অনেক সময় কিছু রোগীকে দীর্ঘ
মেয়াদি জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে
দেখা যায় যার সঠিক কারন জানা যায়না এবং অনেক
অষুধ খাবার পরেও নিরাময়ের কোনো
লক্ষন দেখা যায়না। এমন একটি জ্বরই পি,ইউ,ও
বা Pyrexia of Unknown Origin.সাধারনত এই
জ্বর তিন সপ্তাহের বেশী স্থায়ী হয়
এবং রোগীর তাপমাত্রা ৩৮.৩ ডিগ্রি
সেন্টিগ্রেডের বেশী থাকে।
টিবি, ম্যালেরিয়া, কালাজর, লিভারের ফোড়া,
হৃদপিন্ডের ইনফ্লামেশন (Endocarditis),
কিছু ক্যান্সার জাতীয় রোগ, এসএলই (SLE),
পিএএন (PAN), গ্রানুলোমেটাস ডিজিজ
(Granulomatous disease), শিরার
ইনফ্লামেশন (Thromboflebitis) সহ নানা
কারনে পিইউও হতে পারে।
এ ধরনের রোগীকে জ্বরের কারন
নির্নয়ের জন্য বিভিন্ন ধরনের রক্ত
পরীক্ষা, প্রস্রাব, সিরাম, এক্সরে,
আল্ট্রাসনোগ্রাম, লিভার ও বোন
মেরো বায়োপসি সহ নানাবিধ পরীক্ষা
করানোর প্রয়োজন হতে পারে। PUO
এর নিরাময় সম্ভব।অভিজ্ঞ মেডিসিন
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এর তত্ত্বাবধানে
হাসপাতালে ভর্তি থেকে এ রোগের
চিকিৎসা করানো উচিত।
টাইফয়েডের কারন, লক্ষণ ও চিকিৎসা
টাইফয়েড রোগের জীবাণু হলো
সালমোনেলা টাইফি (প্যারা টাইফয়েডের-
সালমনেলা প্যারা টাইফি)।
লক্ষণঃ প্রথমে অল্প মাত্রার জর হলেও এর
তীব্রতা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায় এবং ৪ -৫
দিন পর তা অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রায় পৌছে। এর
সাথে মাথা ব্যথা, শরীর ও হাতে পায়ে ব্যথা
সহ গা ম্যাজ ম্যাজ করা ভাব ও থাকে।
পরীক্ষাঃ ব্লাড কালচার এর নির্দিষ্ট পরীক্ষা,এ
ছাড়া ভিডাল (widal) টেষ্ট দ্বারাও এরোগ
নির্ণয় করা যায় ।
চিকিৎসাঃ ব্লাড কালচার এর ফলাফল অনুযায়ী অথবা
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট
এন্টিবায়োটিক সেবন করতে অথবা শিরায়
গ্রহন করতে হয়।
সাবধাণতাঃ চিকিৎসা না নিলে এ রোগের জটিলতা
হিসাবে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
চিকেন পক্সের লক্ষণ, চিকিৎসা, প্রতিকার
জীবানুঃ ভ্যারিসেলা জোস্টার নামক ভাইরাস।
বিবরণঃ খুব ছোয়াচে একটি রোগ,মূলত
শিশুরাই এর আক্রমনের শিকার হয় তবে
বয়স্করাও এর হাত থেকে নিরাপদ নয়।
লক্ষনঃ সাধারণত আক্রান্ত কোনো ব্যক্তির
সংষ্পর্শে এলে ২-৩ সপ্তাহ পরে এই
রোগের লক্ষন দেখা দেয়। প্রথম
দিকে হঠাৎ করেই জ্বর আসে, পিঠের
পিছনের দিকে ব্যথা হয় এবং গা ম্যাজ ম্যাজ
করে। জর আসার ১ অথবা ২ দিন পর প্রথমে
শরীরের উপরের অংশে এবং পরে মুখ ও
হাতে পায়ে ফুস্কুরির মতো গোটা উঠে।
১ দিনের মধ্যেই এটা পেকে যায় বা এতে
পুঁজ জমে। অল্প কিছু দিনেই এটা শুকিয়ে
চল্টা পড়ে।
জটিলতাঃ অনেক সময় এর জটিলতা হিসাবে
নিউমোনিয়া, এনকেফেলাইটিস,
