে পরীক্ষা না করলেও এতে যক্ষা রোগের জীবাণু ধরা পড়ে না।
কি ধরণের চিকিৎসা আছে
ডটস পদ্ধতিতে অর্থাৎ স্বল্পমেয়াদী, সরাসরি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে যক্ষা রোগের চিকিৎসা করা হয়। এজন্য ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী রোগের ধরণ, মাত্রা এবং রুগীর বয়স অনুসারে ঔষধের কোর্স সম্পূর্ণ করতে হবে। যক্ষার চিকিৎসার মধ্যে রয়েছে:
এন্টিবায়োটিক সেবন। সাধারণত ৬-৯ মাস ব্যাপী এন্টিবায়োটিক ঔষধ সেবন করতে হবে
শিশুদের ক্ষেত্রে Streptomycin সেবন
গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে Isoniazid Rifampin, এবং Ethambutol সেবন
অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের ফলে যে সকল অসুবিধা দেখা দিতে পারে:
বমি বমি ভাব অথবা বমি
ক্ষুধামন্দা
ত্বক হলদে হয়ে যাওয়া
গাঢ় রঙয়ের প্রস্রাব
কোন কারণ ছাড়াই তিন দিনের অধিক জ্বর থাকা
পেট যন্ত্রণা
চোখে অস্পষ্ট দেখা
যক্ষ্মার ঔষধসমূহ:
প্রথম সারির ঔষধ দ্বিতীয় সারির ঔষধ
রিফাম্পিসিন
আইসোনিয়াজিড
পাইরাজিনামাইড
ইথামব্যুটল
স্ট্রেপ্টোমাইসিন ওফ্লক্সাসিন
রিফাবিউটিন
ইথিওনামাইড
সাইক্লোসেরিন
প্যারা অ্যামিনো স্যালিসিলেট

আপনার মধ্যে এই লক্ষন গুলি থাকলে, আপনিও ক্যান্সারে আক্রান্ত। জেনে নিন মরণব্যাধি ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ গুলো!

ক্যান্সার একটি মরণব্যাধি। প্রতিবছর বিশ্বে অসংখ্য মানুষ ক্যান্সারে মারা যায়। ক্যান্সারের কোনো নির্দিষ্ট কারণ নেই। তবে বয়স, খাবার, জীবনযাপনের ধারা, পারিবারিক ইতিহাস, পরিবেশ এবং পেশাগত কারণে ক্যান্সার হতে পারে।

সাধারণত বয়স যত বাড়তে থাকে ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও তত বাড়তে থাকে, কারণ এ সময়ে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধীরে ধীরে কমতে থাকে। গবেষণায় দেখা যায় যারা ক্যান্সারে আক্রান্ত হয় তাদের প্রায় শতকরা ৭০ ভাগেরই বয়স ৬০ বছরের ওপর। তবে কম বয়সেও বহু মানুষ এই মরন ব্যাধিতে মৃত্যুবরণ করে।


ক্যান্সারের কিছু লক্ষণ আছে যেগুলো দেখা দিলে আগে থেকেই ক্যান্সার সম্পর্কে সচেতন হওয়া যায়। লক্ষণ গুলো থাকলে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে, আবার একেবারে নাও থাকতে পারে। কিন্তু সতর্ক থাকতে তো আর সমস্যা নেই। তাই না? তাছাড়া প্রাথমিক ধাপেই ক্যান্সার সনাক্ত করা গেলে অধিকাংশ সময়েই ক্যান্সার আংশিক বা পুরোপুরি নিরাময় করা সম্ভব। তাই প্রাথমিক ধাপেই ক্যান্সার সনাক্ত করার জন্য প্রয়োজন সতর্কতার। তাহলে দেখে নিন ৬টি লক্ষণ যেগুলো থাকলে ক্যান্সার আছে কিনা তা পরীক্ষা করিয়ে নেয়া উচিত।


হঠাৎ অস্বাভাবিক ওজন হ্রাসঃ-
কোনো কারণ ছাড়া হঠাৎ যদি আপনার ওজন অস্বাভাবিক কমে যায় তাহলে অবশ্যই স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে নেয়া উচিত। কারণ ক্যান্সার হলে একটি ধাপে এসে হঠাৎ করেই ওজন কমে যাওয়া শুরু করে। আপনার ওজন যদি কোনো কারণ ছাড়াই খুব দ্রুত ১০ পাউন্ড বা তারও বেশি কমে যায় তাহলে সেটা ফুসফুস বা পাকস্থলীর ক্যান্সারের একটি লক্ষণ হতে পারে। তাই এধরণের সমস্যায় পড়লে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।


জ্বরঃ-
ক্যান্সারের সাধারণ একটি লক্ষণ হলো জ্বর। তবে সাধারণত ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়ার পর এই লক্ষণ দেখা দেয়। প্রায় সব ধরণের ক্যান্সারের রোগীরাই কোনো না কোনো ধাপে দীর্ঘমেয়াদি জ্বরে ভুগে থাকেন। প্রতিদিন রাতে কাপুনি দিয়ে জ্বর আসা এবং ঘন ঘন জ্বর হলে অবশ্যই স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে নেয়া উচিত।


অতিরিক্ত ক্লান্তি লাগাঃ-
সারাদিনই অতিরিক্ত ক্লান্তি লাগার সমস্যা হলো ক্যান্সারের আরেকটি উপসর্গ। এধরণের ক্লান্তিতে আপনি যতই বিশ্রাম নিন কোনো ভাবেই ক্লান্তি কমবে না। কিছু ক্যান্সারে রক্ত শূন্যতা দেখা দেয় যেমন কোলন ক্যান্সার, লিউকোমিয়া ও পাকস্থলীর ক্যান্সারে। ফলে শরীর অতিরিক্ত দূর্বল লাগে সব সময়। তাই সারাক্ষণ কান্তি লাগার সমস্যা দেখা দিলে অবহেলা করা উচিত নয় কারণ এটা ক্যান্সারের একটি অন্যতম লক্ষণ।
ব্যাথাঃ-
কিছু কিছু ব্যাথা আছে যেগুলো সহজে যায় না এবং ঘন ঘনই দেখা দেয়। এধরণের ব্যাথা ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে। যেমন দীর্ঘ মেয়াদী হাটুর ব্যাথা হাড়ের ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে। আবার অসহ্য মাথা ব্যাথা যদি যেতে না চায় তাহলে সেটা ব্রেইন টিউমারের লক্ষণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কোলন, রেকটাম ও ওভারির ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে বহুদিন ধরে পিঠে ব্যাথা করা। সাধারণত ক্যান্সার ছড়িয়ে গেলে ব্যাথার উপসর্গ দেখা দেয়।
ত্বকের পরিবর্তনঃ-
কিছু কিছু ক্যান্সারে ত্বকের কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। সাধাণরত ত্বকে যে ধরণের সমস্যা হলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন সেগুলো হলো-
– ত্বকের নির্দিষ্ট যায়গা কালচে হয়ে যাওয়া
– ত্বক ও চোখ হলদে হয়ে যাওয়া
– ত্বকের নির্দিষ্ট কোনো যায়গায় চুলকানী অনুভূত হওয়া
– হঠাৎ করে লোম বেড়ে যাওয়া
– শরীরের কোনো যায়গা হঠাৎ করে ফুলে যাওয়া
কিছু কিছু ক্যান্সার টিউমার থেকে হয়। দীর্ঘমেয়াদী টিউমার এক সময়ে ছড়িয়ে গিয়ে ক্যান্সারের সৃষ্টি করে। তাই শরীরের যে কোনো যায়গায় উঁচু টিউমারের মত অনুভূত হলে সাথে সাথেই ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন। বিশেষ করে স্তনে অথবা এর আশে পাশে টিউমার অনুভব করলে সাথে সাথে ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া উচিত।

শিশুদের যক্ষ্মা রোগের কারন, লক্ষন, ভয়াবহতা ও প্রতিরোধ।

শিশুদের যক্ষ্মা রোগের কারন, লক্ষন, ভয়াবহতা ও প্রতিরোধ।

বিশ্বের ২২টি দেশের মধ্যে যক্ষ্মা রোগীর সংখ্যা সর্বাধিক। এর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ষষ্ঠতম। যক্ষ্মা শুধু বড়দের আক্রান্ত করে না শিশুরাও আক্রান্ত হয়। বিশ্বের মোট যক্ষ্মা রোগীর ১০ শতাংশ শিশু, যাদের বয়স ১৫ বছরের নিচে। বিশ্বব্যাপী শিশুমৃত্যুর প্রথম ১০টি কারণের মধ্যে যক্ষ্মা একটি।

শিশুদের যক্ষ্মা রোগের কারণ
যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত লোকের সাথে ঘনিষ্ট সংস্পর্শে, আক্রান্ত লোক যখন কাশে তখন তার থুথুর মাধ্যমে এ রোগ ছড়ায় ।

জীবানুর নামঃ মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকুলোসিস ( Mycobacterum Tuberculosis) ।

শিশুদের যক্ষ্মা রোগের লক্ষণ
অল্প অল্প জ্বর ও কাশি, ক্ষুধা কমে যায়, দুর্বলতা, গ্রন্থি ফুলে যায়, পরে পেকে যে গ্রন্থি বগল বা ঘাড়ে ক্ষতের সৃষ্টি করে। অনেক দিন ধরে ধীরে ধীরে ওজন কমে যায় ।  হাড় যে কোন হাড়ের জোড়া ফুলে যায় এবং অচল হয়ে যায়। মেরুদন্ডে যক্ষ্মার ফলে বাঁকা  হযে যায়, ব্যাথা হয়।  মস্তিষ্ক (টিভি মেনিনজাইটিস) – এর ফলে মারাত্মক মাথা ব্যথা, অচেতনতা, ঘাড় শক্ত ও খিঁচুনি হয়।

শিশুদের যক্ষ্মা রোগের ভয়াবহতা
সময়মত সঠিক চিকিৎসা না করলে আক্রান্ত শিশুর মৃত্যু হতে পারে এবং রোগ ছড়াতে পারে।


শিশুদের যক্ষ্মা রোগের প্রতিরোধ

জম্মের পরপরই যত শীঘ্র সম্ভব বিসিজি টিকা দিলে তা শিশুর দেহে যক্ষ্মার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে জন্মের পর পর বিসিজি দেয়া না হলে, শিশুর এক বৎসর বয়সের মধ্যেই এই টিকা গ্রহণ করা উচিত।

যে কারণে গরমে ঠান্ডা পানি কেন খাবেন না


প্রচণ্ড গরমে এক গ্লাস পানি খেলে প্রশান্তি পাওয়া যায়। তাই বলে হুটহাট করে একেবারে ফ্রিজ থেকে বের করেই বরফজমা ঠান্ডা পানি খাওয়া ঠিক নয়। শুধু গরম বলে নয়, আয়ুর্বেদশাস্ত্রে যেকোনো সময় ঠান্ডা পানি খাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। ঠান্ডা পানি হজমে ব্যাঘাত ঘটায়। গ্রীষ্মের গরমের কথা মাথায় রেখে যতটা সম্ভব ঠান্ডা পানি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

‘দ্য কমপ্লিট বুক অব আয়ুর্বেদিক হোম রেমিডিস’ বইয়ের তথ্য অনুযায়ী, যেকোনো পরিস্থিতিতে ঠান্ডা বা শীতল পানিকে অস্বাস্থ্যকর বলা হয়। তাই খাবারের সময় বা তৃষ্ণা মেটাতে ঠান্ডা পানি এড়ানো উচিত। এটি শরীরের পরিপাক রসের (গ্যাস্ট্রিক জুস) স্বাভাবিক কার্যকারিতায় বাধা দেয়। পেট গড়বড় করার জন্য ঠান্ডা পানি দায়ী। ওই বইয়ে ঠান্ডা পানির বদলে খাবারের মাঝখানে হালকা উষ্ণ পানি কয়েক চুমুক খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ঠান্ডা পানিকে ‘না’ করার কারণ জেনে নিন:

১. হজমে বাধা
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঠান্ডা পানি বা ঠান্ডা কোমল পানীয় রক্তনালির সংস্পর্শে আসে এবং হজমপ্রক্রিয়ায় বাধা দেয়। হজমের সময় যে পুষ্টি শোষিত হয়, সে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বাধা দেয়। শরীর তখন হজমপ্রক্রিয়ার চেয়ে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়ে। শরীরের বেশি পানিশূন্যতা দেখা যায়। ঠান্ডা পানি খেলে শরীরের শক্তি ক্ষয় হয়, যা হজমপ্রক্রিয়ার বদলে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। তাই ঠান্ডা পানি থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

২.


২. গলাব্যথা
গরমে ঠান্ডা পানি খেলে গলাব্যথা হতে পারে। এ ছাড়া সর্দি লাগার অন্যতম কারণ হতে পারে ঠান্ডা পানি। খাবারের পরপর ঠান্ডা পানি খেলে অতিরিক্ত মিউকাস (শ্লেষ্মা) তৈরি হয়। এটি শ্বাসপ্রশ্বাসে বাধা তৈরি করে। যখন শ্বাসনালিতে বাধা তৈরি হয়, তখন নানা প্রদাহযুক্ত সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

৩. চর্বি গলতে বাধা দেয়
খাবারের পর ঠান্ডা পানি খেলে খাবারের চর্বির অংশ শক্ত হয়ে যায় বলে শরীর তা ভাঙতে পারে না। ফলে শরীরে অনাকাঙ্ক্ষিত চর্বি জমে। তাই খাবারের পরপরই অনেক বিশেষজ্ঞ পানি খেতে নিষেধ করেন। ভারতের বেঙ্গালুরুভিত্তিক পুষ্টিবিদ আনজু সুদ খাবারের অন্তত আধা ঘণ্টা পর পানি খেতে পরামর্শ দেন।

৪. হৃৎস্পন্দন কমায়
ঠান্ডা পানি হৃৎস্পন্দন কমিয়ে দিতে পারে। শরীরের স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রে উদ্দীপনা তৈরি করে এটি। যখন ঠান্ডা পানি খাওয়া হয়, তখন এর শীতল ভাব স্নায়ুকে উদ্দীপ্ত করে হৃৎস্পন্দন কমিয়ে দেয়।

৫. পেটব্যথা হয়
যাঁরা ওজন কমাতে শরীরচর্চা করেন, তাঁদের ঠান্ডা পানি না খেতে পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। হাঁটাহাঁটি বা ব্যায়ামের পর শরীরে তাপ উৎপন্ন হয়। তখন ঠান্ডা পানি খেলে শরীরের তাপমাত্রার সঙ্গে তা মানায় না। এতে হজমে সমস্যা হয়। অনেকে পেটব্যথা অনুভব করেন। হিমশীতল পানি শরীরে বড় ধরনের ধাক্কা দেয়।

পায়ের রগে বা পেশিতে হঠাৎ টান ধরলে কি করবেন , পঙ্গু হতে না চাইলে জেনে নিন কি করবেন


ঘুমিয়ে আছেন হঠাৎ পায়ের মাংসপেশির টানের ব্যথায় কঁকিয়ে উঠলেন আপনি। এমতাবস্থায় পা সোজা বা ভাঁজ করা সম্ভব না। একটানা পা ভাঁজ করে রেখে হঠাৎ সোজা করতে গেলে পায়ের পেশিতে টান পড়ে তখনই পায়ের পেশীতে বা রগে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভূত হয়। এমনটা ঘুমের মধ্যে বা জেগে থাকা অবস্থাতেও হতে পারে। তবে ঘুমন্ত অবস্থায় বেশি হয়ে থাকে।

দীর্ঘসময় ধরে অতিরিক্ত পরিশ্রমের কারণে অনেক সময় পায়ের পেশিতে বেশি টান লাগতে পারে। আবার দীর্ঘক্ষণ বসে বা দাঁড়িয়ে থাকলেও এমনটা হয়ে থাকে।

আরো নানান কারনে হতে পারে। যেমন, পানিশূন্যতা, মাংসপেশী বা স্নায়ুতে আঘাত, রক্তে পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের অভাব, কিছু ঔষধের পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া যেমন, হাইপারটেনশন ও কোলেস্টেরল, কয়েকটি বিশেষ ভিটামিনের অভাবে যেমন, ভিটামিন ‘বি’ B1, B5, B6। কিছু বদভ্যাসের কারনে যেমন, ধূমপান, মদপান।

ধূমপায়ীদের পায়ে রক্ত চলাচল কম হয় বলে সামান্য হাঁটাহাঁটিতেই তাদের পায়ে টান লাগে। গর্ভাবস্থায় বিভিন্ন স্নায়ুতে চাপ পড়ে থাকে, তাই ওই সময় পায়ের পেশীতে টান লাগা স্বাভাবিক ব্যাপার। আবার হাইপোথাইরয়েডিজম, কিডনি ফেইলিওর, মেন্সট্রুয়েসন, গর্ভসঞ্চার ইত্যাদির কারনেও পেশীতে টান লাগতে পারে।

পেশীতে টান পড়লে যে পায়ের পেশীতে টান পড়লো দ্রুত সেই পায়ের পেশীকে শিথিলায়ন বা রিলাক্স করতে হবে। এতে পেশী প্রসারিত হবে এবং আরাম পাবেন। পেশীকে প্রসারিত করার নিয়ম হল,


আপনার যদি হাঁটুর নিচে পায়ের পিছনের মাসলে টান লাগে তাহলে পা সোজা করে হাত দিয়ে পায়ের আঙুলের মাথাগুলো ধরে আপনার দিকে আস্তে আস্তে টানুন। আর যদি সামনের দিকে হয় তাহলে পা ভাঁজ করে পায়ের আঙুলের মাথাগুলো পেছনের দিকে টানুন।

অনেক সময় উরুর পেছনেও এমনটা হয়, তখন চিৎ হয়ে শুয়ে পা ভাঁজ করে হাটুঁ বুকের দিকে নিয়ে আসুন যতোটুকু পারা যায়। আর উরুর পেছনের পেশীতে আলতো হাতে আস্তে আস্তে মালিশ করুন আরাম পাবেন।আর যদি পেশী শক্ত হয়ে আসে তখন ওয়াটার ব্যাগ বা হট ব্যাগের মাধ্যমে কিছুক্ষণ গরম সেঁকা দিন আক্রান্ত পেশীতে।

আবার যদি পেশী বেশি নরম ও ফুলে যায় আর ব্যথা থাকে তাহলে তাতে আইসব্যাগ দিয়ে ঠাণ্ডা সেঁক দিন। বেশ আরাম পাবেন। প্রত্যেকের বাসায় মুভ বা ভিক্স জাতীয় ব্যথানাশক বাম বা জেল থাকে, তা দিয়ে আলতো হাতে মালিশ করা যেতে পারে ওই পেশীতে।

আর ‘পেশীর টানমুক্ত’ অবস্থায় ভালো থাকতে পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামযুক্ত খাবার খান। শাকসবজি, ফল, খেজুর, দুধ ও মাংসতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও পটাশিয়াম রয়েছে। তাই এই খাবারগুলো বেশি বেশি খান। নেশা জাতীয় বদ অভ্যাস থাকলে তা থেকেও বেরিয়ে আসতে হবে। প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নিন সুস্থ থাকুন।

যা খেয়ে মাত্র ১১ দিনেই ডায়াবেটিস নির্মূল হবে, সারা বিশ্বে আলোড়ন


ডায়াবেটিস সম্পূর্ণ নির্মূল করা যায়, কথাটি শুনলে যে কারোই ভড়কে যাবার কথা, কারণ ডায়াবেটিস একবার দেহে বাসা বাধলে তা কখনোই পরিপূর্ণ ভাবে সারে না, তবে পরিমিত পরিমান খাবার গ্রহন করে তা নিয়ন্ত্রনে রেখে দীর্ঘদিন সুস্হ থাকা সম্ভব, কিন্তু বৃটেনের বিজ্ঞানী রিচার্ড ডটির দাবী মাত্র ১১ দিনের মধ্যেই ডায়াবেটিস সম্পূর্ণ মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