গ্লুমেরুলোনেফ্রাইটিস সহ ইত্যাদি
রোগ হতে পারে।
চিকিৎসাঃ শিশুদের লক্ষন উপশম ব্যতিত
তেমন কোন চিকিৎসার প্রয়জন নেই।
তবে ফুস্কুরিতে ইনফেকশন হলে
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এন্টিবায়টিক
খেতে হতে পারে। যেসব রোগীর
রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা কম অথবা
যাদের বয়স বেশী কিংবা রোগের
তীব্রতা বেশী তাদের চিকিৎসকের
পরামর্শ অনুযায়ী এন্টিভাইরাল
(এসাইক্লোভির)খেতে হতে পারে।
কালাজ্বরের কারন, লক্ষণ ও চিকিৎসা
হিন্দি দুটি শব্দ কালা এবং আজর থেকে
কালাজ্বর শব্দটি এসেছে। কালা অর্থ কাল এবং
আজর শব্দের অর্থ ব্যাধি।তাই যে অসুখে
ভুগলে শরীর কালো হয়ে যায় তাকে
কালাজ্বর বলে।লিশমেনিয়া ডোনোভানি
জাতীয় প্রটোজোয়া যা স্যান্ড ফ্লাই দাড়া
মানুষে সংক্রমিত হয়।
লক্ষনঃ প্রথমে অল্প মাত্রার জর থাকলেও
পরবর্তীতে তা তীব্র মাত্রা ধারণ করে
এবং নিয়মিত বিরতিতে আসা যাওয়া করে।
ধীরে ধীরে মুখের রঙ কালচে হয়ে
যাওয়া সেই সাথে কাশি এবং ডায়রিয়া ও থাকতে
পারে।
পরীক্ষাঃ অস্থি মজ্জা থেকে স্মেয়ার
নিয়ে জীবানু সনাক্ত করা হয়, লিম্ফ নোড,
লিভার বা প্লিহা (spleen)থেকেও স্মেয়ার
নেয়া যায়, এসব কালচার করেও জীবানু
নিশ্চিত করা যায়। রক্ত (সেরোলোজিকাল)
পরীক্ষার মাধ্যমে ও এই রোগ নির্ণয়
(৯৫%) করা যায়।
চিকিৎসাঃ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী
সোডিয়াম স্টিলবোগ্লুকোনেট নামক
ঔষধ শিরায় প্রয়োগ করতে হয়।
ডেংগু/ডেঙ্গী জ্বরের কারন, লক্ষণ ও
চিকিৎসা
দুই ধরণের ডেঙ্গু রোগ লক্ষ্য করা
যায়,ক্লাসিকাল ডেংগু ও হেমোরেজিক
ডেংগু।ক্লাসিকাল ডেংগু রোগ হলে হঠাৎ
করে তীব্র জর,মাথা ব্যাথা, তীব্র শরীর
ব্যাথা সেই সাথে rash উঠতে পারে, যা
প্রথমে পায়ে এবং পরে বুকে এবং পিঠের
দিকে ছড়ায়। সাধারণত ৩-৪ দিন পর জর চলে
যায় এবং পরে তা আবার অল্প মাত্রায় আসতে
পারে।
হেমোরেজিক ডেংগু হলো দুই
ধরণের ডেঙ্গুর সবচেয়ে খারাপ ধরণ টি।
সাধারণত একই রোগীর দ্বিতীয় বার
ডেংগু জর হলে এমনটি হয় বলে ধরে
নেয়া হয়। রোগটি শুরু হয় অল্প মাত্রার জর
দিয়ে এবং শিশুরাই এতে বেশি আক্রান্ত হয়।
এ রোগ হলে হঠাৎ করেই রোগী শক
এ চলে যেতে পারে এবং ত্বক, কান, নাক
এমনকি পায়ুপথ দিয়ে রক্তপাত শুরু হতে
পারে।এই ধরনের ডেংগু জরে রোগীর
মৃত্যুর হার বেশী।
পরীক্ষাঃ বিভিন্ন পরীক্ষার
(নিউট্রালাইজেশন,সিএফটি,হিমাগ্লুটিনেশন)মাধ্যমে
রক্তে ডেংগুর এন্টিবডি দেখে এই রোগ
শনাক্ত করা হয়। রক্তে প্লাটেলেট কমে
যায় বলে বার বার প্লাটেলেট কাউন্ট ও
এস,জি,পি,টি পরীক্ষা সহ অন্য পরীক্ষাও করা
হয়ে থাকে।
চিকিৎসাঃ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ
অনুযায়ী হাসপাতালে ভর্তি হয়েই এই
রোগের চিকিৎসা নেয়া উচিত।
মেয়াদি জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে
দেখা যায় যার সঠিক কারন জানা যায়না এবং অনেক
অষুধ খাবার পরেও নিরাময়ের কোনো
লক্ষন দেখা যায়না। এমন একটি জ্বরই পি,ইউ,ও
বা Pyrexia of Unknown Origin.সাধারনত এই
জ্বর তিন সপ্তাহের বেশী স্থায়ী হয়
এবং রোগীর তাপমাত্রা ৩৮.৩ ডিগ্রি
সেন্টিগ্রেডের বেশী থাকে।
টিবি, ম্যালেরিয়া, কালাজর, লিভারের ফোড়া,
হৃদপিন্ডের ইনফ্লামেশন (Endocarditis),
কিছু ক্যান্সার জাতীয় রোগ, এসএলই (SLE),
পিএএন (PAN), গ্রানুলোমেটাস ডিজিজ
(Granulomatous disease), শিরার
ইনফ্লামেশন (Thromboflebitis) সহ নানা
কারনে পিইউও হতে পারে।
এ ধরনের রোগীকে জ্বরের কারন
নির্নয়ের জন্য বিভিন্ন ধরনের রক্ত
পরীক্ষা, প্রস্রাব, সিরাম, এক্সরে,
আল্ট্রাসনোগ্রাম, লিভার ও বোন
মেরো বায়োপসি সহ নানাবিধ পরীক্ষা
করানোর প্রয়োজন হতে পারে। PUO
এর নিরাময় সম্ভব।অভিজ্ঞ মেডিসিন
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এর তত্ত্বাবধানে
হাসপাতালে ভর্তি থেকে এ রোগের
চিকিৎসা করানো উচিত।
টাইফয়েডের কারন, লক্ষণ ও চিকিৎসা
টাইফয়েড রোগের জীবাণু হলো
সালমোনেলা টাইফি (প্যারা টাইফয়েডের-
সালমনেলা প্যারা টাইফি)।
লক্ষণঃ প্রথমে অল্প মাত্রার জর হলেও এর
তীব্রতা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায় এবং ৪ -৫
দিন পর তা অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রায় পৌছে। এর
সাথে মাথা ব্যথা, শরীর ও হাতে পায়ে ব্যথা
সহ গা ম্যাজ ম্যাজ করা ভাব ও থাকে।
পরীক্ষাঃ ব্লাড কালচার এর নির্দিষ্ট পরীক্ষা,এ
ছাড়া ভিডাল (widal) টেষ্ট দ্বারাও এরোগ
নির্ণয় করা যায় ।
চিকিৎসাঃ ব্লাড কালচার এর ফলাফল অনুযায়ী অথবা
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট
এন্টিবায়োটিক সেবন করতে অথবা শিরায়
গ্রহন করতে হয়।
সাবধাণতাঃ চিকিৎসা না নিলে এ রোগের জটিলতা
হিসাবে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
চিকেন পক্সের লক্ষণ, চিকিৎসা, প্রতিকার
জীবানুঃ ভ্যারিসেলা জোস্টার নামক ভাইরাস।
বিবরণঃ খুব ছোয়াচে একটি রোগ,মূলত
শিশুরাই এর আক্রমনের শিকার হয় তবে
বয়স্করাও এর হাত থেকে নিরাপদ নয়।
লক্ষনঃ সাধারণত আক্রান্ত কোনো ব্যক্তির
সংষ্পর্শে এলে ২-৩ সপ্তাহ পরে এই
রোগের লক্ষন দেখা দেয়। প্রথম
দিকে হঠাৎ করেই জ্বর আসে, পিঠের
পিছনের দিকে ব্যথা হয় এবং গা ম্যাজ ম্যাজ
করে। জর আসার ১ অথবা ২ দিন পর প্রথমে
শরীরের উপরের অংশে এবং পরে মুখ ও
হাতে পায়ে ফুস্কুরির মতো গোটা উঠে।
১ দিনের মধ্যেই এটা পেকে যায় বা এতে
পুঁজ জমে। অল্প কিছু দিনেই এটা শুকিয়ে
চল্টা পড়ে।
জটিলতাঃ অনেক সময় এর জটিলতা হিসাবে
নিউমোনিয়া, এনকেফেলাইটিস,
গ্লুমেরুলোনেফ্রাইটিস সহ ইত্যাদি
রোগ হতে পারে।