বৃটেনের রিচার্ড ডটি (৫৯) নামের এক ব্যক্তি বেশ অল্প ক্যালোরিসম্পন্ন খাবার খেয়ে ১১ দিনেই ডায়াবেটিস থেকে মুক্তি পেয়েছেন। তিনি কি খাবার খেয়ে এটা করতে পেরেছেন তার একটি চার্ট প্রকাশ করেছেন। যা যা খেতেন, তার তালিকা একেবারেই ছোট। ডায়াবেটিস এমন একটি রোগ যা কখনও সম্পূর্ণ নির্মূল হয় না। এমন প্রচলিত ধারণাকে পাল্টে দিয়েছেন রিচার্ড। মানুষ শরীর থেকে অতিরিক্ত মেদ ঝরাতে বিভিন্ন ডায়েট পরিকল্পনা করে। কিন্তু তিনি প্রায় অভুক্ত থাকার ডায়েটেই নিরোগ শরীর পেলেন। রিচার্ড লম্বায় ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি, তার ওজন ৬৭ কেজি।
রুটিনমাফিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান তিনি। শেষবার যখন পরীক্ষা করালেন, ফলাফলে রীতিমতো চমকে উঠলেন তিনি। রিপোর্টে জানা গেলো, টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়েছেন তিনি। রিচার্ডের বংশে কারও ডায়াবেটিস ছিল না। তার ওজনও অতিরিক্ত নয়। তিনি সবসময় সুষম ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস মেনে চলেন। জীবনে কখনও সিগারেট স্পর্শ করেননি। এত সব সত্ত্বেও ডায়াবেটিস ধরা পড়লে যে কারও চোখই কপালে উঠবে।
রিচার্ডেরও তা-ই হলো। তিনি রীতিমতো কিংকর্তব্যবিমূঢ়। ডায়াবেটিস থেকে মুক্তি পেতে এবার শুরু হলো তার নিরন্তর প্রচেষ্টা। ইন্টারনেটে সমাধান খুঁজলেন। নিউক্যাসল ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীদের তৈরি করা একটি স্বল্প ক্যালোরিসম্পন্ন ডায়েটের সন্ধান পেলেন তিনি।

ওই বিজ্ঞানীদের দাবি, এ ডায়েট অনুসরণে ৮ সপ্তাহেই ডায়াবেটিস সম্পূর্ণ নির্মূল সম্ভব। ওই ডায়েটের মধ্যে ছিল ৬০০ ক্যালোরির মিল্ক শেক ও সুপ এবং ২০০ ক্যালোরির সবজি। আর দিনে ৩ লিটার পানি পান। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএনআই। রিচার্ড জানান, একটা সুপ, দু’টো শেক আর সবুজ শাকসবজি খেয়ে বেঁচে থাকাটাকে প্রথম দিকে বেশ দুঃসাধ্য কাজ মনে হয়েছিল তার কাছে। তবে তিনি হাল ছাড়লেন না। টানা ১১ দিন এ ডায়েট অনুসরণ করলেন।

অকল্পনীয় হলেও সত্যি! তার রক্তে সুগারের পরিমাণ স্বাভাবিক হয়ে গেল। অর্থাৎ নন-ডায়াবেটিক লেভেলে নেমে এলো ব্লাড সুগার। এ সময়টায় রিচার্ডের ওজন কমেছিল। এরপর তিনি ফের ডায়াবেটিস পরীক্ষা করে দেখলেন তার শরীর থেকে ডায়াবেটিস সম্পূর্ণ নির্মূল হয়েছে। দীর্ঘদিন পরও তিনি একেবারেই ডায়াবেটিসমুক্ত। আর ওজনটাকে তিনি ৫৭ কেজির মধ্যেই ধরে রেখেছেন। রিচার্ড ডটির এ সাফল্য নিঃসন্দেহে বিশ্বের কোটি কোটি ডায়াবেটিস আক্রান্ত মানুষকে নতুন পথের সন্ধান দেবে। একই বা কাছাকাছি পথ অনুসরণ করে অনেকেই হয়তো নিরোগ জীবন ফিরে পাবেন।

আমার ব্লগে লেখার জন্য আবেদন( ব্লগ লেখক)

😎😎😎আসসালামুয়ালাইকুম।আশাকরি সবাই ভাল আছেন।facemash নামক এই ব্লগটি আসলে আপনাদের সাস্থ্যের প্রতি নজর দিয়েই আমি তৈরি করেছি।কারন আমরা সাধারনত সব রোগ সম্পর্কে অবগত নই।যাকগে আসল কথায় আসি; আমার অনুমান যদি ভুল না হয় তাহলে সব ধর্মে পরোপকার একটি মহৎ গুন।যদি কোন ভালো ব্লগ লেখক মানুষের উপকারের উদ্দেশ্যে ব্লগ লিখতে চান তাহলে তাকে আমার ব্লগে সাধুর আমন্ত্রন জানাই।😎😎😎😎আমার সাথে যোগাযোগ করতে ফোন করুন ০১৭১৫৫৩৩৯৯০ অথবা ইমেইল করুন robiulawal527@gmail.com/ shovor73@ yahoo.com😍😍😍  📜বি: দ্র:📜📝আপনি যদি প্রতিদিন একটি করে রোগের প্রতিকার প্রতিরোধ ও লক্ষন সহ ওই রোগের সকল বিষয় সাবলীল ভাবে বর্ননা করে ব্লগটি পোস্ট করে তাহলে তাকে সম্মানি হিসাবে  সর্বনিম্ম১০০০ এবংসর্বোচ্চ ৫০০০ টাকা প্রদান করা হইবে।( বিকাশে)

হঠাৎ প্রেসার বেড়ে গেলে খুব দ্রুত যা খাবেন

  হাই ব্লাড প্রেসার বা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভোগেন অনেকেই। সঠিক খাদ্যগ্রহণের মাধ্যমে এর থেকে দূরে থাকা সম্ভব। উচ্চ রক্তচাপ কমানোর জন্য এমন সব খাবারের পরিকল্পনা করতে হবে, যাতে থাকবে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম। কারণ খাদ্যের এসব উপাদান উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সহায়ক। কম চর্বিযুক্ত দুধ বা চর্বিবিহীন দুধ বা দুধজাত খাদ্য যেমন দই ইত্যাদিতে পাওয়া যায় পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম।

তাজা ফল যেমন আপেল, কলা আর শাকসবজি হচ্ছে পটাশিয়ামের ভালো উৎস। টমেটোতেও আছে বেশ পটাশিয়াম।

বেশি ম্যাগনেশিয়াম পাওয়া যায় দানা শস্য বা গোটা শস্য, বিচি জাতীয় খাবার, বাদাম, শিমের বিচি, ডাল, ছোলা, লাল চালের ভাত, লাল আটা, আলু, সবুজ শাকসবজি, টমেটো, তরমুজ, দুধ ও দই ইত্যাদিতে।

১. কম চর্বিযুক্ত দুধ বা চর্বিবিহীন দুধ বা দুধজাত খাবার প্রতিদিন খেতে হবে ২ থেকে ৩ সার্ভিং। এক সার্ভিং দুধ বা দুধজাত খাবার মানে আধা পাউন্ড বা এক গ্লাস দুধ অথবা এক কাপ দই।

৩. ফল ৪ থেকে ৫ সার্ভিং প্রতিদিন। টুকরো টুকরো করে কাটা আধা কাপ ফল কিংবা মাঝারি সাইজের একটা আপেল বা অর্ধেকটা কলা অথবা আধা কাপ ফলের রস এতে হবে ফলের এক সার্ভিং। ফলের রসের চেয়ে আস্ত ফলই ভালো।

৪. শাকসবজি প্রতিদিন প্রয়োজন ৪ থেকে ৫ সার্ভিং। শাকসবজির এক সার্ভিং মানে এক কাপ কাঁচা শাক বা আধা কাপ রান্না করা শাক।

৫. দানা শস্য প্রতিদিন দরকার ৭ থেকে ৮ সার্ভিং। দানা শস্যের এক সার্ভিংয়ের উদাহরণ হলো এক স্লাইস রুটি অথবা আধাকাপ ভাত বা এক কাপ পরিমাণ গোটা দানা শস্য।

৬. বিচি জাতীয় খাবার প্রতি সপ্তাহে প্রয়োজন ৪ থেকে ৫ সার্ভিং। বিচি জাতীয় খাবারের এক সার্ভিংয়ের উদাহরণ হলো এক কাপের তিন ভাগের এক ভাগ বাদাম বা আধাকাপ রান্না করা শিম বা মটরশুঁটি।

মাত্র ২ টাকার ফল খেলেই দূর হবে কিডনি পাথর, লিভার সমস্যা, ভাইরাসজনিত সংক্রমণ সহ আরো অনেক রোগ। জেনে নিন কি সেই ফল !!

বিনা অপারেশনেই আধাকাপ লেবুর রসে কিডনির পাথর দূর হবে। যে ফলটি এখন পাওয়া যায় মাত্র ২ টাকায়।

প্রতি বছর পৃথিবীতে ক্যানসারের চেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয় কিডনির সমস্যায়। কিডনি সমস্যার সবচেয়ে বড় কারণ কিডনি স্টোন।

খবর জি নিউজের। অতিরিক্ত মাংস খেলেই বিপদ। কম পানি খেয়েছেন কী মরেছেন। কম সবজি খেলেও সমস্যা। বেশি নুন খাওয়া ক্ষতিকর। বংশগত কারণেও কিডনিতে পাথর হওয়ার আশংকা থাকে।

মাঝে মাঝে ডিহাইড্রেশন হলেও কিডনিতে পাথর তৈরি হতে পারে। ইউরিন ইনফেকশন হলেও কিডনিতে পাথর জমতে পারে। মাইগ্রেনের জন্য ব্যবহৃত টপিরামেট জাতীয় ওষুধ কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।

ওজন বাড়লেও মারাত্মক বিপদ। কিডনির ভেতরের এই পাথরগুলো মূত্রনালির মাধ্যমে মূত্রথলিতে যাওয়ার চেষ্টা করে। পাথর যখন সংকীর্ণ নালির মধ্যে দিয়ে যায়, তখন প্রচণ্ড ব্যথা হয়।

কখনও কখনও নালিটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এই অবস্থায় অপারেশন ছাড়া পথ থাকে না।

কিন্তু ইউনিভার্সিটি অব হাউস্টনের গবেষকরা বলছেন, লেবুর রসে হতে পারে মুশকিল আসান। লেবুর রসে হাইড্রক্সিসিট্রেট থাকে।

এটা আমাদের শরীরের ক্যালসিয়াম অক্সালেট ক্রিস্টাল গলিয়ে দিতে সাহায্য করে। এই ক্যালসিয়াম অক্সালেট ক্রিস্টালের কারণেই প্রধানত কিডনিতে পাথর হয়।

গবেষকরা বলছেন, দিনে দুবার ৪ আউন্স পাতিলেবুর রস খেতে হবে। ৩২ আউন্স টাটকা লেমোনেডও খাওয়া যেতে পারে।

২ আউন্স লেবুর রসের সঙ্গে ৬ আউন্স পানি মিশিয়ে নিতে হবে। সকালে ব্রেকফাস্টের আগে এবং রাতে শোয়ার আগে লেবুর রস খেয়ে নিতে হবে।

শুধু কিডনির স্টোনই নয়, লেবুর রসে আরও অনেক উপকারিতা আছে।

১. শক্তি বাড়ায় লেবুর রস।

২. লিভার পরিষ্কার রাখে।

৩. ভাইরাসজনিত সংক্রমণ প্রতিরোধ করে।

৪. কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে লেবুর রস।

৫. ত্বক পরিষ্কার রাখে।

৬. ওজন কমাতে সাহায্য করে।

৭. মূত্রনালির সংক্রমণ দূর করে।

৮. চোখ ভালো রাখে।

৯. দাঁতব্যথা কমায়।

১০. গর্ভবতী নারী ও গর্ভের শিশুর জন্য ভীষণ উপকারি।

১১. স্তন ক্যানসার সারাতে লেবুর রসের জুড়ি মেলা ভার।

বড় রোগের ছোট সমাধান















সুস্থ্যতার জন্য ব্যায়াম

ভবিষ্যতের চিকিৎসক রুগীকে ওষুধ না দিয়ে তাকে শেখাবেন শরীরের যত্ন নেয়া, সঠিক খাদ্য নির্বাচন, রোগের কারণ নির্ণয় ও তা প্রতিরোধের উপায়।
-টমাস আলভা এডিসন, মার্কিন আবিষ্কারক
এডিসন যে-ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন তা আজ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলেও শরীরের যত্ন, খাদ্যাখাদ্য বিচার ও রোগ ঠেকানোর ব্যাপারে আমরা এখনও যথেষ্ট সচেতন নই। তাই বিভিন্ন মানবদরদী চিকিৎসক ও গবেষকের পরামর্শের ওপর ভিত্তি করে কিছু লেখার এ ক্ষুদ্র প্রয়াস।
১. উপযুক্ত ব্যায়াম ও খাদ্যাভ্যাস এবং প্রফুল্ল মনই হচ্ছে সুস্থ থাকার চাবিকাঠি। আসলে আমাদের জীবনে এত দুশ্চিন্তা বা টেনশন থাকে যে, আমরা হাসিখুশী থাকতে পারি না। অথচ কথায় আছে, ক্যান্সারে যত না কবর ভরেছে তার চেয়ে বেশী ভরেছে টেনশনে। সুতরাং ভালভাবে বাঁচতে চাইলে মনকে প্রফুল্ল রাখতে হবে। এ জন্য ভাল চিন্তা ও ভাল কাজের কোনো বিকল্প নেই। সেই সাথে নিজেকে জড়াতে হবে কোনো না কোনো সৃজনশীল কাজের সাথে।
২. চার বছর বয়স থেকেই ব্যায়াম শুরু করা উচিত। ব্যায়াম অনেক রকম। যেমন হাঁটা, সাঁতার কাটা ও দৌড়-ঝাঁপ ইত্যাদি ব্যায়াম, সাইকেল কিংবা অন্যান্য যন্ত্রপাতি চালিয়ে ও ভারি কিছু ওপরে তোলার মাধ্যমে ব্যায়াম, দেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ মালিশের দ্বারা ব্যায়াম এবং দেহকে বিশেষ ভঙ্গিমায় স্থির রেখে যোগ ব্যায়াম। সব ব্যায়ামেই উপকার হয়। তবে বয়স, শারীরিক অবস্থানুযায়ী প্রয়োজন, পরিবেশগত সুবিধা, সময়ের সীমাবদ্ধতা ও মানসিক প্রবণতার কথা ভেবে ব্যায়াম বেছে নেয়া ভাল। কিন্তু কিছু ব্যায়াম আছে যা একেবারে শয্যাশায়ী বা চলাফেরায় অক্ষম না হলে সকলের পক্ষেই করা সম্ভব। এ লেখায় সেগুলোর ওপরেই জোর দেয়া হয়েছে।
৩. প্রতিদিন ৪৫ মিনিট জোরে হাঁটুন। একবারে না পারলে কয়েকবারে। এতে দেহের সমস্ত— অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নমনীয় থাকে ও মগজে প্রচুর অক্সিজেন ঢোকায় দুশ্চিন্তা কমে। হাঁটায় মহিলাদের ঋতু বন্ধজনিত হাড়ক্ষয় এবং অন্যান্য জটিলতাও রোধ হয়।
৪. অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নড়াচড়া এবং মালিশ করা ভাল ব্যায়াম। কারণ এতে রক্ত সঞ্চালন সহজ হওয়ায় চর্বি জমতে পারে না। এখানে দেহের গুরুত্বপূর্ণ কিছু স্থানে মালিশের উল্লেখ করা হল যার দ্বারা কাছের তো বটেই, দূরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গও উপকৃত হয়।
ক) যখনই সম্ভব পুরো মাথা মালিশ করলে মাথায় ভালোভাবে রক্ত চলাচল করে বলে মগজ তথা স্নায়ুকেন্দ্র ভাল থাকে ও সহজে চুল পড়ে না কিংবা পাকে না।
খ) প্রত্যহ ১০ মিনিট হাত ঘুরিয়ে ভেজা কপাল মালিশ করলে শারীরিক বৃদ্ধির জন্য দায়ী পিটুইটারি গ্রন্থি সতেজ থাকে।
গ) কানের সামনে-পেছনে মালিশ করলে এবং কানের লতিসহ কান মোচড়ালে পাকস্থলী ভাল থাকে।
ঘ) নাকের ডগা হাতের তালু দিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ডললে কিডনি সবল থাকে।
ঙ) শরীর ও মনের যে কোনো চাপের প্রথম শিকার হচ্ছে ঘাড়। কাজেই ঘাড় মালিশ করলে এবং মাথা ওপর-নিচ ও চারপাশে হেলিয়ে ঘোরালে ঘাড় নমনীয় থাকে।
চ) চোয়ালের নিচে গলার দু’পাশে মালিশ করলে থাইরয়েড ও টনসিল গ্রন্থি ভাল থাকে।
ছ) কনুইয়ের জোড়ায় হালকা চাপ দিয়ে এবং কনুই ও কব্জির মাঝখানে স্বাভাবিকভাবে মালিশ করলে হাত খুব সচল থাকে।
জ) নাভির চারপাশে মালিশ করলে দুশ্চিন্তা কমে এবং চিৎ হয়ে শুয়ে এটি করলে সহজে আন্ত্রিক গোলযোগ হয় না।
৫. শুয়ে পেটের ওপরে দু’হাত রেখে গভীরভাবে নাক দিয়ে শ্বাস নিয়ে পেট ফুলিয়ে মুখ দিয়ে ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়লে ফুসফুসের শক্তি বাড়ে এবং দিনে ২০ মিনিট এটি করলে ভাল ঘুম হয়। দেহের সার্বিক শক্তি বৃদ্ধি ও তারুণ্য ধরে রাখার জন্য একটানা যতক্ষণ পারা যায় মলদ্বার সংকোচন করা ও ছেড়ে দেয়া খুবই ভাল একটি ব্যায়াম।
৬. স্নায়ুতন্ত্রের এক বড় অংশ শেষ হয়েছে হাতের তালুতে ও পায়ের তলায়। এ জন্য হাততালি দিলে চোখের ছানি দূর হয়, উচ্চ রক্তচাপ কমে এবং স্মরণশক্তি বাড়ে। পায়ের তলা কর্কশ কোনো কিছু, যেমন ধুন্দুলের ছোবড়া কিংবা প্লাস্টিকের ব্রাশ দিয়ে দিনে মোট ২০ মিনিট ঘষলে দেহের সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গই উদ্দীপ্ত হয়, সতেজ থাকে এবং রোগাক্রান্ত হলেও ধীরে ধীরে সুস্থ হয়। বিশেষতঃ অনিদ্রা, হৃদরোগ ও স্ট্রোক প্রতিরোধে এবং মহিলাদের গর্ভাবস্থায় খুব উপকার পাওয়া যায়। পায়ের তলা ঘষার পর আঙ্গুলগুলো ওপর-নিচ করে টানুন।
৭. মুখ ধোয়ার সময়ে চোখে ২৫ বার পানির ঝাপটা দিন। নাক দিয়ে পানি যতটা পারা যায় টানুন ও ছাড়–ন। এতে সহজে সর্দি-কাশি হবে না। উপরন্তু এটি মাথাব্যথা, সাইনাসাইটিস ও মাইগ্রেইনে খুব উপকারী।
৮. আমাদের উপমহাদেশে উদ্ভাবিত যোগ ব্যায়াম আজ সারা পৃথিবীতে সমাদৃত, অথচ আমরা অনেকে এ বিষয়ে অজ্ঞ। তবে যোগ ব্যায়ামের ওপরে সুলিখিত অনেক বই আজকাল পাওয়া যায়। এসব পড়ে এবং সম্ভব হলে কোনো বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে সঠিক ধারণা পেতে পারেন। এ ব্যায়ামের মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে বিভিন্ন দেহভঙ্গিমা যাকে আসন বলা হয়। এক-এক আসনে দেহে এক-একভাবে চাপ পড়ে যা দেহের এক-এক অংশের উপকার সাধন করে। এসব আসনে কিছুক্ষণ থাকার পর একটি বিশেষ আসনে বিশ্রাম নিতে হয় যাকে বলে শবাসন।
৯. মনকে চিন্তামুক্ত রেখে বালিশ ছাড়া চিৎ হয়ে হাত-পা ছড়িয়ে শুয়ে শবাসন করতে হয়। সকালে ঘুম ভাঙলে লাফিয়ে বিছানা থেকে না উঠে কিছুক্ষণ শবাসন করুন। এতে শক্তি ও আত্মবিশ্বাস বাড়ে। প্রতিদিন আধঘন্টা শবাসন করলে মেরুদণ্ড ভাল থাকে, অনেক পরিশ্রম ও মানসিক চাপ সহ্য করা যায় এবং দেহের যে কোনো ব্যথা ও লুকানো সমস্যা দূর হয়। উল্লেখ্য, মেরুদণ্ড ও পাঁজরের হাড়ের মজ্জা থেকে বেশির ভাগ রক্ত উৎপন্ন হয়।
১০. সকালে নাস্তার আগে আরও দু’টি যোগাসন করুন : পবনমুক্তাসন ও ভুজঙ্গাসন। রাতে খাবার হজম হওয়ার সময়ে পেটে জমে ওঠা বায়ু যাবতীয় রোগের এক-তৃতীয়াংশের জন্য দায়ী। ওপরের দু’টি আসন পেট বায়ুমুক্ত করে ও হজমশক্তি বাড়ায়। পবনমুক্তাসন হাঁপানি, পিঠ ও কোমর ব্যথা এবং বহুমুত্র বা ডায়াবিটিস রুগীর জন্যও উপকারী। ভুজঙ্গাসনও সবরকম পিঠ ও কোমর ব্যথা, উচ্চ রক্তচাপ এবং স্ত্রীরোগের উপশম করে। খাওয়ার পরে বজ্রাসন ছাড়া আর কোনো যোগাসন করা যায় না। বজ্রাসন হজম ও সুনিদ্রার সহায়ক এবং কোমর থেকে পা পর্যন্ত দেহাংশ মজবুত রাখে।
১১. এবার খাদ্য প্রসঙ্গ (এটি খুব স্পর্শকাতর বিষয়, কারণ আমরা অনেকে বাঁচার জন্য না খেয়ে খাওয়ার জন্য বাঁচি।) :
ক) খাদ্যবিজ্ঞানীরা বলেন, “আপনি যা খান আপনি তা-ই।” আজকাল যে অনেক জটিল রোগ আমাদের পিছু নিয়েছে তার একটা বড় কারণ হল কৃত্রিম সার ও কীটনাশক বিষ ব্যবহারের এ যুগে খাদ্যের আদি বিশুদ্ধতা অনেকটাই হারিয়ে গিয়েছে। তার ওপরে রয়েছে নানা রকম প্রক্রিয়াজাত, ভেজাল মিশ্রিত ও রাসায়নিক উপায়ে সংরক্ষিত খাদ্য যা কোনোভাবেই খাঁটি ও টাটকা খাবারের সমকক্ষ হতে পারে না। ফ্রিজে দীর্ঘদিন রাখা খাদ্যও ক্ষতিকর। অথচ সুস্থ জীবকোষের জন্য বিশুদ্ধ রক্ত দরকার যা শুধুমাত্র খাঁটি ও টাটকা খাবার থেকেই তৈরী হয়।
খ) খাদ্যে একটি গুণগত উপাদান হচ্ছে আঁশ যা অন্ত্রনালী পরিষ্কার রাখে বলে ক্যান্সার প্রতিরোধ সহজ হয়। গমের আটায় আঁশ আছে, ময়দায় নেই। ময়দা একটি প্রক্রিয়াজাত মৃত খাদ্য যা কোষ্ঠকাঠিন্য ও ক্যান্সারের সহায়ক। এ রকম আরেকটি প্রক্রিয়াজাত খাদ্য হচ্ছে চিনি যা অনেক মারাত্মক রোগের কারণ রক্তের ঘনত্ব বাড়ায় এবং হাড় পর্যন্ত ক্ষয় করে। সুতরাং ময়দা ও চিনির তৈরী খাদ্য পুরোপুরি বর্জন করা ভাল। সেই সাথে তেল, লবণ ও মশলা নামমাত্র পরিমাণে ব্যবহার করা উচিত।
গ) প্রতিদিনের আহার্যের শতকরা ৪০ ভাগ শ্বেতসার, ১৫ ভাগ আমিষ এবং ৪৫ ভাগ শাকসবজি ও ফল দিয়ে পূরণ করুন। তবে শ্বেতসার জাতীয় খাদ্য যথা ভাত, রুটি, আলু ইত্যাদির সাথে ফল খাবেন না; অন্তত আধ ঘন্টা পার্থক্য রেখে খাবেন। শ্বেতসারের সাথে আমিষ জাতীয় খাদ্য যথা মাছ, মাংস, ডিম খাওয়াও ভাল নয়। সবজিই হচ্ছে একমাত্র খাদ্য যা আমিষ কিংবা শ্বেতসার - উভয়ের সাথেই খাওয়া যায়। দিনে অন্ততঃ আধ কেজি সবজি খান। সকাল শুরু করুন বেশ খানিকটা কাঁচা পেঁপে ও ফল খেয়ে। এতে যকৃৎ ভাল থাকবে। অংকুরিত গম, ছোলা, মুগ, সিমবীচি প্রভৃতি এবং আটা ও যবের তৈরী খাদ্য নাস্তা হিসেবে ভাল। শাক, সিম ও কপি রাতের বেলায় পেটে বায়ু তৈরী করে বলে এগুলো দিনে খাওয়া উচিত।
ঘ) আমিষের উৎস হিসেবে ডাল চমৎকার। বিশেষতঃ মুগ, মসুর ও মাসকলাই। তা ছাড়া ছোলার ডাল ও অংকুরিত ছোলা সব বয়সের মানবদেহে আমিষের ঘাটতি পূরণ করে এবং বহুমূত্রে ভাল। সেদ্ধ সয়াবিনে আছে এমন উপাদান যা বহুমূত্রে এবং পুরুষের প্রোস্টেট গ্রন্থি ও নারীর জরায়ু রক্ষায় উপকারী। প্রাণীজ আমিষের জন্য মাছ, মুরগীর মাংস ও ডিমের শ্বেতাংশ ভাল। লাল মাংস অর্থাৎ গরু-খাসির মাংস উপাদেয় হলেও ক্ষতিকর চর্বি থাকায় তা অনেক ভয়াবহ রোগের উৎস।
ঙ) সকালে দাঁত মাজার আগে কমপক্ষে ৬০০ গ্রাম পানি পান করার পর ৪৫ মিনিট পানাহার বন্ধ রাখুন। এতে কোষ্ঠ পরিষ্কার হয় ও অম্লতাসহ বহু জটিল রোগ সারে। দিনে ৮/১০ গ্লাস পানি পান করুন। মেয়েরা কখনও দাঁড়িয়ে পানি পান করবেন না, এতে জরায়ুর ক্ষতি হয়। স্বাস্থ্যকর পানীয় হিসেবে দুধ চিনি ছাড়া হালকা চা ভাল। ডাবের পানিও ভাল, তবে দিনে একটির বেশী নয়। গরমে প্রাণ জুড়াতে লেবুজলে মধু বা অল্প গুড় মিশিয়ে পান করুন এবং কোলাজাতীয় যাবতীয় কোমল পানীয় থেকে দূরে থাকুন। কারণ স্রেফ মুনাফালোভী ফর্মুলায় বাজারজাত এবং ঝলমলে বিজ্ঞাপনে দেখানো সুদৃশ্য বোতলে ভরা, প্রচুর চিনিগোলা ও সুস্বাদু এসব শরবত ডায়াবিটিসসহ অনেক বড় বড় রোগের কারণ। (এগুলোর সাথে এখন ফাস্ট ফুড যোগ হওয়ায় ফাস্ট ডেথ বা দ্রুত মৃত্যুর ভিত্তি তৈরী হয়েছে।)
চ) খাওয়ার পরিমাণ এবং সময়ও গুরুত্বপূর্ণ। কখনও পেট পুরে খাবেন না। প্রতিদিন একই সময়ে খাওয়া উচিত। রাতের খাওয়া আটটার মধ্যে চুকিয়ে ফেলা ভাল। কারণ বিকেল থেকে হজম শক্তি কমতে থাকে।
১২. রোগ প্রতিরোধক খাদ্য ও পানীয়ের একটি ছোট তালিকা : যব (ঙধঃং) বহুমূত্রে উপকারী, কোলেস্টেরল কমায় এবং ত্বক ও মলাশয় ভাল রাখে। গমাঙ্কুর (ডযবধঃমবৎস) ক্যান্সার প্রতিরোধক। দৈনিক কিছু পরিমাণ টক দই এবং সকালে পানি মিশিয়ে তৈরী করে ছেঁকে নেয়া এক গ্লাস সবুজ শাকের রস (বাঁধাকপি, কলমি, থানকুনি, লেটুস, তেলাকুচা, পাথরকুচি ইত্যাদি) সম্ভব হলে মধু, শুকনো আদা ও ত্রিফলা অর্থাৎ শুকনো আমলকি, হরিতকি ও বহেরার গুঁড়ো মিশিয়ে পান করলে শরীর সতেজ থাকে। একইভাবে পান করা ভাল কাঁচা পেঁপে, গাজর ও লাউয়ের মতো সবজি এবং কামরাঙা ও জাম্বুরার মতো ফলের রস। কাঁচা বেল ফালি করে রোদে শুকিয়ে তৈরী বেল শুঁট ভিজিয়ে বা সেদ্ধ করে পানিসহ নিয়মিত খেলে পেটের অনেক পুরোনো অসুখ, যেমন অজীর্ণ ও আমাশয় সেরে যায়। কলমি শাক ত্বক ভাল রাখে ও ঘা সারায়। কচু শাক রক্ত তৈরী ও পরিষ্কার করে। থানকুনি পাতা পেট, চোখ ও চুল ভাল রাখে। পুদিনা পাতা ফুসফুস, হৃদপিণ্ড ও পেট ভাল রাখে। আদা বাত ও মাথাব্যথা কমায় এবং হজম শক্তি বাড়ায়। আমলকি ভিটামিন ‘সি’-এর সবচেয়ে ভাল উৎস। তিল তারুণ্য ধরে রাখে। কাঁচা হলুদ ভাল রক্ত পরিষ্কারক। কালজিরাকে প্রাচীন কাল থেকেই বলা হয় হাজার রোগের ওষুধ। স্পিরুলিনা (ঝঢ়রৎঁষরহধ) শরীরের ক্ষয় পূরণ করে এবং উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবিটিসসহ অনেক রোগে উপকারী। রশুন-সেদ্ধ পানি সর্দি-কাশি প্রতিরোধ করে।
১৩. মুখের অপরিচ্ছন্নতা থেকে অনেক রোগ হয়। তাই রাতে শোয়ার আগে অবশ্যই দাঁত মাজুন এবং মোটামুটি শক্ত বিছানায় ঘুমানোর আগে শবাসন করতে করতে মনের যত দুশ্চিন্তা ঝেড়ে ফেলুন।
১৪. এত অল্প কথায় যা বলা হল তা স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বিশাল জ্ঞান ভাণ্ডারের একটি ক্ষুদ্র অংশ। তবে অনেকটা স্বচিকিৎসার দ্বারা রোগ প্রতিরোধের মাধ্যমে সুস্থ থাকার উদ্দেশ্যে সংক্ষেপে ও সহজে এ বিষয়ে আরও জানতে চাইলে চিন্ময় সেনগুপ্তের “বিনা ওষুধে রোগ নিরাময়/প্রিটিকিন প্রোগ্রাম” এবং দেবেন্দ্র ভোরার “আপনার স্বাস্থ্য আপনারই হাতে/অ্যাকিউপ্রেশার ও অন্যান্য প্রাকৃতিক চিকিৎসা” নামক বইগুলো পড়তে পারেন।
স্বাস্থ্য সকল সুখের মূল “স্বাস্থ্য সকল সুখের মূল” – তা নিশ্চয়ই তোমরা বড়দের কাছে শুনেছো। আসলে সুস্থতা ছাড়াও স্বাস্থ্যের আরেকটি অর্থ হচ্ছে সুখ। রোগ হলে সুখ চলে যায়, তাই রোগকে বলা হয় অসুখ। অসুখ যাতে না হয়, কিংবা হলেও কীভাবে ভাল হওয়া যায় এবং ভাল থাকা যায়, তা জানা ও মেনে চলা খুব দরকারী। বিশেষ করে তোমাদের মতো অল্প বয়সে। তা হলে সহজে তোমাদের অসুখ হবে না এবং নিরোগ দেহে দীর্ঘ জীবন লাভ করতে পারবে। স্বাস্থ্য রক্ষার নিয়ম ভালো করে জানার আগে একটা কথা মনে রাখবে যে, শরীর ও মন একসাথে জড়িত। কাজেই দুটোকেই গুরুত্ব দিতে হবে।
শরীরকে যদি যন্ত্রের সাথে তুলনা কর তাহলে দেখবে যন্ত্রের যেমন তেল, গ্যাস কিংবা বিদ্যুৎ দরকার হয়, শরীরেরও তেমনি দরকার খাদ্য, পানীয় ও বাতাস। বাতাস দূষণমুক্ত হলেই চলে, কিন্তু খাদ্য ও পানীয় নিয়ে অনেক কিছু ভাবার আছে।
প্রথম কথা, আমরা বাঁচার জন্য খাই না খাওয়ার জন্য বাঁচি? পেটুক বা ‘খাদক’রা অবশ্য বিশ্বাস করে খাওয়ার জন্য বাঁচা উচিত, তবে বেশীর ভাগ মানুষ মনে করে আমরা বাঁচার জন্য খাই। এটাই সত্য। খাওয়ার নিয়ম হচ্ছে ঠিক সময়ে ভাল মানের খাবার ও পানীয় উপযুক্ত পরিমাণে গ্রহণ করা। পেট কখনও বেশী ভরতে নেই, তাতে হজমের গণ্ডগোল হয়। প্রতিদিন একই সময়ে খাওয়া উচিত। রাতের খাওয়া আটটার মধ্যে সেরে ফেলা ভাল, কারণ বিকেল থেকে হজমশক্তি কমতে থাকে।
এবার দেখা যাক কী খেতে হবে। সহজে হজম হয় এমন খাবারই সব সময়ে খাওয়া উচিত। এতে হজমশক্তির ওপর বেশী চাপ পড়ে না বলে পেট খারাপ হয় না এবং খাবার থেকে পুষ্টি ভালভাবে শরীরে যোগ হয়।
অতিরিক্ত তেল, চর্বি, লবণ ও মশলাযুক্ত এবং ভাজা-পোড়া খাবার একেবারেই খাওয়া উচিত নয়। এতে জিনিশেরও অপচয়, স্বাস্থ্যও নষ্ট হয়।
খাবারের একটি উপকারী উপাদান হচ্ছে আঁশ যা অন্ত্র পরিষ্কার রাখে বলে সহজে পেটের ক্যান্সার হয় না। ক্যান্সার খুব মারাত্মক রোগ। খাবার বেশী ঘষে-মেজে কিংবা রাসায়নিক দ্রব্য মিশিয়ে সাদা, মসৃণ ও উপাদেয় করা হলে আঁশ চলে যায়। এ রকম খাবারকে মৃত খাদ্য বলা হয়। ময়দা ও সাদা চিনি মৃত খাদ্য। এগুলো দিয়ে তৈরী খাবার না খাওয়াই ভাল। কারণ ময়দায় যেমন ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে, তেমনি চিনি আমাদের হাড় পর্যন্ত ক্ষয় করে।
কিন্তু এটা ঠিক যে মিষ্টি জিনিশ খেতে মজা। কাজেই মিষ্টি কিছু খেতে হলে চিনি ছাড়া অন্য কোন উৎসের সন্ধান করা যেতে পারে। যেমন গুড় কিংবা মধু অল্প পরিমাণে খাওয়া চলে। সবচেয়ে ভাল হচ্ছে মিষ্টি ফলমূল। চিনির তৈরী পানীয় দ্রব্যও খারাপ। বিশেষ করে কোলাজাতীয় পানীয়গুলো। সেইসাথে ময়দা, তেল, মাখন ইত্যাদি দিয়ে তৈরী নানারকম মজাদার খাবার যেমন পরোটা, পাঁউরুটি, বিস্কুট, চিপস, নুডলস, সেমাই, কেইক, পেস্ট্রি, প্যাটিস, চানাচুর, বার্গার ও বিভিন্ন ‘ফাস্ট ফুড’ খাওয়ার অভ্যাস মারাত্মক সব রোগ, যেমন হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, বহুমূত্র বা ডায়াবিটিসের জন্ম দিচ্ছে। এশিয়ায় অল্পবয়েসীদের মধ্যে বহুমূত্র রোগের হার অনেক বেড়েছে এবং বেড়েই চলেছে শুধু এ কারণে।
মানুষ অভ্যাসের দাস। কাজেই সুস্বাদু অথচ খারাপ খাবার খাওয়া একটু কষ্ট করে ছেড়ে দিয়ে ভাল খাবার প্রথম প্রথম একটু কম স্বাদ লাগলেও খেয়ে অভ্যাস করা উচিত। অখাদ্য খাওয়ার অভ্যাস না করলে কষ্ট করে সে অভ্যাস বাদও দিতে হয় না। ধূমপান ও বিভিন্ন মাদকদ্রব্যের নেশার বেলায়ও এ কথা খাটে।
শতকরা হিসেবে খাবারের ৪০ ভাগ শ্বেতসার অর্থাৎ ভাত-রুটি, ১৫ ভাগ আমিষ অর্থাৎ মাছ-মাংস-ডিম-ডাল এবং বাকী ৪৫ ভাগ শাক-সবজি-ফলমূল হওয়া উচিত। গরু-খাসীর মাংসে চর্বি থাকে বলে তা বিপজ্জনক এবং বেশী খেলে বড় বড় রোগ হয়। দিনে অন্তত আধ কেজি সবজি খাওয়া ভাল। নাস্তায় কাঁচা পেঁপে বেশ কিছুটা থাকতে হবে। আর থাকতে হবে যে কোনো ধরনের ফল। প্রতিদিন পাঁচ রকম ফল ও ছয় রকম সবজি খাওয়া উচিত। সবজি তিন বেলাই খাওয়া যায়। তবে শাক, সিম ও কপি জাতীয় সবজি রাতে খেলে পেটে বায়ু জমে। খাওয়ার জন্য দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হচ্ছে সকাল। সকালের চেয়ে দুপুর এবং দুপুরের চেয়ে রাত কম গুরুত্বপূর্ণ। অনেকে এটা না জেনে নাস্তার চেয়ে দুপুরে এবং দুপুরের চেয়ে রাতে বেশী খেয়ে অসুস্থ হয়।
টাটকা খাবার থেকে বিশুদ্ধ রক্ত তৈরী হয় এবং বিশুদ্ধ রক্ত শরীরের জীবকোষগুলোকে সুস্থ রাখে। এ জন্য বাসী খাবার খাওয়া উচিত নয়। ফ্রিজেও খাবার বেশী সময় রাখলে এর গুণাগুণ ও স্বাদ নষ্ট হয়। শরীরের অধিকাংশ পানি বলে তা পূরণের জন্য দিনে ২ থেকে ৩ লিটার পানি পান করা উচিত। এর মধ্যে সকালে খালি পেটে ৬০০ গ্রাম (২ থেকে ৩ গ্লাস) পানি পান করার পর ৪৫ মিনিট পানাহার বন্ধ রাখলে সহজে পায়খানা হয় এবং অম্লতাসহ বহু জটিল রোগ সারে। ডাবের পানিও ভাল, তবে দিনে একটার বেশী নয়। দুধ-চিনি ছাড়া হালকা চা উপকারী।
খাদ্য ও পানীয় গ্রহণে বাছবিচার ছাড়াও শরীর ও মনকে সচল রাখার জন্য দরকার উপযুক্ত ব্যায়াম। ছোটদের বেলায় ব্যায়ামের গুরুত্ব আরও বেশী এ জন্য যে, এর মাধ্যমে তাদের শরীর গঠন ও ব্যক্তিত্বেরও বিকাশ ঘটে। ব্যায়ামের অনেক পদ্ধতি আছে। হাঁটা, দৌড়, ঝাঁপ ও এগুলোর ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন রকম খেলা এবং সাঁতার হচ্ছে এক ধরনের ব্যায়াম। আবার সাইকেল কিংবা নানা যন্ত্রপাতির সাহায্যে করা হয় আরেক ধরনের ব্যায়াম।
আরও এক রকম ব্যায়াম আছে যার জন্য দৌড়াদৌড়িও করতে হয় না, যন্ত্রপাতিও লাগে না, অথচ যা খুবই উপকারী। এর নাম যোগ ব্যায়াম। শরীরের বিভিন্ন অংশে পালাক্রমে চাপ সৃষ্টি এবং তা শিথিল করার মাধ্যমে এ ব্যায়াম সম্পন্ন হয়। এর নিয়ম-কানুন নিয়ে অনেক বই আছে, কেউ কেউ এ ব্যায়াম শিখিয়েও থাকেন। তোমরা বই পড়ে ও সুযোগ থাকলে কারো কাছ থেকে যোগ ব্যায়াম শিখে নেবে। এর সাথে অন্যান্য ব্যায়াম চালিয়ে গেলে লাভ ছাড়া ক্ষতি নেই। যেমন, হাঁটা। প্রতিদিন কমপক্ষে আধ ঘন্টা জোরে জোরে হাঁটলে শরীর নমনীয় থাকে ও মগজে প্রচুর অক্সিজেন ঢোকে বলে উদ্বেগ বা টেনশন কমে।
যোগ ব্যায়ামের বিভিন্ন দেহভঙ্গিমাকে বলা হয় আসন। এখানে চারটি অতি প্রয়োজনীয় আসনের বর্ণনা দেয়া হল যেগুলো সব বয়সের মানুষেরই করা উচিত।
Top of Page
শবাসন
প্রথমটি হচ্ছে শবাসন। শব বা লাশের মতো নির্জীব ভঙ্গিতে শুয়ে থাকার জন্য এ নামকরণ। এ আসনে বালিশ ছাড়া চিৎ হয়ে হাত-পা জন্য এ নামকরণ। এ আসনে বালিশ ছাড়া চিৎ হয়ে হাত-পা ছড়িয়ে মনকে চিন্তামুক্ত করে শুয়ে থাকতে হয়। এটি যে কোনো সময়ে করা যায় এবং দৈনিক আধ ঘন্টা করলে মেরুদণ্ড ভাল থাকে। মেরুদণ্ড ও পাঁজরের হাড়ের মজ্জা থেকে বেশীর ভাগ রক্ত তৈরী হয়। তা ছাড়া এ আসনটি করলে অনেক পরিশ্রম ও মানসিক চাপ সহ্য করা যায়, পড়া মনে থাকে এবং শরীরের যে কোনো ব্যথা ও লুকিয়ে থাকা সমস্যা দূর হয়। সকালে লাফ দিয়ে বিছানা ছেড়ে না উঠে কিছুক্ষণ এটি করলে শক্তি ও আত্মবিশ্বাস বাড়ে। তবে বিছানা যেন এত নরম না হয় যে চিৎ হয়ে শুলে মেরুদণ্ড বেঁকে যায়।
দ্বিতীয় ও তৃতীয় আসন দু’টি হচ্ছে পবনমুক্তাসন ও ভুজঙ্গাসন। এ দুটোও নাস্তার আগে কিংবা সন্ধ্যায় করা যায়। খাবার হজম হওয়ার সময়ে পেটে যে বায়ু জমে তা যাবতীয় রোগের চার ভাগের তিন ভাগের জন্য দায়ী।। এ আসন দু’টি করলে পেট বায়ুমুক্ত হয় ও হজমশক্তি বাড়ে। তা ছাড়া পবনমুক্তাসন বহুমূত্র ও হাঁপানী রোগে উপকারী। ভুজঙ্গাসন সব রকম পিঠ ও কোমর ব্যথা, উচ্চ রক্তচাপ এবং মেয়েলী অসুখের উপশম ঘটায়। চতুর্থ আসনটি বজ্রাসন, যা খাওয়ার পরপরই করতে হয়। এটি হজমে ও ঘুমে সহায়তা করে এবং মেরুদণ্ড ভাল রাখে। এর পরও শরীরের বিভিন্ন চাহিদা অনুযায়ী নানা রকম যোগাসন বা অন্যান্য ব্যায়াম করা যেতে পারে।
শবাসন ছাড়া ওপরের বাকী তিনটি আসনের বর্ণনা সংক্ষেপে নীচে দেয়া হল।
পবনমুক্তাসনঃ চিৎ হয়ে শুয়ে প্রথমে ডান পা হাঁটু থেকে ভাঁজ করে পেট ও বুকের ওপর রেখে দু’হাত দিয়ে চেপে ধর। শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে মনে মনে দশ থেকে ক্রমশঃ বাড়িয়ে তিরিশ পর্যন্ত গোন। তারপর ডান পা নামিয়ে বিশ্রাম নাও। আসনটি দু’বার করলে চলে।
পবনমুক্তাসন (ক)
পবনমুক্তাসন (খ)
বাঁ পা এবং পরে দু’পা চেপে ধরে সংখ্যা গোনা হয়ে গেলে এটাকে বলা হবে একবার। শবাসনে সমান সময় বিশ্রাম নিয়ে পরপর তিন বার এটা করা উচিত।
ভুজঙ্গাসনঃ পা দু’টি সোজা রেখে সটান উপুড় হয়ে শুয়ে পড়। দু’হাতের তালু উপুড় করে পাঁজরের কাছে দু’পাশে মেঝেতে রাখ। এবার পা থেকে কোমর পর্যন্ত মেঝেতে রেখে হাতের তালুর ওপর ভর দিয়ে মাথা যতদূর সম্ভব ওপরে তোল। এখন মাথা সাধ্যমতো পিছন দিকে বাঁকিয়ে ওপরের দিকে তাকাও। ২৫-৩০ সেকেণ্ড শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে এ অবস্থায় থাক। তারপর আস্তে আস্তে মাথা ও বুক নামিয়ে উপুড় হয়ে শুয়ে পড় ও শবাসন
ভুজঙ্গাসন
বজ্রাসনঃ হাঁটু ভাঁজ করে পা দু’টি পিছনদিকে মুড়ে নামাজে বসার মতো ভঙ্গিতে শিরদাঁড়া সোজা করে বস। হাতের তালু উপুড় করে দু’হাঁটুর ওপর রাখ। পাছা গোড়ালির ওপর থাকবে। প্রথম ক’দিন একটু অসুবিধা হতে পারে। তাই যতক্ষণ সহজভাবে পার ঐ অবস্থায় বস। একবারে বেশীক্ষণ না থাকতে পারলে শ্বাস স্বাভাবিক রেখে আসনটি তিন বার কর এবং শবাসনে বিশ্রাম নাও।
বজ্রাসন
শরীরের সাথে মনের যোগাযোগ রক্ষা করে স্নায়ু। সমস্ত স্নায়ু মিলে তৈরী হয়েছে স্নায়ুতন্ত্র যার একটা বড় অংশ শেষ হয়েছে পায়ের তলায়। সে জন্য পায়ের তলা কর্কশ কোনো কিছু, যেমন ধুন্দুলের ছাল বা প্লাস্টিকের ব্রাশ, দিয়ে হাত ঘুরিয়ে অনেকক্ষণ ঘষলে শরীর সতেজ থাকে এবং অসুস্থ শরীর ধীরে ধীরে সেরে ওঠে। কাজেই রোজ যখনই সম্ভব একেক পায়ের তলা অন্তত দশ মিনিট করে ঘষে আঙুলগুলো ওপর-নীচ করে টানবে।
মুখ ধোয়ার সময়ে চোখে অনেক বার পানির ঝাপটা দাও। নাক দিয়ে পানি যতোটা সম্ভব টেনে ছেড়ে দিলে সহজে সর্দি-কাশি কিংবা মাথা ব্যথা হবে না।
রাতে শোয়ার আগে অবশ্যই দাঁত মাজবে, কারণ মুখের অপরিচ্ছন্নতা থেকে অনেক রোগ হয়। তা ছাড়া যখনই কিছু খাবে বা পানি ছাড়া অন্য কিছু পান করবে, সাথে সাথে পানি দিয়ে ভাল করে কুলি করলে দাঁত ভাল থাকবে। আর জানো তো, দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা বোঝা বুদ্ধিমানের কাজ !৩

এলার্জি সারাতে এই অব্যর্থ ১০ উপায়

কোথাও ঘুরতে গিয়েছেন কিংবা রেস্তোরাঁয় সুস্বাদু খাবার খাচ্ছেন। হঠাৎ করেই গোটা শরীর ভরে গেল অ্যালার্জিতে। যা বেশ কষ্টদায়ক। খুব সাধারণ একটা সমস্যা থেকে অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় অনেকসময়। জীবনযাপন পদ্ধতি, দূষণ, খাওয়াদাওয়া অ্যালার্জির অন্যতম কারণ। একবার শুরু হলে কমে না সহজে। অ্যালার্জি শরীরের একটি অ্যাবনর্মাল রিঅ্যাকশন। অ্যালার্জির উৎস থেকে দূরে থাকা সমস্যা মুক্তির একমাত্র পথ নয়। একগাদা ট্যাবলেট খেলেও এ রোগ সারে না। তবে হোমিওপ্যাথিতে অ্যালার্জির চিকিৎসা খুবই সফল। নিয়মিত ওষুধ খেলেই অ্যালার্জি সম্পূর্ণ সারিয়ে তোলা যায়।

খাবারে অ্যালার্জি : বেশির ভাগ প্রোটিন জাতীয় খাবার, ডিম, চিংড়ি, বেগুন, ওল থেকেই অ্যালার্জি হয়। মাংস, ভাজা খাবার খেলেও অ্যালার্জি হয়ে থাকে।

উপসর্গ : খাবারে অ্যালার্জি থাকলে সেই খাবার খাওয়ার পরই ব়্যাশ বের হয়। ওষুধ থেকে অ্যালার্জিতেও এই সমস্যা হয়। দীর্ঘদিন এই ব়্যাশ থাকলে তা থেকে একজিমা হয়ে যেতে পারে। অনেক সময় খাবার হজম হয় না। ডায়ারিয়া, বমিও হতে পারে।

কখন কোন ওষুধ : ত্বকে ব়্যাশ, বমি, ডায়ারিয়া হলে খেতে হবে Ars.Alb 30। দু-তিন দিন ধরে দিনে তিনবার খেতে হবে। যেকোনো খাবার থেকেই অ্যালার্জি হলে এই ওষুধ কাজ করে। পুরোপুরি ঠিক করতে দীর্ঘ চিকিৎসার প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে খেতে হবে Cal Carb অথবা Thuja।

ধুলোয় অ্যালার্জি : হাওয়ায় মিশে থাকা ধূলিকণা, ধূমপান, বিভিন্ন সুগন্ধী, রান্নার গন্ধ, ফুলের রেণু থেকে অ্যালার্জি হয়। এ ক্ষেত্রে অ্যালার্জি হলে ত্বকে ব়্যাশ বের হয়। বায়ুদূষণ থেকে অ্যালার্জিক রাইনাইটিস হয়। অ্যালার্জিক রাইনাইটিস বৃদ্ধি পেলে ব্রঙ্কাইটিসের আকার নেয়। বাচ্চাদের এই সমস্যা বেশি হয়। বিশেষ করে যাদের রোগপ্রতিরোধ শক্তি কম হলে ও সিজারিয়ান শিশুর এই সমস্যা সবচেয়ে বেশি হয়।

চিকিৎসা : ফুল বা যেকোনো চড়া গন্ধ থেকে অ্যালার্জি হলে খেতে হবে Sang 30। সারাদিনে তিন-চারবার দু-তিন দিন ধরে খেলেই উপকার। খাবারের গন্ধ থেকে বমি হলে খান Sep, Colch। ধুলো, সিগারেটের ধোঁয়া থেকে অ্যালার্জি হলে খান Poth, House Dust, Blata.o.। সারা জীবনের মতো ডাস্ট অ্যালার্জি থেকে মুক্তি পেতে খেতে হবে Sulph, Tub।

ড্রাই এয়ার অ্যালার্জি : গরমকালে লু এর দাপটে বিভিন্ন ধরনের অ্যালার্জির প্রবণতা বাড়ে। সূর্যের রশ্মি থেকে ত্বকে অ্যালার্জি হয়। ত্বক পু্ড়ে কালো হয়ে যায়। ব়্যাশ বের হয়, ত্বক জ্বালা করে। এ ক্ষেত্রে খান Canth, Sol। ঘামাচির সমস্যা থেকে বাঁচতে খান Sygiyz। লু লেগে জ্বর হলে সবচেয়ে উপকারী ওষুধ Nat.Carb ও Belladonna।

শীত-বর্ষার অ্যালার্জি : বর্ষার স্যাঁতস্যাতে আবহাওয়ায় বা শীতকালে ঠাণ্ডা হাওয়া থেকেও অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশন হয়। এ ক্ষেত্রে ব়্যাশ, সর্দি, কাশি, জ্বর হয়। ঠাণ্ডা হাওয়া থেকে এমন হলে খেতে হবে Acon। বর্ষায় জলীয় আবহাওয়ায় (বৃষ্টিতে ভিজে গেলে, গায়ে ঘাম বসলে) অ্যালার্জি হলে সবচেয়ে উপকারী..

গ্যাস্ট্রিক সমস্যা সমাধানের ৮টি দারুণ উপায়

এক মাস রোজার পর হঠাৎ করে পোলাও, বিরিয়ানি, জর্দা, সেমাই ইত্যাদি ভারী খাবার খাওয়ায় গ্যাস বা অ্যাসিডিটির সমস্যা ব্যাপকভাবে দেখা দেয় ঈদের সময়টাতে। তাই বলে কি ঈদের খাওয়া দাওয়া বন্ধ থাকবে? তাও কি সম্ভব! খাওয়া দাওয়ার পাশাপাশি যদি গ্যাস্টিক থেকে রক্ষার ঘরোয়া কিছু নিয়ম পালন করেন তবে গ্যাস্টিকের সমস্যা আপনার ঈদের আনন্দকে মাটি করতে পারবে না। আর ডাক্তারের কাছেও দৌড়াতে হবে না যখন তখন। আসুন তাহলে জেনে নিই গ্যাস্ট্রিক থেকে মুক্তির কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি।
১। দারুচিনি
দারুচিনি হজমশক্তির জন্য অনেক ভাল একটি মশলা। এটি প্রাকৃতিক এনটাসিড হিসাবে কাজ করে থাকে এবং পেটের গ্যাস দূর করতে সাহায্য করে। এক কাপ পানিতে আধা চাচামচ দারুদিনি গুঁড়া মেশান। কয়েক মিনিট সেটি সিদ্ধ করুন। এটি দিনে ২/৩ বার পান করতে পারেন। আপনি চাইলে স্যুপ বা সালাদের সাথেও দারুচিনির গুঁড়া মিশিয়ে খেতে পারেন।
২। পুদিনা পাতা
পুদিনা পাতা আপনার অম্লতা, গ্যাস ও বমি বমি ভাব থেকে সাথে সাথে মুক্তি দেবে। গ্যাস্টিকের ব্যথা যখন অল্প তখন থেকে অল্প কিছু পুদিনা পাতা মুখে নিয়ে ভাল করে চিবুতে থাকুন। দেখবেন কিছুক্ষণের মধ্যে আপনার ব্যাথা অনেকটা কমে গেছে। এছাড়া এক কাপ পানিতে কয়েকটি পুদিনা পাতা দিয়ে সিদ্ধ করুন। এটি দিনে ২/৩ বার পান করতে পারেন। স্বাদ বাড়াতে এতে মধু যোগ করতে পারেন তবে দুধ দিবেন না।
৩। লবঙ্গ
লবঙ্গ অম্লতা উপশম এবং গ্যাস দূর করতে সাহায্য করে। কয়েকটি লবঙ্গ এবং দারুচিনি গুঁড়া করে মিশিয়ে নিন। এটি আপনি আপনার প্রতিদিনের খাবারের সাথে খেতে পারেন। লবঙ্গ গ্যাসের সমস্যা দূর করার সাথে সাথে আপনার নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধও দুর করে থাকে।
৪। আদা
পেটে গ্যাসের সমস্যা দূর করার জন্য একটি অনন্য এবং সহজ উপাদান হিসেবে ‘আদা’ অত্যন্ত কার্যকরী। এটি বদ হজমও দূর করে থাকে। প্রতিদিন খাবার পর এক টুকরা আদা চিবিয়ে খেলে পেটে আর গ্যাসের সম্যসা করবে না। এছাড়া আদা চা,আদা পানি পান ও গ্যাসের সমস্যা দূর করে থাকে।
৫। রসুন
গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর করার জন্য রসুন খুবই কার্যকরী উপাদান। রসুন, কালো মরিচ বীজ, ধনে বীজ এবং জিরা বীজ একসাথে মিশ্রিত করে কয়েক মিনিট উত্তাপে ফুটিয়ে সিদ্ধ করতে হবে , সিদ্ধ করার পর এই মিশ্রন থেকে যে নির্যাস বের হবে সেটা ছেঁকে আলাদা করতে হবে। তারপর সাধারণ তাপমাত্রায় এই নির্যাস ঠান্ডা করে দৈনিক দুই বার পান করতে হবে।
৬। ভেষজ চা
পুদিনা পাতা,ক্যামোমিল,রাসবেরি এবং ব্ল্যাকবেরি একসাথে মিশিয়ে তৈরী কর়া ভেষজ চা হজম প্রক্রিয়া অনেকবেশি সাহায্য করে ,আর হজম প্রক্রিয়া ঠিক থাকলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা অনেকাংশে কমে যায়।
৭। প্রচুর পরিমাণে পানি পান
প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। এটি শুধু আপনার গ্যাস্টিকের সমস্যা কমাবে না আরো অনেক রোগের হাত থেকে মুক্তি দেবে। প্রতিদিন কমপক্ষে ছয় থেকে আট গ্লাস পানি পান করার চেষ্টা করুন।
৮। আলু
আলু গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে থাকে।খাবার আগে তিন বেলা আলু থেকে রস বের করে খেতে হবে এবং এতে খুব দ্রুত ফলাফল পাওয়া যায়।

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটি??? কিছু পরামর্শ...শুধুই আপনার জন্য

গ্যাস্ট্রিক আমাদের দেশের একটা কমন রোগ। আসলে এটা কোন রোগ না। এটা সাধারণত কিছু বদভ্যাসের কারণে হয়ে থাকে। অন্য যেকোন রোগের চেয়েও এটা মাঝে মাঝে খারাপ আকার ধারণ করতে পারে। কিছু নিয়ম কানুন মেনে চললে সহজেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। একদিনে হয়তো পুরোপুরি নিরাময় হবেনা। কিন্তু ক্রমাগত অভ্যাস করে গেলে আপনি একদিন পুরোপুরি এসিডিটি মুক্ত থাকবেন ইনশা-আল্লাহ।
আসুন দেখে নেই নিয়মগুলো কি কি...
১। আজ যে সময় খাবার খেলেন কালও ঠিক সেই সময়েই খাওয়ার অভ্যাস করুন।এভাবে প্রতিদিন প্রায় একই সময়ে দিনের ৩ বেলার খাবার গ্রহণ করুন।
২। তৈলাক্ত খাবার যথাসম্ভব বর্জন করুন। যদি তা নাও পারেন সমস্যা নেই। তবে তৈলাক্ত খাবার খাওয়ার আগে বা পরে পানি খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। তৈলাক্ত খাবার খাবার অন্তত ৩০ মিনিট পরে এক গ্লাস পানি খান।
৩। মাংস,ডিম,বিরিয়ানী,মোঘলাই,চাইনিজ খাবার যাই খান না কেন সেটা দুপুরের মেনুতে অন্তর্ভুক্ত করুন। রাতের খাবারটি যেন হয় হালকা টাইপের। শাক-সবজি,ছোট মাছ এসব দিয়ে রাতের মেনু সাজান।
৪। যদি সাইনাসের সমস্যা না থাকে তবে অবশ্যই ঠান্ডা পানি খান। খুব বেশী ঠান্ডা পানি যেন না হয়। তবে গরম পানি না খাওয়াটাই মঙ্গলজনক।
৫। ভাত খাওয়ার আগে এক বা দু গ্লাস পানি খেয়ে নিন। তারপরে ভাত খান। খাওয়ার পরপরই অনেক বেশী পানি খাওয়ার প্রবণতা আমাদের মাঝে বেশী করে দেখা যায়। এটা বর্জন করুন। ভাত খাওয়ার অন্তত ৩০ মিনিট পরে পানি খান।
৬। প্রতিদিন খাবারের মেনুতে অন্তত একটি হলেও যেন ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার থাকে তা নিশ্চিত করুন। সেটা ল্যাক্সেটিভ হিসেবে কাজ করবে। অর্থাৎ কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করবে। এতে গ্যাস তৈরী হবেনা। যেমন-শাক-সবজি,কলা,ঢেড়শ ইত্যাদি।
৭। সরাসরি গ্লুকোজ অর্থাৎ চিনি যথাসম্ভব কম খান। তাও যদি খেতে হয় চেস্টা করুন গুড় দিয়ে চিনির অভাবটা পুরন করতে।
৮। বাজারে পাওয়া যায় দেশে তৈরী সমস্ত জুস যথাসম্ভব বর্জন করুন।
৯। দেশে তৈরী আইস্ক্রীম অনেকে রাতে খাওয়ার পরে খেতে পছন্দ করেন। এটা বাদ দেয়াটাই মঙ্গল।
১০। দিনে কিংবা রাতে- খাওয়ার পরপরই অনেকে শুয়ে পরতে পছন্দ করেন। এটা বর্জন করুন। কিছুক্ষন আস্তে আস্তে হাঁটাচলা করতে পারেন অথবা বসে থাকতে পারেন সোজা হয়ে। অন্তত ৩০ মিনিট পর শুতে যান।
নিয়মগুলো মানার চেস্টা করুন। আশা করি কিছুদিনের মধ্যেই আপনার এসিডিটির সমস্যা দূর হয়ে যাবে।

৩০ সেকেন্ডে ঘুম আসার ৫ জাদুকরি সহজ উপায়!

ঘুম নিয়ে মানুষের সমস্যার কোন কমতি নেই। বেশীরভাগ মানুষ সময়মত ঘুমাতে পারেন না। বিছানায় শোবার পরও ঘুম আসার কোন খবর থাকে না।
যার ফলে দেখা যায় বিভিন্ন ধরণের শারীরিক ও মানসিক সমস্যা। যাই হোক, আমাদের সকলের পর্যাপ্ত পরিমাণ ও সময়মত ঘুমের প্রয়োজন রয়েছে। এর জন্য কিছু সহজ পদ্ধতি অবলম্বন করলেই নিদ্রাজনিত সমস্যা দূর হতে পারে। আসুন জেনে নেয়া যাক, সেই জাদুকরি উপায়-
১. ঘুমাতে যাওয়ার পূর্বে বই পড়ুন:
ঘুম আনয়নের সব থেকে সহজ উপায় হল বিছানায় যাবার জন্য সম্পূর্ণ তৈরি হয়ে বাতি নিভিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ুন। তারপর বিছানার পাশে হালকা আলোর বাতিতে বই পড়ুন। কোন মজাদার বই পড়ার দরকার নেই, এমন কোন বই পড়বেন যাতে আপনার বিরক্তিবোধ হয় এবং আপনি ঘুম অনুভব করেন। বই পড়ার কারনে আপনি ইলেক্ট্রনিক পণ্য অর্থাৎ মোবাইল, ট্যাব, টিভি ইত্যাদি হতে দূরে থাকবেন। যার ফলে আপনার ঘুমের সমস্যা রোধ হবে। তাই, আগামীবার থেকে আপনার বিছানায় একটি বই রাখবেন।
২. বিছানায় যাবার সময় নির্ধারণ করুন:
একটি নির্ধারিত সময়ে অবশ্যই আপনার বিছানায় যাবার জন্য নিজেকে বাধ্য করবেন। এর ফলে আপনার ঘুমের সমস্যায় যথেষ্ট উপকার পাবেন। এর ফলে শুধু আপনার শারীরিক উন্নতি নয়, মানসিকভাবেও অনেক সুফল ভোগ করবেন। একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাবার অভ্যাস করলে সেই সময়ে প্রাকৃতিকভাবেই ঝিম ভাব চলে আসবে। তখন আপনার ঘুমাতে যেতে হবে। ছোট শিশুদের ক্ষেত্রেও একই। সময়মত ও একই সময়ে ঘুমানোর কারনে মস্তিষ্কের সেরোটোনিন ও মিলাটোনিন ঠিকমত কাজ করতে পারে। যার ফলে আপনার সার্কাডিয়ান তালের সামঞ্জস্য বজায় থাকে। তাহলে, এটা বলা বাহুল্য যে ভালোভাবে ঘুমের জন্য সঠিক সময়ে ঘুমানো অপরিহার্য।
৩. স্বাস্থ্যকর ডায়েট পদ্ধতি অনুসরণ করুন:
সবকিছুর ক্ষেত্রে সকলেই স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার পরামর্শ প্রদান করেন। আপনি শুনে অবাক হতে পারেন যে, ভালো ডায়েটের সাথে খাবারের সম্পর্ক রয়েছে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, পর্যাপ্ত পরিমাণ শাকসবজি ও ফলমূল খাবার ফলে শরীরের পালস এর গতি বৃদ্ধি পায়, যার ফলে ঘুমের সমস্যা দূর হয়। খাবারের ফলে শরীরের ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম এবং অন্যান্য অপরিহার্য খনিজ এর চাহিদা পূরণ হয়। এছাড়া সঠিক ডায়েটের কারনে শরীরের ট্রিপটোফেন এর পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। যা সঠিক সময়ে ঘুম আসার সাথে সাথে সঠিক সময়ে জাগ্রত হবার জন্য সাহায্য করে।
৪. আপনার কক্ষ ঠাণ্ডা রাখুন:
ঘুমের সময় আপনার শয়ন কক্ষটি খুব শান্ত রাখার চেষ্টা করুন। বছরের পর বছর বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুমানোর সময় মানুষের শরীরের তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পায়। তাই, যতটা সম্ভব ঘরের তাপমাত্রা ঠাণ্ডা রাখলে ঘুম ভালো হয়। তবে কক্ষের তাপমাত্রা বেশী ঠাণ্ডা করার প্রয়োজন নেই। পাখা চালিয়ে ঘুমালে বা একটি জানালা খুলে রাখলেই যথেষ্ট। দেখবেন, খুব তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়েছেন।
৫. গরম দুধ পান করুন:
আগেরদিনের মানুষেরা বিশ্বাস করত ঘুমের আগে গরম দুধ পান করলে ঘুম ভালো হয়। তাদের এই বিশ্বাস এখন বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, ঘুমাতে যাবার পূর্বে গরম দুধ পান করার ফলে মানসিক প্রশান্তি বিরাজ করে। এতে সারারাতের ঘুম ভালো হয়। শরীরের ট্রিপটোফেন এর পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। যার ফলে ঘুমের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।
এই ৫টি কাজ অভ্যাসে পরিবর্তন করলে প্রতিদিন রাতে বিছানায় যাবার মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে ঘুম চলে আসবে। তাই যাদের ঘুম নিয়ে সমস্যা রয়েছে, তারা এ পদ্ধতিগুলো চেষ্টা করে দেখতে পারেন।

ঘুম আসার প্রাকৃতিক ১০ উপায়

ঘুম শরীরকে চাঙ্গা করে পরবর্তী দিনের কাজের জন্য আমাদের তৈরি করে। অনেকেই রয়েছেন যাঁরা ঘুম না হওয়ার সমস্যায় ভোগেন। এই সমস্যা অবসাদ ও ক্লান্তি তৈরি করে কর্মোদ্দম কমিয়ে দেয়। যাঁরা এ ধরনের সমস্যায় ভোগেন, তাঁরা হয়তো বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ভরসা করেন ঘুমের ওষুধের ওপর। তবে বিশেষজ্ঞরা বলেন, বেশি ঘুমের ওষুধ খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তাহলে ওষুধকে এড়িয়ে কীভাবে ঘুম আসতে পারে? ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া বাতলে দিয়েছে ঘুম আসার কিছু প্রাকৃতিক উপায়ের কথা।
১. বিছানা থেকে উঠে যান
অনেকেই আছেন যাঁরা ঘুম না এলেও ঘুম আসার জন্য বিছানার এপাশ ওপাশ করতে থাকেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই খেলা বন্ধ করুন এবং বিছানা থেকে উঠে যান। ২০, ৩০, ৪০ মিনিট- যতক্ষণ না ঘুম আসে বিছানায় আসবেন না। এই ৩০ থেকে ৬০ মিনিট এমন কিছু করুন যা আপনাকে ক্লান্ত করে দেবে। এই ক্লান্তি ঘুম আসতে সাহায্য করবে। তবে খুব বেশি আলোর মধ্যে কিছু করতে যাবেন না। তাহলে হিতে বিপরীত হয়ে ঘুম একেবারেই উধাও হয়ে যেতে পারে।
২. ক্যাফেইন এড়িয়ে যান
ক্যাফেইন-জাতীয় খাবার ঘুম তাড়িয়ে দেয়। তাই ঘুমের অন্তত পাঁচ ঘণ্টা আগে শেষ চা বা কফিটুকু পান করুন। এমনকি যাঁদের ঘুম ঠিকমতো না হওয়ার সমস্যা রয়েছে, তাঁদের দুপুরের খাবারের পর কফি না খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
৩. গরম পানিতে গোসল
ঘুম না আসার সমস্যা হলে রাতে বিছানায় যাওয়ার আগে উষ্ণ গরম পানি দিয়ে গোসল করুন। এই পদ্ধতি শরীরকে শিথিল করে ঘুম আসতে সাহায্য করবে।
৪. ধ্যান
একটি চমৎকার মেডিটেশন বা ধ্যান ঘুম আসতে বেশ কার্যকর। ২০০৯ সালের একটি গবেষণায় বলা হয়, ধ্যান ইনসমনিয়া বা ঘুমের সমস্যার সঙ্গে লড়াই করে। ধ্যান মন ও শরীকে শিথিল করে। এ ছাড়া ধ্যানের সময় গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম ঘুম আসতে বেশ সাহায্য করে।
৫. শারীরিক পরিশ্রম
শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম ঘুম আসতে কার্যকর প্রাকৃতিক ওষুধ। বিশেষজ্ঞরা বলেন, যাঁরা শারীরিক পরিশ্রম করেন, তাঁদের ঘুম ভালো আসে। তাই ভালো ঘুম হতে নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম করুন।
৬. যোগব্যায়াম
সারা বিশ্বেই যোগব্যায়াম করা ভালো ঘুম হওয়ার জন্য একটি প্রাকৃতিক উপায়ের নাম। যোগব্যায়াম শরীরকে শিথিল রাখতে সাহায্য করে এবং ভালো ঘুম হতে সাহায্য করে।
৭. অ্যারোমা থেরাপি
অ্যারোমা থেরাপির মধ্যে যে প্রয়োজনীয় ভেষজ তেল, বাথ স্ক্রার, চোখের মাস্ক ইত্যাদি ব্যবহার করা হয় সেগুলো ভালো ঘুম হতে উপকার করে। ২০০৫ সালের একটি গবেষণায় বলা হয়, ভেষজ তেলের ঘ্রাণ গভীর ঘুমের জন্য বেশ উপকারী। তাই যাঁরা ঘুম না হওয়ার সমস্যায় ভুগছেন, তাঁরা পার্লারে গিয়ে অ্যারোমা থেরাপি নিয়ে দেখতে পারেন।
৮. শোবার ঘর
ভালো ঘুমের জন্য শোবার ঘরও হওয়া চাই উপযুক্ত। আপনি হয়তো এমন ঘরে ঘুমালেন, যার আশপাশে অনেক শব্দ হয় বা প্রচুর আলো এসে পড়ে। এগুলো ঘুমকে ব্যাহত করে। তাই শোবার ঘরের কিছু পরিবর্তন জরুরি। একটু মন দিয়ে ভাবুন কী পরিবর্তন করলে আপনার শোবার ঘরটি ঘুমের উপযুক্ত হবে? সেটা হতে পারে ম্যাট্রেসের পরিবর্তন বা জানালায় ভারী পর্দা লাগানো। এ ছাড়া ভালো ঘুমের জন্য টিভি, কম্পিউটার এসব জিনিসগুলোও শোবার ঘর থেকে দূরে রাখুন। কেননা এগুলোও ভালো ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায়।
৯. ভেষজ চা
ঘুমের আগে চা-কফি একদম খাবেন না, তবে ক্যাফেইন ছাড়া ভেষজ চা খেতে পারেন। যেমন : ভ্যালেরিয়ান অথবা ক্যামোমিল চা ইত্যা্দি ঘুমের আগে খেতে পারেন। এগুলো ঘুম ভালো করতে সাহায্য করবে।
১০. প্রোগ্রেসিভ মাসেল রিলাক্সেন ব্যায়াম
১৯১৫ সালে আবিষ্কার হওয়া ব্যায়ামের এই পদ্ধতি এখনো পুরোনো হয়নি। প্রোগ্রেসিভ মাসেল রিলাক্সেন ব্যায়াম এমন একধরনের ব্যায়াম যা পেশিকে শিথিল করে। এটি অবসন্নতা দূর করে ঘুমের পরিমাণ বাড়ায়। তাই ফিটনেস প্রশিক্ষকের পরামর্শ নিয়ে এ ধরনের ব্যায়ামও শিখতে পারেন।

ঘুম ভালোভাবে না হওয়ার ৯ কারণ

মাঝরাতে কি ঘুম ভেঙে যায়? সকালে ঘুম থেকে উঠে কি ক্লান্ত লাগে? বা সারারাত ঘুম আসার জন্য কি লড়াই করতে হয়? যদি উত্তর হ্যাঁ হয়, তাহলে সমস্যা কিন্তু একটু জটিল।
ঘুম না হওয়া একটি বড় ধরনের সমস্যা। কম ঘুম মেজাজের ওপর প্রভাব ফেলে। সারা দিনের কর্মক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। ভালোভাবে ঘুম না হলে অবসন্ন ভাব, উদ্বেগ, মনোযোগের অভাব, বিষণ্ণতা ইত্যাদি সমস্যা হয়। এ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি ঘুমের সমস্যা হলে ওজনাধিক্য, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে।
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের মতে, যেসব বাচ্চা স্কুলে যায় তাদের ১০ ঘণ্টা ঘুমানো জরুরি। বয়ঃসন্ধিবেলায় নয় থেকে ১০ ঘণ্টা ঘুমাতে হবে। আর প্রাপ্ত বয়স্কদের ঘুমাতে হবে সাত থেকে আট ঘণ্টা।
ঘুম ভালোভাবে না হওয়ার জন্য কিছু কারণ রয়েছে। স্বাস্থ্য বিষয়ক ওয়েবসাইট টপ টেন হোম রেমেডি জানিয়েছে ঘুম না হওয়ার কিছু কারণের কথা। দেখুন তো আপনার সাথে মিলে যায় কি না?
১. মানসিক চাপ
মানসিক চাপ ঘুম না হওয়ার জন্য দায়ী। মাত্রাতিরিক্ত মানসিক চাপ ঘুমের ক্ষতি করে। এটি প্রাথমিক ইনসোমনিয়া তৈরি করে।
তাই মানসিক চাপ কমাতে ঘুমের আগে, হালকা ধাঁচের বই পড়ুন, হালকা ধাঁচের গান শুনুন। ধ্যান করুন বা গভীর শ্বাস প্রশ্বাসের ব্যায়াম করুন। ঘুম ভালো হবে।
২. ইলেকট্রনিক জিনিসের ব্যবহার
বর্তমান সমাজে ঘুম না হওয়ার একটি বড় কারণ হলো ইলেকট্রনিক জিনিসের ব্যবহার। এগুলো ঘুম তৈরির হরমোন মেলাটোনিনের নিঃসরণ কমিয়ে দেয়। ঘুমের আগে টিভি, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, যেকোনো স্ক্রিন দেখা মস্তিষ্ককে উত্তেজিত করে; নিরবচ্ছিন্ন ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায়।
৩. ঘুমের আগে ধূমপান
ঘুমের আগে ধূমপান করা ঘুমকে ভীষণ ব্যহত করে। মাথাকে শিথিল রাখার জন্য অনেকে ধূমপান করে। তবে এতে লাভ নয়, উল্টো ক্ষতি হয়। গবেষণায় বলা হয়, এটি ঘুমের ওপর বাজে প্রভাব ফেলে। ধূমপান ঘুম কমিয়ে দেয়। তাই ধূমপান ছেড়ে দিন, ঘুম ভালো হবে।
৪. ব্যায়াম না করা
ব্যায়াম করা ভালোভাবে ঘুম হতে সহায়তা করে। এটি না করলে ঘুমে অসুবিধা হয়। গবেষণায় বলা হয়, ব্যায়াম করলে ঘুমের মান ভালো হয়। এটি দীর্ঘমেয়াদি ঘুমের সমস্যা কমাতে কাজ করে। তাই নিয়মিত ব্যায়াম করুন।
৫. ঘুমের আগে অতিরিক্ত মদ্যপান
ঘুমের আগে অতিরিক্ত মদ্যপান ঘুমের ক্ষতি করে। এটি ঘুমচক্রের ব্যাঘাত ঘটায়। এতে পরের দিন সকালে অবসন্ন ও ক্লান্ত লাগে।
৬. ঘুমের আগে কফি পান
অনেকেরই অভ্যাস রয়েছে রাতে খাবারের পর কফি পান করা। ভালো ঘুমের জন্য এই অভ্যাস অবশ্যই ছাড়তে হবে। ঘুমের আগে ক্যাফেইন জাতীয় বেভারেজ গ্রহণ (যেমন : চা, সোডা) ঘুমকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই দিনের বেলা কফি পান করুন, রাতে নয়।
৭. রাতে উচ্চ চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া
রাতে উচ্চ চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণ কিন্তু ভালো নয়। বিভিন্ন গবেষণায় বলা হয়, উচ্চ চর্বি জাতীয় খাবার বেশি খাওয়া এবং কম আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া ঘুমের ক্ষতি করে। তাই রাতের খাবারে বেশি আঁশ রাখুন এবং চর্বি জাতীয় খাবার ছাড়ুন। আঁশযুক্ত খাবারের জন্য সবজি খান।
৮. শোবার ঘরে উজ্জ্বল আলো
ভালো ঘুমের জন্য অন্ধকার শোবার ঘর ভালো। আলো মেলাটোনিন হরমোন উৎপাদন ব্যহত করে। এতে ঘুম কম হয়। এমনকি মোবাইল ফোনের আলো বা হালকা আলোও ঘুমের ক্ষতি করে।
তাই ঘুমের আগে অবশ্যই শোবার ঘরের বাতি ভালোভাবে বন্ধ করে নিন। জানালা দিয়ে বেশি আলো এলে ভারি পর্দা ব্যবহার করতে পারেন।
৯. হরমোনের পরিবর্তন
অনেক সময় হরমোনের পরিবর্তনের কারণেও ঘুমে সমস্যা হয়। নারীরা এই সমস্যায় বেশি ভোগেন। ঋুতস্রাব, গর্ভাবস্থা, মেনোপজ ইত্যাদি অবস্থায় নারীদের ঘুম ব্যহত হয়।
রেহাই পেতে ঘুমের কয়েক ঘণ্টা আগে হালকা গরম পানি দিয়ে গোসল ঘুম ভালো হতে সাহায্য করে। তবে ঠান্ডার সমস্যা থাকলে গোসলে সতর্ক হোন।

ঘুম না হলে করণীয় ১০টি টিপস্

॥ ঘুম মানুষের একটি অত্যাবশ্যকীয় কাজ। এটি অনিয়মিত হলে বা একেবারেই না হলে স্বাস্থ্যের নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই ঘুম না হলে আপনার করণীয় কি তা জানা দরকার।
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিদিন অন্তত স্বাভাবিকভাবে ৬ ঘণ্টা ঘুম পাড়তে হবে। কিন্তু এর কম বা বেশি হলে অবশ্যই সেটি স্বাস্থ্যের জন্য কখনই সুখকর হবে না। অনেকেরই দেখা যায় একেবারে ঘুম হয় না। তাহলে একেবারে ঘুম না হলে কি করতে হবে। সে বিষয়গুলো আমাদের জানা নেই। তাই আসুন আজ এ বিষয়ে যেনে নেওয়া যাক।
ঘুম না হলে অনেক ধরনের সমস্যা হতে পারে। অনেকেই ঘুম হয় না বলে ঘুমের বড়ি খান। এটি মোটেও ঠিক নয়। ঘুম না হলে শরীরের নানা ধরণের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। চিকিৎসকরা বলেন, ঘুম না হওয়া কোন রোগ নয়, তবে ঘুম না হলে নানা রোগ আক্রমণ করতে পারে।
ঘুম না হলে কি করবেন
অনেককেই দেখা যায়, ঘুম হচ্ছে না বলে ঘুমের বড়ি খাচ্ছেন। এভাবে ঘুমের বড়ি খেতে খেতে এমন অবস্থা হয়েছে যে, ঘুমের বড়ি না খেলে একেবারেই ঘুম হয় না। কিন্তু পরে দেখা যায়, আগে আপনি ১টি করে বড়ি খেতেন তাতেই কাজ হতো কিন্তু পরে দেখা যাবে ২টি করে খেয়েও কাজ হচ্ছে না। কারণ আপনার শরীর এটি প্রুফ করে ফেলেছে। আর তাই ঘুম না হলে অন্য পদ্ধতি গ্রহণ করতে পারেন।
১. আপনি সন্ধ্যা থেকে কিছু পরিশ্রমের কাজ করুন।
২. কোন টেনশনে থাকবেন না।
৩. দুপুরে কোন অবস্থাতেই ঘুমাবেন না।
৪. রাতে গভীর রাত না করে সর্বোচ্চ ১১টার মধ্যে ঘুমিয়ে পড়ুন।
৫. টিভি-রেডিও বা কম্পিউটার জাতীয় যন্ত্র বর্জন করুন (অন্তত রাতে)।
৬. ঘরের অন্যদের সঙ্গে গল্প-গুজব না করে নিজের মতো ঘুমিয়ে পড়ুন।
৭. আলো নিভিয়ে দিন।
৮. গরমের দিন হলে রাতে শোবার আগে গোসল করে শুতে পারেন। এতে ঘুম আসবে।
৯. কোন অবস্থাতেই ঘুমের বড়ি না খাওয়ার চেষ্টা করবেন।
১০. রাতে শোবার আগে কিছু পরিমাণ জুস জাতীয় খাবার খেয়ে দেখতে পারেন।
এভাবে আপনি আগের অভ্যাসের বিপরিতে কিছু করুন। আর সবচেয়ে বেশি কাজে দেবে যদি আপনি সন্ধ্যায় পরিশ্রমের কিছু কাজ করেন তাহলে। কারণ পরিশ্রম করলে মানুষ এমনিতেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে। ঘুম তখন তাকে অনায়াসে আক্রমণ করে। এই স্বাভাবিক নিয়মগুলো মেনে চললে আপনি ঘুম না হওয়ার যে সমস্যা রয়েছে তা থেকে নিষকৃতি পেতে পারেন। এরপরও যদি দেখেন রাতের পর রাত আপনার ঘুম হচ্ছে না তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

ঘুম কম হলে যে সাতটি মারাত্মক সমস্যা হয়

প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম না হলে তা আমাদের দেহে নানা সমস্যা তৈরি করে। এসব সমস্যা চলতে থাকলে তাতে হতে পারে শারীরিক ও মানসিক নানা গণ্ডগোল। এর ফলে হতে পারে নানা মারাত্মক রোগ। এ লেখায় থাকছে সে ধরনের সাতটি সমস্যা, ঘুম কম হলে এসব সমস্যায় আপনি বিপর্যস্ত হতে পারেন।
১. হজমে সমস্যা
পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের যেসব সমস্যা দেখা যায়, তার মধ্যে অন্যতম হলো হজমে সমস্যা। এতে আপনার শরীর ক্রমে দুর্বল হয়ে পড়বে। কিন্তু প্রতিদিন সাত ঘণ্টার ওপরে ঘুমানো হলে তাতে শিগগিরই আপনার শরীর ঠিক হয়ে যাবে।
২. শারীরিক সমস্যা
ঘুম কম হলে অনেকেই নানা শারীরিক প্রতিক্রিয়া অনুভব করেন। এর মধ্যে রয়েছে শরীরের তাপমাত্রা কমা ও ঘন ঘন মুত্রত্যাগের তাড়া অনুভব করা। ঘুমিয়ে থাকলে কিডনির কার্যক্রম ধীর হয়ে যায়। কিন্তু জেগে থাকলে তা হয় না। এ কারণেই এমন সমস্যা হয়।
৩. স্মৃতিশক্তি হারানো
ঘুমে সমস্যা হলে তা স্মৃতিশক্তিতেও সমস্যা তৈরি করে। ছোট ছোট স্মৃতি মস্তিষ্কে গুছিয়ে রাখতে সহায়তা করে ঘুম। কিন্তু ঘুম কম হলে এ প্রক্রিয়ায় সমস্যা তৈরি হয়। ফলে বিভিন্ন বিষয় মনে করতে সমস্যায় পড়তে হয়।
৪. ওজন বৃদ্ধি
কম ঘুমালে দেহের ওজন বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। এর অন্যতম কারণ হলো হরমোনের ভারসাম্যহীনতা।
৫. গাড়ি চালনায় সমস্যা
রাতে পর্যাপ্ত ঘুম না হলে গাড়ি চালানো বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে দুর্ঘটনা ও তাতে প্রাণহানি ঘটার সম্ভাবনা থাকে। এসব কারণে পর্যাপ্ত ঘুম না হলে গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকা উচিত।
৬. রোগের সম্ভাবনা
পর্যাপ্ত ঘুম না হলে তা দেহে নানা সমস্যা তৈরি করে। এসব সমস্যার মধ্যে রয়েছে রক্তচলাচলে সমস্যা, অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, ইনসুলিনের ভারসাম্যহীনতা ও হজমের গণ্ডগোল। এসব সমস্যা নানা রোগের সৃষ্টি করে। এতে ডায়াবেটিস ও ক্যান্সারের মতো সমস্যা তৈরি করে। সম্প্রতি টাইপ টু ডায়াবেটিস বিস্তার লাভ করছে। ক্রমবর্ধমান এসব রোগের হাত থেকে বাঁচতে পর্যাপ্ত ঘুমানো প্রয়োজন।
৭. জেনেটিক গণ্ডগোল
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্স এক নিবন্ধে জানিয়েছে ঠিকমতো ঘুম না হলে তা আপনার জিনগত সমস্যা তৈরি করতে পারে। এতে কোষ এবং ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ছয় ঘণ্টারও কম সময় ঘুমায় এমন ব্যক্তিদের মাঝে এক গবেষণায় বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে।

৫ মিনিটে ঝকঝকে পরিষ্কার দাঁত

দাঁত প্রতিদিন মেজে ঘষে শেষ করে ফেলছেন। তবুও হলদেটে ভাব যাচ্ছে না। ময়লাও খুব এটে থাকে। প্লাক জমে গেছে এসব নিয়ে তাই মেজাজ খুব গরম। কোথাও গেলে খুব বিপত্তিতে পড়তে হচ্ছে। তাহলে উপায়?
ঘরে বসে সাধারণ উপায়েই আপনি আপনার সুন্দর দাঁত আবার ঝকঝকে করে ফেলতে পারেন। আসুন     উপরের ভিডিও টি দেখে শিখে নেই –

আকা বাকা দাঁত


সুন্দর হাসির পূর্ব শর্ত হলো সুন্দর দাত। তাই আমরা সবাই চাই ঝকঝকে মুক্তার মতো দাত । কিন্তু প্রায়ই দেখা যায় আঁকাবাঁকা, ফাঁকা ও উঁচু নিচু দাঁতের কারণে অনেকে নিজেকে কিছুটা লুকিয়ে রাখেন। ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও প্রাণ খুলে হাসতে পারেন না। অথচ অসচেতনতার কারণে দাঁতের এমন সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।
যেমন নির্দিষ্ট বয়সের আগে দুধদাঁত ফেলে দেয়া অথবা দীর্ঘদিন পর্যন্ত রেখে দেয়া, অতিরিক্ত কোনো দাঁত থেকে যাওয়া বা কোনো দাঁত কম থাকা, শিশুদের আঙুল চোষার অভ্যাস থাকা এবং নাকের পরিবর্তে মুখ দিয়ে শ্বাস নেয়া। কিছু ক্ষেত্রে অবশ্য এ সমস্যায় ব্যক্তির নিজস্ব হাত থাকে না। যেমন দাঁতের আকার চোয়ালের তুলনায় বড় বা ছোট হওয়া, দাঁত ও তার চারপাশের মধ্যে ভারসাম্য না থাকা, মুখের মধ্যে কোনো টিউমার বা সিস্ট থাকা ইত্যাদি। কখনো কখনো বংশগত কারণেও দাঁত এলোমেলো হয়ে থাকে।
আঁকাবাঁকা দাঁতে ক্ষেত্রে বিশেষভাবে যত্নবান হতে হয়, অন্যথায় মাড়ি প্রদাহ, ডেন্টাল কেরিজ, দাঁতে অতিরিক্ত প্লাক জমাসহ নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। আঁকাবাঁকা দাঁতের যত্নে ডেন্টাল সার্জন মোহাম্মদ আলী আজগর কিছু পরামর্শ দেন।
আসুন জেনে নেয়া যাক কীভাবে আঁকাবাঁকা দাঁতের যত্ন নেবেন—
১. নিয়মিত দাঁত মাজার পর একটি সাদা কাপড় দিয়ে আপনার আঁকাবাঁকা দাঁতগুলো ঘষে নিন। এতে দাঁতের বাড়তি ময়লা দূর হবে এবং বাঁকা দাঁত খুব একটা দৃষ্টিকটু দেখাবে না।
২. শর্করা ও চর্বিজাতীয় খাবার দাঁতের ফাঁকে জমে দাঁত দ্রুত ক্ষয় করে এবং এর মসৃণতা নষ্ট করে। তাই এসব খাবার গ্রহণের পর সঙ্গে সঙ্গে ব্রাশ করুন। ভালোভাবে কুলি করে দাঁত পরিষ্কার করে নিন।
৩. ওপর-নিচে, ভেতর ও বাইরে সব দিকে পরিষ্কার করুন। বাঁকা দাঁতে ময়লা বেশি জমে। তাই একটু সময় নিয়ে ব্রাশ করুন।
৪. অনেক সময় একই স্থানে দুটি দাঁত গজায়, সেক্ষেত্রে ডেন্টিস্টের পরামর্শ অনুযায়ী একটি দাঁত তুলে ফেলুন। অনেকের দুটি দাঁতের মাঝে ফাঁকা স্থান বা ভাঙা দাঁত থাকে। এক্ষেত্রেও যত দ্রুত সম্ভব চিকিত্সকের দ্বারস্থ হওয়া ভালো।
৫. শিশুদের ক্ষেত্রে দাঁত ওঠার শুরু থেকেই সতর্ক হোন, বোতলে দুধ খাওয়ানো থেকে বিরত থাকুন এবং ভালোভাবে দাঁত ব্রাশ করা শেখান।
৬. দুধদাঁতে প্রক্সিমাল ক্যারিজ হলে দ্রুত চিকিত্সা করান।
এই তো গেলো আঁকাবাঁকা দাতের যত্নের বিষয়, তবে বর্তমানে বিভিন্ন ডেন্টাল ক্লিনিকগুলোতে দাত সোজা করার জন্য বিভিন্ন আধুনিক চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। ব্রেস পরানো, ডেন্টাল রিফর্মেশন ইত্যাদি নানা পদ্ধতি এখানে সুলভে পাওয়া যায়। এগুলো সম্বন্ধে আরো জানতে আপনার নিকটস্থ ডেন্টাল ক্লিনিকে যোগাযোগ করতে পারেন।

হার্ট এটাক

লেখাটি পড়ুন, জীবন বাঁচান........!

যারা রাত্রে বা ভোরে ঘুম থেকে ওঠেন তাদের জন্য ডাক্তারদের একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ:
আমরা প্রায়ই শুনতে পাই একেবারে সুস্থ একজন মানুষ রাতের বেলা হঠাৎ মারা গেছেন। এটার একটা কারন হচ্ছে রাতে বাথরুমে যাবার জন্য ঘুম ভেঙ্গে গেলে আমরা তাড়াহুড়ো করে
হঠাত উঠে দাঁড়িয়ে পড়ি যা ব্রেইনে রক্তের প্রবাহ হঠাত কমিয়ে দেয়। এটা আপনার ইসিজি প্যাটার্নও বদলে দেয়।
হুট্ করে ঘুম থেকে উঠেই দাঁড়িয়ে পড়ার দরুন আপনার ব্রেইনে সঠিক ভাবে অক্সিজেন পৌছাতে পারেনা, যার ফলে হতে পারে হার্ট এ্যাটাকের মত ঘটনাও।
ডাক্তাররা ঘুম থেকে উঠে বাথরুমে যাবার আগে সবাইকে 'দেড় মিনিট' সময় নেয়ার একটি ফর্মুলা দিয়েছেন।
এই দেড় মিনিট সময় নেয়াটা জরুরি কারন এটা কমিয়ে আনবে আপনার আকস্মিক মৃত্যুর সম্ভাবনা।
হঠাত এই উঠে পড়ার সময়ে এই দেড় মিনিটের ফর্মুলা বাঁচিয়ে দিতে পারে আমাদের জীবন।
১।যখন ঘুম থেকে উঠবেন, হুট করে না উঠে মিনিমাম তিরিশ সেকেন্ড বিছানায় শুয়ে থাকুন।
২।এরপর উঠে বিছানায় বসে থাকুন তিরিশ সেকেন্ড।
৩।শেষ তিরিশ সেকেন্ড বিছানা থেকে পা নামিয়ে বসুন।
এই দেড় মিনিটের কাজ শেষ হবার পর আপনার ব্রেইনে পর্যাপ্ত পরিমানে অক্সিজেন পৌছাবে যা আপনার হার্ট এ্যাটাকের ঝুঁকি একদম কমিয়ে আনবে।
খুবই গুরুত্তপুর্ন এই স্বাস্থ্য সম্পর্কিত তথ্যটি‌ ছড়িয়ে দিন আপনার পরিবার,বন্ধু এবং পরিচিত লোকজনের মাঝে। নিজে এই ফর্মুলাটি মেনে চলুন এবং অন্যদেরকেও মানতে বলুন।
মনে রাখবেন যেকোন বয়সের মানুষের ক্ষেত্রেই এমন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই সাবধান থাকতে হবে সবাইকেই।

পায়ের গোড়ালিতে ব্যাথা হলে কি করবেন

সাম্প্রতিক সময়ে পায়ের গোড়ালিতে ব্যাথার কথা অনেকের মুখেই শোনা যায়। বিশেষ করে যাদের চল্লিশোর্ধ বয়স তাদের ক্ষেত্রে এটি বেশি ঘটছে। এর মূল কারণ হলো ওজন বৃদ্ধি পাওয়া। ওজন বেশি হওয়ার কারণে বায়ের গোড়ালি শরীরের ভর সহ্য করতে পারে না। আর তাই পায়ের গোড়ালিতে ব্যাথা অনুভব হয়। যে কারণে খুড়িয়ে খুড়িয়ে হাটা লাগে। কিভাবে এই গোড়ালিতে ব্যাথা সারাবেন সে বিষয়ে আজ আলোচনা করা হবে। চিকিৎসকরা প্রথমেই বলে থাকেন ওজন কমাতে। ওজন কমালে আপনা-আপনি ব্যাথা সেরে যাবে। তবে প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকরা কিছু পেইন কিলার দিয়ে থাকেন। সেটি যাদের ব্যাথার পরিমাণ বেশি তাদের জন্য। যাদের বয়স চল্লিশোর্ধ তাদের ক্ষেত্রে ওজন কমানোর বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ওজন নিয়ন্ত্রণে না থাকলে আপনার ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও থেকে যাবে। তাই ওজন অবশ্যই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। পায়ের গোড়ালির ব্যাথা নিয়ন্ত্রণ করতে জেনে নিন কিছু কার্যকরী টিপস। এতে গোড়ালি ব্যাথা প্রতিহত হবে আবার ডায়াবেটিসসহ অন্যান্য ঝুঁকিও থাকবে না। # প্রথমেই গোড়ারির ব্যাথার জন্য আপনাকে সব সময় নরম জুতা ব্যবহার করতে হবে। চামড়ার জুতা হোক আর রাবারের স্যান্ডেলই হোক খুব নরমটা ব্যবহার করতে হবে। যাতে গোড়ালিতে কম ব্যাথা অনূভব হয়। # যত কম পারা যায় হাটাহাটি কম করতে হবে। প্রয়োজন ছাড়া হাটাহাটি না করায় ভালো। # বিশেষ করে শক্ত কোনো স্থানে বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে না খাকার চেষ্টা করুন। # ভারী কোনো জিনিস তুলবেন না। যেমন: ­বেশি ওজনের বাজারের ব্যাগ, পানিভর্তি বালতি এই জাতীয় জিনিস বহন না করায় ভালো। # সিঁড়ি দিয়ে উপরে ওঠার সময় মেরুদণ্ড সোজা রেখে হাতে সাপোর্ট দিয়ে ধীরে ধীরে উঠতে হবে। আবার চলাচলের সময় যথাসম্ভব গোড়ালির ব্যবহার কম করবেন। # ব্যথা বেশি থাকা অবস্থায় কোনো রকম ব্যায়াম না করায় ভালো। # মহিলাদের ক্ষেত্রে হাই হিল জুতা ব্যবহার করা একেবারে নিষেধ। # শরীরের ওজন কমাতে সকাল ও রাতে রুটি খেতে হবে। এবং যেসব খাবারে বেশি ক্যালরি রয়েছে আপাতত সেগুলো বর্জন করতে হবে। উপরোক্ত নিয়ম মেনে চললে এমনিতেই গোড়ালির ব্যাথা সেরে যাবে। তবে যদি দেখেন ব্যাথা দীর্ঘস্থায়ি হচ্ছে তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। তবে মনে রাখবেন ওষুধ খাওয়ার থেকে যদি নিয়ম মেনে গোড়ালির ব্যাথা সারানোর যায় সেটিই শরীরের জন্য উত্তম হবে। এই নিয়মগুলো যে কেও মেনে চলতে পারেন। তাতে সুস্থ্য-সুন্দর জীবন যাপন করতে পারবেন।

এলার্জি কেন হয়?

এলার্জি একটি সর্বজনীন বহুল প্রচলিত শব্দ। কিন্তু এই এলার্জি সম্পর্কে সঠিক ধারণা কিন্তু আমাদের অনেকেরই নেই। শ্বাস কষ্ট, এক্জিমাসহ বহু চর্মরোগেরই কারণ হচ্ছে এলার্জি। তাই এলার্জি সম্পর্কে আমাদের ধারণা রাখা খুবই প্রয়োজনীয়। সচরাচর নির্দোষ বলে গণ্য কোন জিনিস যদি শরীরে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে তাবে তাকে এলার্জি বলা হয়। যেসব দ্রব্য এলার্জি সৃষ্টি করে তাকে বলা এলারজেন বা এন্টিজেন এবং এসব দ্রব্য দেহে প্রবেশের ফলে দেহের অভ্যন্তরে যে দ্রব্য সৃষ্টি হয় তাকে বলা হয় এন্টিবডি। এন্টিজেন ও এন্টিবডি পরস্পর মিলিত হলে যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় তাকে বলা হয় এন্টিজেন-এন্টিবডি বিক্রীয়া।
হাপানির সঙ্গে এলার্জির গভীর সংযোগ আছে। ফুলের পরাগ, দুষিত বাতাসা, ধোয়া, কাঁচা রংয়ের গন্ধ, চুনকাম, ঘরের ধুলো, পুরানো ফাইলের ধুলো দেহে এলার্জিক বিক্রিয়া করে হাপানি রোগের সৃষ্টি করে। কাজেই যারা হাপানিতে ভুগছেন তাদেরকে এগুলি পরিত্যাগ করে চলতে হবে। ছত্রাক দেহে এলার্জি তথা হাপানি সৃষ্টি করে। ছত্রাক হচ্ছে অতি ক্ষুদ্র সরল উদ্ভিদ। মাত্র ২০ সেঃ গ্রেঃ থেকে ৩২ সেঃ গ্রেঃ উত্তাপে জন্মে, ভেজা পদার্থে এই ছত্রাক জন্মাতে দেখা যায়। আবার কোন কোন খাদ্য ছত্রাক দ্বারা দুষিত হয়ে থাকে। পনিরে ছত্রাক মিশিয়ে তৈরি করা হয়। কোন কোন পাউরুটি এবং কেক তৈরি করতেও ইস্ট জাতীয় ছত্রাক ব্যবহার করা হয়। আলু, পেয়াজ ও ছত্রাক দ্বারা দুষিত হয়। এই ছত্রাক ও এলার্জি তথা হাপানি সৃষ্টির একটি অন্যতম কারণ।
ঘরের ধুলো হাপানি জনিত এলার্জির জন্য একটি অন্যতম কারণ। ঘরের ধুলোতে একটি ক্ষুদ্র জীবানু থাকে যা কিনা ‘মাইট' নামেই সচরাচর পরিচিত। এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে, শতকরা প্রায় ষাট শতাংশ ক্ষেত্রে এলার্জি সৃষ্টির জন্য এই ‘মাইট' দায়ী। সে জন্যে যারা হাপানি জনিত এলার্জিক সমস্যায় ভোগেন তারা ঘরের ধুলো সবসময় এড়িয়ে চলবেন। বিশেষ করে যখন ঘর ঝাড়ু দেবে তখন সেখান থেকে দুরে সরে থাকতে হবে। ঘরের আপবাবপত্র কম্বল, পর্দা, তোষক, বালিশ, প্রভৃতিতে যে ধুলো জমে থাকে তা পরিস্কার করার সময় দুরে সরে থাকতে হবে।
খাদ্যে প্রচুর এলার্জির সম্ভাবনা থাকে যেমন, দুধে এলার্জি, বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে গরুর দুধে খুবই বেশি এলার্জি হতে দেখা যায়। গরুর দুধে বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে গায়ে চুলকানি, হাপানি ইত্যাদি হতে দেখা যায়। এছাড়া গমে এলার্জি, ডিমে, মাছে এলার্জি হতে দেখা যায়। এছাড়া বাদাম, কলা, আপেল, আঙ্গুর, ব্যাঙের ছাতা, তরমুজ, পেয়াজ, রসুন, চকোলেট, এমনকি ঠান্ডা পানীয় কোন কোন ব্যক্তির ক্ষেত্রে এলার্জি সৃষ্টি করে।
পতঙ্গের কামড়ে গায়ে চুলকানি, স্থানটি ফুলে যাওয়া এমনকি হাপানি পর্যন্তও হতে দেখা যায়। মশা, বেলেমাছি, মৌমাছি, বোলতা, ভীমরুল প্রভৃতি পতঙ্গের কামড়ে দেহে এলার্জির সৃষ্টি হয়। এছাড়াও রোমশ ও পালক বিশিষ্ট জীবজন্তু.... যেমন- বিড়াল, কুকুর, অশ্ব, প্রভৃতি গৃহপালিত পশু, অনেক সময় এলার্জি সৃষ্টির জন্য বিশেষভাবে দায়ী। এছাড়া একটি চর্মরোগ আছে যাকে বলা হয় আর্টিকোরিয়া, বাংলায় কেউ কেউ আমবাতও বলে থাকেন। এক্ষেত্রে ত্বকে চাকা চাকা হয়। আর ফুলে ওঠে চুলকাতে দেখা যায়। এটিও হল এলার্জির অন্যতম প্রকাশ। অধিকাংশ লোকের জীবনেই কোন না কোন সময় এই রোগ হতে দেখা যায়। এই আর্টিকোরিয়া শরীরের কোন অংশে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে অথবা সমস্ত শরীর ছড়িয়ে পড়তে পারে। এতে বিভিন্ন আকারের লালচে চাকা চাকা ফোলা দাগ হতে দেখা যায় এবং সেই সঙ্গে থাকে প্রচন্ড চুলকানি। অনেকগুলো কারণ এর মধ্যে খাদ্য এলার্জি থেকেও এরোগ হতে পারে। যেমন- বাদাম, ডাল, মাংস, ডিম ইত্যাদি। এছাড়া এই এলার্জির সৃষ্টি পতঙ্গ থেকেও হতে পারে যেমন- বোলতা, মৌমাছি, ভীমরুল, মাকড়সা প্রভৃতির কামড়ে এই এলার্জি দেখা দিতে পারে। এছাড়া ওষুধে এলার্জি হতে পারে। অনেক ওষুধই এলার্জি সৃষ্টির জন্য দায়ী। এর মধ্যে পেনিসিলিন আর অ্যাসপিরিন অন্যতম।
জ্বর, গায়ে ব্যথা, মাথার ব্যথা, পাচড়া, ফোড়া ইত্যাদির জন্য এই ওষুধ দুটো আমরা ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়াই খেয়ে থাকি। কিন্তু মনে রাখতে হবে এর থেকে গয়ে এলার্জি জনিত চুলকানিতো হতেই পারে। এমনকি পেনিসিলিন ব্যবহারের কারণে মৃত্যু পর্যন্তও হতে পারে। এছাড়াও আরো অসংখ্য ওষুধ আছে যা খেয়ে গায়ে এলার্জির সৃষ্টি হতে পারে। সুতরাং ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোন ওষুধ কখনই খাওয়া উচিত নয়।
আমরা শিশুদের টিকা দিয়ে থাকি। মনে রাখতে হবে কোন কোন টিকা বা ভ্যাকসিনে ব্যক্তি বিশেষে এলার্জি হতে দেখা যায়। সুতরাং ভ্যাকসিন দেয়ার পার আপনার শিশুকে যদি এলার্জি চুলকানি বা ঠান্ডাজনিত সমস্যায় ভুগতে দেখা যায় তাহলে অবশ্যই তাকে ডাক্তারের কাছে নেয়া উচিত। মোট কথা এলার্জি একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। আপনি এলার্জিতে ভুগলে লক্ষ্য করবেন কোন খাবারে আপনার এলার্জি হয় কি না? যদি খাবারের সঙ্গে সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া যায়, তবে সেই খাবার অবশ্যই পরিহার করতে হবে। মোট কথা....যে কারণে আপনার এলার্জি হয় সেই কারণ এড়িয়ে চলতে হবে।

জলাতংক

জলাতঙ্ক (ইংরেজি ভাষায় : Rabies) হল ভাইরাস জনিত এক
ধরনের জুনোটিক রোগ (অর্থাৎ এই রোগ টি প্রাণী
থেকে মানুষের মধ্যে ছড়ায়)। রেবিজ ভাইরাস নামক
একধরণের নিউরোট্রপিক ভাইরাস দিয়ে এই রোগ হয়।এই
রোগ সাধারনত গৃহপালিত প্রাণী ও বন্য প্রাণীদের
প্রথমে সংক্রমিত করে, মানুষ এই প্রাণীগুলির বা এদের
লালার সংস্পর্শে আসলে বা এই প্রাণীগুলি যদি মানুষকে
কামড়ায় অথবা আচুড় দেয় তাহলে এই রোগ মানুষের
মধ্যে ছড়াতে পারে। জলাতঙ্ক রোগ এন্টার্কটিকা ছাড়া প্রায়
সব মহাদেশেই দেখা গেছে। জলাতঙ্ক রোগের
জন্য প্রতি বছর বিশ্বে চব্বিশ থেকে ষাট হাজার লোকের
মৃত্যু ঘটে। [১][২][৩]
উপসর্গ
জলাতঙ্কে আক্রান্ত ব্যক্তি, ১৯৫৯
রেবিজ ভাইরাসের সুপ্তাবস্থা কামড় স্থানের উপর ভিত্তি
করে দুই থেকে ষোল সপ্তাহ বা আরো বেশি হতে
পারে। পায়ের তুলনায় মাথার দিকে কামড়ালে সুপ্তিকাল
আরো কমে যায় কারণ ভাইরাসের কেন্দ্রীয়
স্নায়ুতন্ত্রে পৌছাতে সময় কম লাগে। প্রথমদিকে
অনির্দিষ্ট কিছু লক্ষণ যেমন জ্বর , ক্ষুধামন্দা, কামড় স্থানের
অনুভূতিতে পরিবর্তন যেমন চিনচিন, ঝিনঝিন ইত্যাদি পরিলক্ষিত
হয়। কয়েকদিন পর থেকে তন্দ্রা, কনফিউশন,অনিয়ন্ত্রিত
উত্তেজনা, লালারসের ক্ষরণ বৃদ্ধি [৪] প্রভৃতি লক্ষণ দেখা
দেয়। সবচেয়ে লক্ষণীয় ব্যাপার হচ্ছে ঢোক গিলার
সময় ডায়াফ্রাম, রেসপিরেটোরি মাসল ও কণ্ঠনালির তীব্র
ব্যথাযুক্ত সংকোচন হয় বিশেষ করে পানি পান করার চেষ্টা
করলে ডায়াফ্রাম ও অন্যান্য ইন্সপিরেটোরি মাসলের
তীব্র সংকোচন ও ব্যথা হয় ফলে রোগীর মধ্য
হাইড্রোফোবিয়া বা পানভীতি তৈরি হয়। [৫][৬] এই অবস্থার
জন্য বাংলায় এই রোগকে জলাতঙ্ক নামে অভিহিত করা হয়।
এছাড়া রোগীর ডিলিউসন, হ্যালুচিনেশন ও
পাগলামি,শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নাড়ানোর অক্ষমতা,
চেতনাশূন্যতা দেখা দেয়।
রোগের বিস্তার
এই ভাইরাস সাধারণত রেবিজ দ্বারা আক্রান্ত প্রাণীর কামড় বা
আঁচড় ও লালার মাধ্যমে বিস্তার লাভ করে।[৭] রেবিজ ভাইরাস
দিয়ে আক্রান্ত প্রাণীর ভাইরাল এনসেফালাইটিস হয় ফলে
প্রাণীটি আক্রমণাত্মক হয়ে যায় এবং অল্পতেই কামড়িয়ে
দেয়। এই ধরণের প্রাণীকে রেবিড অ্যানিম্যাল (rabid
animal) বলে। এই ভাইরাস প্রায় সকল স্তন্যপায়ী
প্রাণীকেই আক্রান্ত করতে পারে তবে খুব অল্পসংখ্যক
স্তন্যপায়ী মানুষের সংক্রমণের উৎস হিসেবে গুরুত্ব
বহন করে। মানুষ সাধারণত কুকুরের কামড়ের মাধ্যমে
বেশি আক্রান্ত হয়। [৮] অন্যান্য প্রাণীর মধ্যে বিড়াল,
বাদুড়, [৯][১০] ভোঁদড়, শেয়াল ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
সাধারণত খরগোশ ও তীক্ষ্ণদন্তী প্রাণী (rodent)
যেমন, ইঁদুর, মূষিক, কাঠবিড়াল প্রভৃতির মাধ্যমে এই ভাইরাস
ছড়ায় না। [১১] সাধারণত মানুষ থেকে মানুষে অঙ্গ
ট্রান্সপ্লান্টেশনের মাধ্যমে ছড়াতে পারে। [১২]
যেহেতু বীর্য বা স্ত্রীযোনির তরলে ভাইরাস
থাকতে পারে তাই তত্ত্বীয়ভাবে যৌনমিলনের মাধ্যমে
ছড়ানোর সম্ভাবনা আছে।[১৩]
প্যাথোজেনেসিস
রেবিজ ভাইরাস কুকুর, বিড়াল প্রভৃতি প্রাণীর কামড়ের
মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করে। কামড় স্থানেই এরা
বংশবৃদ্ধি আরম্ভ করে দেয়। এরা সংবেদী স্নায়ুকে
আক্রান্ত করে এবং অ্যাক্সন বেয়ে কেন্দ্রীয়
স্নায়ুতন্ত্রের দিকে এগোতে থাকে। [১৪][১৫] স্নায়ুর
মধ্য দিয়ে পরিবহনের সময় সাধারণত কোনো ইমিউন
রিয়্যাকশন হয় না, যদিওবা হয় তাহলে তা খুবই সামান্য। ভাইরাস
কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে পৌছানোর পর সেখানে
বংশবৃদ্ধি করতে থাকে এবং পুনরায় প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্র
বেয়ে লালাগ্রন্থিসহ অন্যান্য অঙ্গে এসে জমা হয়।
লালাগ্রন্থি থেকে লালারসে ভাইরাস প্রবেশ করে ফলে
জলাতঙ্ক রোগীর কামড়ের মাধ্যমে এটা অন্যের
দেহে পরিবাহিত হতে পারে। [১৬][১৭] স্নায়ুতন্ত্রে এটি
নিউরনকে ধ্বংস করে এবং এনসেফালাইটিস করতে পারে।
ডায়াগনোসিস
সাধারণত রোগের ইতিহাস ও উপসর্গের উপর ভিত্তি করে
রোগ নির্ণয় করা হয় [১৮] তবে কর্নিয়াল ইম্প্রেশন স্মিয়ার
ও স্কিন বায়োপসি থেকে র্যাপিড ইমিউনোফ্লুরেসেন্ট
টেকনিকের মাধ্যমে অ্যান্টিজেন শনাক্ত করা সম্ভব। [১৯]
চিকিৎসা
এই রোগ একবার হলে মৃত্যু অনিবার্য। সাধারণত লক্ষণ দেখা
দেওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই রোগী মৃত্যুবরণ
করে। কোনো অ্যান্টিভাইরাল ঔষধ এই ভাইরাসের
বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে না। শুধু উপশমমূলক চিকিৎসা প্রদান
করা সম্ভব। [২০] এই রোগের টিকা আবিষ্কৃত হয়েছে।
রেবিড প্রাণী কামড় দেওয়ার সাথে সাথে দ্রুত সময়ের
মধ্যে টিকা নিলে এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
প্রতিরোধ
এই রোগ প্রতিরোধের উপায় হলো টিকা নেওয়া। এই
ভাইরাসের অনেকরকম টিকা আবিষ্কার হয়েছে তবে
সবচেয়ে নিরাপদ টিকা হলো হিউম্যান ডিপ্লয়েড সেল
ভ্যাকসিন(HDCV)। অন্যান্য টিকার মধ্যে উল্লেখযোগ্য
হলো পিউরিফাইড চিক ইমব্রিও সেল ভ্যাকসিন, ডাক ইমব্রিও
সেল ভ্যাকসিন, নার্ভ টিস্যু ভ্যাকসিন ইত্যাদি। [২১][২২] ডাক
সেল ভ্যাকসিনের ইমিউনোজেনেসিটি বা কার্যকারিতা কম
এবং নার্ভ টিস্যু ভ্যাকসিন অ্যালার্জিক এনসেফালোমায়েলাইটিস
করতে পারে। ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পূর্বে টিকা নেওয়া
কে প্রি-এক্সপোজার প্রোফাইল্যাক্সিস ও আক্রান্ত হওয়ার
পরে টিকা নেওয়া কে পোস্ট-এক্সপোজার
প্রোফাইল্যাক্সিস বলে।
প্রি-এক্সপোজার প্রোফাইল্যাক্সিস
পশুচিকিৎসক, চিড়িয়াখানার প্রাণীদের দেখাশোনাকারী,উচ্চ
ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী লোকজন বা উক্ত এলাকায়
ভ্রমণকারী ব্যক্তি ও যারা বাড়িতে কুকর পোষে
তাদেরকে প্রতিরোধমূলক টিকা দেওয়া হয়। সাধারণত তিনটি
ডোজ ০,৭ ও ২১ বা ২৮ তম দিনে ও প্রতিবছর বুস্টার ডোজ
দেয়া হয়। [২৩]
পোস্ট-এক্সপোজার প্রোফাইল্যাক্সিস
রেবিজ ভাইরাসের সুপ্তাবস্থা অনেক বেশি হওয়ায় টিকা
দেওয়ার পরে প্রতিরোধক ইমিউনিটি তৈরির জন্য পর্যাপ্ত
সময় থাকে তাই এই ভ্যাকসিন পোস্ট-এক্সপোজার
প্রোফাইল্যাক্সিস হিসেবে নিয়মিত রূটিনমাফিক ব্যাবহার করা
হয়।সাধারণত আক্রান্ত হওয়ার দশ দিনের মধ্যে দিলেও
ক্সজ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। [২৪] ক্ষতস্থানটি সাবান ও পানি
দিয়ে কমপক্ষে ১৫ মিনিট ধৌত করতে হবে অতঃপর
আয়োডিন দ্রবণ দিয়ে পুনরায় পরিস্কার করতে হবে।[২৫]
[২৬][২৭] টিটেনাস টিকাও দেবার কথা বিবেচনা করতে হবে।
পোস্ট-এক্সপোজার প্রোফাইল্যাক্সিসের মধ্যে টিকা
ও হিউম্যান রেবিজ ইমিউনোগ্লোবিউলিন(RIG) উভয়ই
অন্তর্ভূক্ত। হিউম্যান ডিপ্লয়েড সেল ভ্যাকসিনের পাঁচটি
ডোজ ০,৩,৭,১৪ ও ২৮ তম দিনে দেওয়া হয়। তবে ৯০তম
দিনে আরেকটি বুস্টার ডোজ দেওয়া যেতে পারে।RIG
শুধু একবার প্রথমদিনে দেওয়া হয়। এটি মূলত ক্ষতস্থানে
বেশি দিতে হয়, বাকি অংশটুকু মাংসপেশিতে দিতে হয়। টিকার
মধ্যে নিষ্ক্রয় রেবিজ ভাইরাস থাকে পক্ষান্তরে
ইমিউনোগ্লোবিউলিন হলো অ্যান্টিবডি তাই এই দুটি
ইনজেকশন শরীরের দুটি ভিন্ন জায়গায় পর্যাপ্ত দূরত্ব
বজায় রেখে দিতে হয় নতুবা RIG মধ্যস্থিত অ্যান্টিবডি
ভাইরাসটিকে অকেজো করে দিবে এবং টিকার কার্যকারিতা
নষ্ট হয়ে যাবে। [২৮] যদি কামড় প্রদানকারী প্রাণীকে
ধরে ফেলা যায় তাহলে ১০ দিন তাকে পর্যবেক্ষণে
রাখতে হবে। যদি প্রাণীটির মধ্যে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ
প্রকাশ পায় তাহলে তাকে মেরে ফেলা উচিত।

ভেজাল খাবারে স্বাস্থ্য ঝুঁকি

ভেজাল খাবারে স্বাস্থ্য ঝুঁকি
ভেজাল খাবারে স্বাস্থ্য ঝুঁকি
জ্যৈষ্ঠ আষাঢ় মধু মাসে বাংলাদেশে বিভিন্ন মুখ রোচক
ফলের সরবরাহ ঘটে। শিশু কিশোর থেকে সকল
বয়সের মানুষই ফল খেতে ভালবাসে। এইসব ফল
আমাদের দেহের জন্য খাদ্য ও পুষ্টি যেমন, শর্করা,
ভিটামিন, পটাশিয়াম, আয়রণ, জিংক ইত্যাদি দান করে। তাই সুখে
দুখে, অসুখে বিসুখে, ফলের চাহিদা সারা বছর ধরেই
রয়েছে, বিশেষ করে অসুস্থ হলে মুখের রুচি যখন
থাকেনা। রোগী ক্লান্ত পরিশ্রান্ত থাকে। লিভারের
অসুখেরতো কথাই নাই। সবাই ফল খেতে, ফল দিতে
পছন্দ করে। সারা বছর ধরে ফলের চাহিদা থাকলেও মধ্যম
শ্রেণী কিংবা গরীবের পক্ষে অধিক মূল্যে
আমদানীকৃত ফল সব সময় খাওয়া সম্ভব হয় না। তাই
বাংলাদেশে মধু মাসগুলোতে সবাই আগ্রহভরে কোন না
কোন ফল পরিবার পরিজন নিয়ে খেতে সচেষ্ট হন।
শাকসবজি, মাছ ও মাংসে ভেজালতো নিত্যদিন রয়েছেই।
ফরমালিন মুক্ত মাছ পাওয়া দুষ্কর। তাছাড়া কৃত্রিমভাবে
প্রজননের মাধ্যমে বাজারজাত মাছ, মাংস আমরা সব সময় খাই।
মাছকে ইউরিয়া সার খাওয়ানো হয় এবং গরুর বর্জ্য চামড়া
আগুনে পুড়িয়ে এক প্রকার খাদ্য বানিয়ে মাছকে খাওয়ানো
হয়, এমনকি ফার্মের বয়লার মুরগীর বর্জ্য খাওয়ানো হয়।
গরুকে বলিষ্ঠ করার জন্য আখের গুড়ের তৈরীর বর্জ্য
(রাব) যা এলকোহল সমৃদ্ধ এবং এমনকি ইউরিয়া মিশ্রিত ঘাস ও খড়
খাওয়ানো হয়। এসমস্ত রাসায়নিক পদার্থ মিশ্রিত খাবার যে গরু
খায় সে গরুর মাংস আমরা খাই এ খাবার কতটুকু স্বাস্থ্য সম্মত তাও
নিরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে। পোলট্রি ফার্মের
মুরগীকে মোটাতাজা করার জন্য নানাবিধ কেমিক্যাল মিশ্রিত
খাবার খাওয়ানো হয়। শুকনো ও পঁচা গন্ধযুক্ত ডিডিটি মিশ্রিত
শুটকি দিয়েও মুরগীর খাবার তৈরী করা হয়। তাছাড়া শুটকি
মাছকে টাটকা ও পোকা মাকড় থেকে রক্ষা করার জন্য ডিডিটি
মিশানো হয়। কালে অকালে সব রকমের সবজি আমাদের
দেশে পাওয়া যায়। এটা সম্ভব হচ্ছে অতিরিক্ত সার ও
কীটনাশক প্রয়োগের মাধ্যমে। এ সমস্ত শাকসবজির
গুণগতমান এবং সেফটি দেখার সময় এসেছে।
প্রাকৃতিক উপায়ে চাষকৃত কোন খাবারই এখন আমাদের
ভাগ্যে জোটেনা। হয়তো বা জনসংখ্যার চাপ,
প্রয়োজনের তুলনায় কম সরবরাহ হবে বলে সবাই বিকল্প
পথ অবলম্বন করে অধিক উত্পাদনের সাহায্যে সাময়িক চাহিদা
পুরণের মনযোগী হয়েছে। এই ভেজাল ও বিষ
গ্রহণের ফলে মানবদেহে কি প্রতিক্রিয়া হচ্ছে তা
দেখার প্রয়োজন রয়েছে। আমাদের দেহ দিন দিন
নানাবিধ দুরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত হচ্ছে। যেমন
অকালে ক্যান্সার, লিভার রোগ, কিডনিরোগ এবং রক্ত শূন্যতা
ইত্যাদি নানা রোগ ব্যাধির প্রকোপ বেড়েই চলেছে।
সাধারণত কাঁচা কলাকে ইথাইলিন গ্যাস দ্বারা পাকানো হয়। ইহা
একটি গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়া কেননা মৌসুমী ফল এই
প্রক্রিয়াতে পাকে।
কিন্তু সমস্যাটা হলো অধিক মুনাফা লোভি কিছু সংখ্যক
ব্যবসায়ী কাঁচা মৌসুমী ফল যেমন আম, কলা, পেঁপেঁ,
নাশপাতি, কুল ও আপেলকে ক্যালসিয়াম কার্বাইড নামক বিষাক্ত
কেমিক্যাল দিয়ে পাকায়। এই ক্যালসিয়াম কার্বাইড একটি সহজ
লভ্য ও তুলনামূলকভাবে সস্তা কেমিক্যাল। ঈত্ুংঃধষষরহব
কমপাউন্ড যা শিল্প কল কারখানায় সাধারণত: ব্যবহার হয়ে
থাকে। দেখতে গাঢ় দূষর রং। অনেকটা রসুনের মত গন্ধ
ছড়ায়। ইহা সাধারণত ষ্টীল জাতীয় পদার্থের ওয়েল্ডিং
কাজে ব্যবহূত হয়। ব্যবসায়ীরা আম কিংবা অন্যান্য ফলকে
সারিবদ্ধভাবে বসিয়ে ক্যালসিয়াম কার্বাইড ছোট ছোট
খোলা পাত্রে মিশিয়ে সারি সারি করে বসিয়ে তার পর
পলিথিন বিছিয়ে দেয়। এ বিষাক্ত কেমিক্যাল বাতাসে জলিয়
বাষ্পের সংস্পর্শে আসলে এসিটাইলিন গ্যাস তৈরী হয়। এই
গ্যাস ফল পাকাতে সাহায্য করে। ক্যালসিয়াম কার্বাইডে
আর্সেনিক ও ফসফরাস জাতীয় রাসায়নিক পদার্থ থাকে।
এসিটাইলিন গ্যাস স্নায়ুতন্ত্র তথা ব্রেইনের অক্সিজেন
সরবরাহ কমিয়ে দেয়। আর্সেনিক, চর্ম, লিভার, কিডনি,
ফুসফুস সহ মানব দেহে মারাত্মক ক্ষতি করে।
ক্যালসিয়াম কার্বাইড সল্প মেয়াদী ও দীর্ঘ মেয়াদী
স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে। সল্প মেয়াদী রোগের
উপসর্গ সমূহ ১. চোখ ও চামড়ার সংস্পর্শে আসলে জ্বালা
পোড়া এবং চোখের অন্ধত্ব এবং চামড়ায় ঘা হতে পারে ২.
শ্বাস প্রশ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করলে গলা ব্যথা, কাশি ও
শ্বাস কষ্ট হতে পারে। ৩. খাবারের মাধ্যমে গ্রহণ করলে
মুখে ঘা হতে পারে। ৪. অতি মাত্রায় গ্রহণ করলে শ্বাস
কষ্ট এমনকি ফুসফুসে পানি জমে যেতে পারে। দীর্ঘ
মেয়াদী স্বাস্থ্য ঝুকির মধ্যে রয়েছে ফুসফুসের উপর
দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব যেমন- কফ্, কাঁশি ও এজমা। কেমিক্যাল
দিয়ে পাকানো ফল চেনার উপায় কি?
১। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, আম কাঁটার পর চামড়ার ঠিক
নীচে ফলের অংশ কাঁচা পাওয়া যাবে। যদিও চামড়াটি পাকা রং এ
বর্ণ ধারণ করেছিল।
২। যদি ঝুড়িতে বা দোকানে সব গুলো ফল একই
সময়ে একই রকম পাকা দেখা যায় এবং দুই থেকে তিন দিনের
মধ্যে ফলের চামড়ায় আচিল বা তিলের মত রং দেখা যায়।
৩। প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় যে ফল পাকে তাতে মাছি বসবে
কিন্তু ক্যামিক্যাল দ্বারা পাকানো হলে সে ফলে মাছি বসবে
না।
৪। প্রাকৃতিক ভাবে পাকা ফলের চামড়া উঠানোর পর এক
ফোটা আয়োডিন দিলে তা গাঢ় নীল অথবা কালো বর্ণ
ধারণ করে। কিন্তু ক্যামিক্যাল দ্বারা পাকানো ফলে এই
আয়োডিনের রং অপরিবর্তিত থাকে।
আপনার করনীয়:
১। ফল খাওয়ার পূর্বে কয়েক মিনিট পানি দিয়ে ভাল করে
ধুয়ে নিন।
২। মৌসুমের পূর্বে বাজারের যে পাকা ফলগুলো
আসে সেগুলো ধরেই নিতে পারেন যে, কেমিক্যাল
দ্বারা পাকানো হয়েছে।
৩। যখন আম এবং আপেল জাতীয় ফল খাবেন তখন
এগুলো টুকরো টুকরো করে খাবেন। পুরো ফল
কামড়ে না খাওয়াই ভাল।
আমাদের সবার দায়িত্ব জনগনকে সচেতন করে তোলা।
ফল উত্পাদনকারী কৃষক, ব্যবসায়ী ও খুচরা
বিক্রেতাদেরকে ফল পাকানোর নিরাপদ প্রক্রিয়া শিক্ষা
দেওয়া। যেমন আমের ক্ষেত্রে সারি সারি করে আম
খড়ের গাদায় বসিয়ে রাখলে আম পেকে যাবে। তা ছাড়া গাছ
থেকে ফলগুলো পরিপক্ষ হওয়ার পর আম পারা ভাল।
ফলের পেশায় যারা নিযুক্ত রয়েছে তাদেরকে ক্যালসিয়াম
কার্বাইড ব্যবহারের ক্ষতির দিকগুলো শিক্ষা দিতে হবে। যারা
মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য নিয়ে খেলা করে এবং মানুষের
জীবনকে ঝুকির মধ্যে ফেলে দেয় তাদেরকে
আইনের মাধ্যমে শাস্তি ও অর্থ দন্ডের বিধান করা একান্ত
প্রয়োজন। যা অন্যান্য দেশে প্রচলিত রয়েছে।
উপরে উল্লেখিত সব রকম ভেজাল ও ক্যামিক্যাল মিশ্রিত
খাবার খেয়ে আমরা বেঁচে আছি। তাই  আমাদের পরবর্তী
প্রজন্মের স্বাস্থ্যহানী, মেধা ও মননশীলতা কতখানি
বিঘ্নিত হবে এবং হচ্ছে এ দিকে নজর দেওয়ার সময়
এসেছে।

মাথা ব্যথার ঘরোয়া সমাধান

অনেকেই মাথা ব্যথা হলে ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করেন যা
স্বাস্থ্যের জন্য বেশ ক্ষতিকর। তাই যতটা সম্ভব ঘরোয়া
উপায়ে মাথা ব্যথা দূর করার চেষ্টা করা উচিত।
পানি পান করা: পানি শূন্যতার কারণে অনেক সময় মাথা ব্যথা হতে
পারে। তাই মাথা ব্যথা অনুভূত হলে প্রচুর পানি পান করতে
হবে। পাশাপাশি তাজা ফলের রস ও পানি সমৃদ্ধ খাবার খেতে
হবে। তবে মাথা ব্যথার সময় চা এবং কফির মতো ক্যাফেইন
সমৃদ্ধ খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে।
মাথা মালিশ করা: হাতের বৃদ্ধাঙ্গুল এবং তর্জনী দিয়ে হালকা
চেপে মাথার যেখানে ব্যথা সেখানে মালিশ করলে আরাম
পাওয়া যায়। আঙুল দিয়ে ব্যথার স্থানে সাত থেকে ১৫
সেকেন্ড চেপে ধরে রেখে ছেড়ে দিন। মালিশের
ফলে পেশি শিথিল হয় এবং রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়। তাই ব্যথা
কমে আসে।
সময় মতো খাবার খান: সঠিক সময় পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার যারা
খেয়ে থাকেন তাদের অযথা মাথা ব্যথা হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে।
নিয়ম মাফিক কাজ চালানোর জন্য মস্তিষ্কের গ্লুকোজ
প্রয়োজন হয় আর সময় মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টি
মস্তিষ্কে সরবরাহ না হলে হাইপোগ্লাইসেমিয়া হতে পারে,
যার কারণে মাথা ব্যথা হয়। তাই প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে
পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
পর্যাপ্ত ঘুম: একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের দিনে ছয় থেকে
আট ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। যদি ঘুমের সমস্যা হয় এবং পর্যাপ্ত
সময় ঘুম না হয় তখন মাথা ব্যথা হতে পারে
বিশ্রাম করুন: কাজের ফাঁকে চোখ বন্ধ করে কিছু সময় বিশ্রাম
করা উচিত। ঘরের আলো কমিয়ে চেয়ার বা বিছানায় হেলান
দিয়ে বসে বা শুয়ে কিছু সময় বিশ্রাম নিলে মাথা ব্যথা কমে
আসবে।
গরম পানি দিয়ে গোসল: মাথা ব্যথা হলে কুসুম গরম পানি দিয়ে
গোসল করলে আরাম পাওয়া যাবে। মাথায়, ঘাড়ে ও কাঁধে কুসুম
গরম পানি ঢাললে মাথা ও ঘাড়ের পেশিগুলো শীতল হয় এবং
মাথা ব্যথা কমে আসে।
হাসুন: হালকা মাথা ব্যথা উপশমে হাসি বেশ উপকারী। হাসলে
ভালো লাগার অনুভূতি সৃষ্টিকারী হরমোন এন্ড্রোফিন
হরমোন মস্তিষ্কে নিঃসৃত হয়। এন্ড্রোফিন মাথা ব্যথা
কমিয়ে আনতে সাহায্য করে।
পছন্দের গান শুনুন ও বিশ্রাম নিন: হালকা লয়ের গান মস্তিষ্ক
শান্ত করে মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। তাছাড়া চোখ
বন্ধ করে ভালো কোনো স্মৃতি মনে করলেও অবসাদ
দূর হবে যা ব্যথা কমাতে সহায়ক।
প্রাণ ভরে শ্বাস নিন: বুক ভরে শ্বাস নিলে তা ব্যথা উপশমে
সাহায্য করে। বিশুদ্ধ বাতাসে প্রাণ ভরে শ্বাস নিলে তা
প্রাকৃতিকভাবে মাথাব্যথা কমিয়ে আনতে সাহায্য করবে।
অবসাদ থেকে ছুটি নিন: যে পরিস্থিতিতে মানসিক চাপ বেড়ে
যাচ্ছে বলে মনে হবে সেখান থেকে সরে যান। এ
ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে খোলা কোনো জায়গা থেকে
হেঁটে আসতে পারেন অথবা মানসিক চাপ দূর করতে সাহায্য
করবে এমন কিছু করতে পারেন। কজের চাপ থেকে কিছু
সময়ের জন্য ছুটি নিলে তা মাথা ব্যথা কমিয়ে আনতে সাহায্য
করবে।

মাথা ব্যথা দূর করবে খুব সহজ ও কার্যকরী এই প্রাকৃতিক ৫ টি পদ্ধতি

প্রতিদিনের যে সমস্যাটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে
দুর্বিষহ কয়রে তোলে তার নাম মাথাব্যথা। ছোট বড় প্রায়
সকলেই নানা কারণে বিভিন্ন সময়ে মাথা ব্যথায় আক্রান্ত হয়ে
পড়েন। অনেকেই আবার ভুগে থাকেন মাইগ্রেনের
সমস্যায়। এই ধরনের ব্যথা খুব হঠাৎই শুরু হয়ে যায় এবং ৩/৪ দিন
পর্যন্ত টানা ব্যথা চলতে থাকে।
ব্যথা দূর করার জন্য অনেকেই ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়ে
থাকেন, অনেকে আবার ব্যথানাশক ঔষধ খেয়ে থাকেন।
কিন্তু আপনি জানেনে কি? খুব সহজে কিছু প্রাকৃতিক উপায়ে এই
মাথাব্যথার সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। চলুন তবে
দেখে নেয়া যাক সেই উপায়গুলো কি কি।
আদা ও আদা চা
মাথা ব্যথা উপশমে আদার জুড়ি নেই। কারণ আদায় রয়েছে
‘প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন সিনথেসিস’ যা অ্যাসপিরিন অ ব্যথানাশক
ঔষধে ব্যবহার করা হয়। তাই মাথা ব্যথা শুরু হলে সামান্য আদা
ছিলে নিয়ে চিবনো শুরু করুন।
এতে মাথা ব্যথা দ্রুত উপশম হবে। এর পাশাপাশি ১ কাপ পানি
ফুটিয়ে এতে আদা সামান্য ছেঁচে নিয়ে ফুটিয়ে নিয়ে সামান্য
মধু দিয়ে পান করতে পারেন আদা চা। এতেও মাথা ব্যথা দ্রুত দূর
হবে।
আইসব্যাগ
বাজারে নানা আকারের অনেক আইসব্যাগ কিনতে পাওয়া ইয়া।
একটি আইসব্যাগে বরফ ভরে নিয়ে তা মাথার ওপরে অর্থাৎ ঠিক
মাথার তালুতে খানিকক্ষণ ধরে রাখুন। দেখবেন মাথা ব্যথা
উপশম হচ্ছে। তবে জাদের হুটহাট ঠাণ্ডা লেগে যাওয়ার
প্রবণতা আছে তারা এই পদ্ধতি পালন করবেন না।
মিষ্টিকুমড়োর বিচি খান
মিষ্টি কুমড়োর বিচি ভেজে খেলে মাথা ব্যথার সমস্যা
থেকে দুত মুক্তি পাওয়া সম্ভব। কারণ মিষ্টি কুমড়োর বিচিতে
হয়েছে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম সালফেট যা মাথা ব্যথা
উপশমে কাজ করে থাকে।
কাঠবাদাম খাওয়ার অভ্যাস রাখুন
অনেক সময় আবহাওয়া, ধুলোবালির কারণে মাথা ব্যথা শুরু হয়ে
যায়, আবার অনেক সময় মানসিক চাপের কারনেও মাথা ব্যথা শুরু
হয়। এই সকল ধরনের ব্যথা কমানোর জন্য একমুঠো বা
দুইমুঠো কাঠবাদাম চিবিয়ে খান। কাঠবাদামে রয়েছে ‘স্যালিসিন’
যা ম্যথা ব্যথা উপশমে কাজ করে রবং দ্রুত ব্যথা নিরাময় করে।
মনোযোগ দিয়ে গান শুনুন
মন ভালো করার পাশাপাশি মাথা ব্যথা উপশমে সব চাইতে ভালো
কাজ হচ্ছে গান শোনা। ‘জার্নাল অফ পেইন’ গবেষণাপত্রে
প্রকাশ হয় গান শোনা প্রায় ১৭% ব্যথা কমিয়ে দিতে সহায়তা
করে। কারণ গান মনোযোগ দিয়ে শোনার সময় আমাদের
লক্ষ্য মাথা ব্যথা থেকে সরে যায় যা আমাদের মাথা ব্যথার কথা
অনেক সময় ভুলিয়ে দেয়। এতে করেই সেরে উঠে মাথা
ব্যথা।

মাথা ব্যথার কারণ ও প্রতিকার

দৈনন্দিন জীবনে মাথা ব্যথা খুব সাধারণ একটি সমস্যা।
মাথা ব্যথা অনেক বিরক্তিকর, তবে বেশীর ভাগ
মাথা ব্যথাই মারাত্মক রোগ নির্দেশ করেনা।
দুশ্চিন্তা ও মাইগ্রেন শতকরা ৯০ ভাগ মাথা ব্যথার জন্য
দায়ী। মাথা ব্যথা নানা রকমের। টেনশন হেডেক
বা দুশ্চিন্তাজনিত মাথা ব্যথা, মাইগ্রেন হেডেক,
ক্লাস্টার হেডেক, সাইনাস হেডেক, আর্জেন্ট
হেডেক, আইহেডেক বা চক্ষুজনিত মাথা ব্যথা,
হরমোনজনিত মাথা ব্যথা। তাছাড়া মগজের টিউমার,
মগজের ঝিল্লির ভিতর রক্তপাত, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি
কারণেও মাথা ব্যথা হয়।
১. টেনশন হেডেক বা দুশ্চিন্তাজনিত মাথা ব্যথা
মাথা ব্যথা মাথার উভয় দিকে হয়। মাথায় তীব্র চাপ
অনুভূত হয় এবং ব্যথা ঘাড়ে সংক্রমিত হতে পারে।
মানসিক চাপে ব্যথা বাড়তে পারে। পুরুষ, মহিলা
সমানভাবে আক্রান্ত হয়।
চিকিৎসা :
সাধারণত বেদনা নাশক দ্বারা চিকিতৎসা করা হয়।
স্বল্পমাত্রার ট্র্যাঙ্কুলাইজারও দেওয়া যেতে
পারে।
২. মাইগ্রেন–এর মাথা ব্যথা
শতকরা ১০-১৫ ভাগ লোক এ ধরণের মাথা ব্যথায়
আক্রান্ত হয়। মাইগ্রেন মহিলাদের বেশী হয়।
সাধারণত: ১৫-১৬ বছর বয়স থেকে মাইগ্রেনের
লক্ষণ দেখা দেয় এবং বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই
৪০-৫০ বছর বয়স পর্যন্ত স্থায়ী হয়।
মাইগ্রেনের আক্রমণের সময় মগজের রাসায়নিক
বাহক সেরোটনিন-এর মাত্রা বেড়ে যায় এবং মাথা
বাইরের ধমনীগুলো প্রসারিত হয়।
চিকিতৎসা :
যেসব কারণে মাইগ্রেনের আক্রমণ বৃদ্ধি পায়, তা
পরিহার করতে হবে। স্বল্পস্থায়ী চিকিতৎসা
হিসাবে অ্যাসপিরিন বা প্যারাসিটামলের সাথে
এন্টিইমেটিক যেমন প্রোক্লোরপেরাজিন,
মেটাক্লোপ্র্যামাইড দেয়া যেতে পারে।
তীব্র আক্রমণের চিকিত্সা হিসাবে সুমাট্রিপটিন, যা
মাথার বাইরের ধমনীকে সংকুচিত করে, তা মুখে বা
ইনজেকশনের মাধ্যমে দেওয়া যেতে পারে।
আর্গোটামিন বিকল্প হিসাবে দেওয়া যেতে
পারে। ঘন ঘন আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে
প্রতিরোধকারী হিসাবে প্রোপানোলল,
পিজোটিফেন বা অ্যামিট্রিপটাইলিন দেওয়া যেতে
পারে।
৩. ক্লাস্টার হেডেক
ক্লাস্টার হেডেক মাইগ্রেনের চেয়ে কম হয়।
এ ধরনের মাথা ব্যথা মধ্য বয়স্ক পুরুষদের বেশী
হয়ে থাকে। কিন্তু মাইগ্রেন মহিলাদের বেশী
হয়।
চিকিতৎসা :
চিকিত্সা হিসাবে উচ্চ মাত্রায় প্রদাহ বিনাশকারী
(এন্টিইনফ্লামেটরী) দেওয়া হয়। সুমাট্রিপটিনও
ফলপ্রসূ। আর্গোটামিন ও ভেরাপামিল রোগ
প্রতিরোধের জন্য কার্যকর। অর্ধেকের
বেশী রোগী ফেস মাস্কের মাধ্যমে
১০০% অক্সিজেন শ্বাসের সাথে নিয়ে উপকার
পায়। ধূমপান ও মদ্যপান বর্জন করা উচিত।
৪. সাইনাস এর মাথা ব্যথা
যাদের ঘন ঘন সর্দি-কাশি হয়, তাদের সাইনুসাইটিস
থেকে এ ধরণের মাথা ব্যথা হয়ে থাকে।
চিকিতৎসা :
চিকিতৎসা হিসাবে এন্টিবায়োটিক, এন্টিহিস্টামিন, নাজাল
ডিকনেজস্ট্যান্ট বা নাজাল স্প্রে দেওয়া হয়।
৫. চক্ষুজনিত মাথা ব্যথা
শতকরা ৫ ভাগ মাথা ব্যথা চক্ষুজনিত। চোখের
দৃষ্টিশক্তি কম থাকলে মাথা ব্যথা হতে পারে।
অনেকক্ষণ পড়াশুনা করা, সেলাই করা, সিনেমা দেখা
বা কম্পিউটার স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলেও মাথা
ব্যথা হতে পারে। চোখের কোন রোগ
যেমন- কর্ণিয়া, আইরিশের প্রদাহ, গ্লুকোমা বা
রেট্রোবালবার নিউরাইটিস ইত্যাদি কারণেও মাথা ব্যথা
হতে পারে। চক্ষুজনিত মাথা ব্যথা সাধারণত:
চোখে, কপালের দু’দিকে বা মাথার পিছনে হয়ে
থাকে। চক্ষুজনিত মাথা ব্যথায় চক্ষু বিশেষজ্ঞের
শরণাপন্ন হওয়া উচিত।
৬. হরমোনজনিত মাথা ব্যথা
মহিলাদের মাসিক কালীন সময়ে
প্রোজেষ্টেরন ও এষ্ট্রোজেন
হরমোনের উঠানামার কারণে মাথা ব্যথা হতে
পারে। জন্ম নিয়ন্ত্রণ বড়ি খেলেও মাথা ব্যথা
হতে পারে। মাসিক চক্র শেষ হলে বা জন্ম
নিয়ন্ত্রণ বড়ি খাওয়া বন্ধ করলে এ ধরণের মাথা ব্যথা
ভাল হয়ে যায়।