চিকিৎসাঃ শিশুদের লক্ষন উপশম ব্যতিত
তেমন কোন চিকিৎসার প্রয়জন নেই।
তবে ফুস্কুরিতে ইনফেকশন হলে
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এন্টিবায়টিক
খেতে হতে পারে। যেসব রোগীর
রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা কম অথবা
যাদের বয়স বেশী কিংবা রোগের
তীব্রতা বেশী তাদের চিকিৎসকের
পরামর্শ অনুযায়ী এন্টিভাইরাল
(এসাইক্লোভির)খেতে হতে পারে।
কালাজ্বরের কারন, লক্ষণ ও চিকিৎসা
হিন্দি দুটি শব্দ কালা এবং আজর থেকে
কালাজ্বর শব্দটি এসেছে। কালা অর্থ কাল এবং
আজর শব্দের অর্থ ব্যাধি।তাই যে অসুখে
ভুগলে শরীর কালো হয়ে যায় তাকে
কালাজ্বর বলে।লিশমেনিয়া ডোনোভানি
জাতীয় প্রটোজোয়া যা স্যান্ড ফ্লাই দাড়া
মানুষে সংক্রমিত হয়।
লক্ষনঃ প্রথমে অল্প মাত্রার জর থাকলেও
পরবর্তীতে তা তীব্র মাত্রা ধারণ করে
এবং নিয়মিত বিরতিতে আসা যাওয়া করে।
ধীরে ধীরে মুখের রঙ কালচে হয়ে
যাওয়া সেই সাথে কাশি এবং ডায়রিয়া ও থাকতে
পারে।
পরীক্ষাঃ অস্থি মজ্জা থেকে স্মেয়ার
নিয়ে জীবানু সনাক্ত করা হয়, লিম্ফ নোড,
লিভার বা প্লিহা (spleen)থেকেও স্মেয়ার
নেয়া যায়, এসব কালচার করেও জীবানু
নিশ্চিত করা যায়। রক্ত (সেরোলোজিকাল)
পরীক্ষার মাধ্যমে ও এই রোগ নির্ণয়
(৯৫%) করা যায়।
চিকিৎসাঃ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী
সোডিয়াম স্টিলবোগ্লুকোনেট নামক
ঔষধ শিরায় প্রয়োগ করতে হয়।
ডেংগু/ডেঙ্গী জ্বরের কারন, লক্ষণ ও
চিকিৎসা
দুই ধরণের ডেঙ্গু রোগ লক্ষ্য করা
যায়,ক্লাসিকাল ডেংগু ও হেমোরেজিক
ডেংগু।ক্লাসিকাল ডেংগু রোগ হলে হঠাৎ
করে তীব্র জর,মাথা ব্যাথা, তীব্র শরীর
ব্যাথা সেই সাথে rash উঠতে পারে, যা
প্রথমে পায়ে এবং পরে বুকে এবং পিঠের
দিকে ছড়ায়। সাধারণত ৩-৪ দিন পর জর চলে
যায় এবং পরে তা আবার অল্প মাত্রায় আসতে
পারে।
হেমোরেজিক ডেংগু হলো দুই
ধরণের ডেঙ্গুর সবচেয়ে খারাপ ধরণ টি।
সাধারণত একই রোগীর দ্বিতীয় বার
ডেংগু জর হলে এমনটি হয় বলে ধরে
নেয়া হয়। রোগটি শুরু হয় অল্প মাত্রার জর
দিয়ে এবং শিশুরাই এতে বেশি আক্রান্ত হয়।
এ রোগ হলে হঠাৎ করেই রোগী শক
এ চলে যেতে পারে এবং ত্বক, কান, নাক
এমনকি পায়ুপথ দিয়ে রক্তপাত শুরু হতে
পারে।এই ধরনের ডেংগু জরে রোগীর
মৃত্যুর হার বেশী।
পরীক্ষাঃ বিভিন্ন পরীক্ষার
(নিউট্রালাইজেশন,সিএফটি,হিমাগ্লুটিনেশন)মাধ্যমে
রক্তে ডেংগুর এন্টিবডি দেখে এই রোগ
শনাক্ত করা হয়। রক্তে প্লাটেলেট কমে
যায় বলে বার বার প্লাটেলেট কাউন্ট ও
এস,জি,পি,টি পরীক্ষা সহ অন্য পরীক্ষাও করা
হয়ে থাকে।
চিকিৎসাঃ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ
অনুযায়ী হাসপাতালে ভর্তি হয়েই এই
রোগের চিকিৎসা নেয়া উচিত।






0 মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন