Aegis Pharmaceuticals merges with
Hunter-Fleming Ltd ( Int. school of
Bristol Med. Uni ) , Virology and
Immunology support group ( UK ) –
Bangladesh Journal of
Otorhinolaryngology –IACIB ( Dhaka )
Updated And created by Dr.H.Kamaly )
মুল তথ্য আবিস্কারক ঃ ১৮১৯ সালে চিকিসক
জন বোস্টক প্রথম হে ফিভার শনাক্ত
করেন এবং ১৯০৬ সালে বিজ্ঞানী
ক্লোমেনস্ পিরকোয়েট অ্যালার্জির
কৌশল আবিষ্কার করেন। )
অ্যালার্জি কি ?
সাধারণত মানুষের শরীর সবসময়ই
ক্ষতিকর বস্তুকে (পরজীবী, ছত্রাক,
ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া) প্রতিরোধের
মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধের চেষ্টা
করে বা এই প্রচেষ্টাকে রোগ
প্রতিরোধ প্রক্রিয়া বা ইমিউন বলা হয়
কিন্ত কখনো কখনো আমাদের
শরীর সাধারণত ক্ষতিকর নয় এমন
অনেক ধরনের বস্তুকেও ইমিউন
সিস্টেম ক্ষতিকর ভেবে
প্রতিরোধের চেষ্টা করে। অথচ তা
ক্ষতিকর নয় এমনসব বস্তুর প্রতি
শরীরের এ অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়াকে
অ্যালার্জি বলা হয়।অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী
বহিরাগত বস্তুগুলোকে অ্যালার্জি
উৎপাদক বা অ্যালাজেন বলা হয়। এ সময়
প্রতিরোধক এন্টিবডির সাথে একত্রিত
হয় শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন
আরো অনেক রাসায়নিক পদার্থ। এরপর
শুরু হয় প্রতিক্রিয়া। সব শেষে
প্রতিরোধ ব্যবস্থার অংশ হিসেবে
বের হয় হিস্টামিন। কোনো
কোনো ক্ষেত্রে রাসায়নিক পদার্থটি
বহিরাগত অচেনা বস্তুটিকে নিষ্ক্রিয় এবং
নিষ্ক্রান্ত করে, আবার অনেক সময় এই
ভয়ানক প্রতিক্রিয়ায় শরীর নিজেই
অসুস্থ হয়ে পড়ে। ইহাই অ্যালার্জি ।
অ্যালার্জিক রাইনাইটিস বা নাকের এলার্জি দুই
ধরনের ১- সিজনাল অ্যালার্জিক রাইনাইটিস
২- পেরিনিয়াল অ্যালার্জিক রাইনাইটিস
হে ফিভার বা নাকের সর্দির এর কারণ :
বিভিন্ন কারণে এই সংক্রমণ হতে পারে।
এর নির্দিষ্ট একক কোন কারণে নেই।
এলার্জিক হওয়ায় কারন একেক জনের
কাছে একেক রকম কারণে তা হয় ।
যেমন- ধূলাবালি, ফুলের রেণু, হঠাৎ
ঠান্ডা-গরমের মিশ্রণ, অতিরিক্ত গরম,
অতিরিক্ত ঠান্ডা, আবহাওয়ার পরিবর্তন, সুতার
আঁশ, রান্নার গন্ধ, মসল্লার উগ্র খাবারের
গন্ধ, এলার্জিক খাবার ইত্যাদি (ব্যক্তি
ভেদে একেক জনের নিকট একেক
খাদ্য)। ধূলাবালি এবং ফুলের রেণু বিশেষ
করে ঘাস ফুলের রেণু থেকে
ছড়ানো এলার্জি হে ফিভারের অন্যতম
কারণ।
সিজনাল অ্যালার্জিক রাইনাইটিস : ( ঋতু
পরিবর্তনে নাকের সর্দি )
বছরের একটি নির্দিষ্ট সময় অ্যালার্জিক
রাইনাইটিস হলে একে সিজনাল অ্যালার্জিক
রাইনাইটিস বলা হয়। । এই রোগের
কোনো নির্দিষ্ট বয়সসীমা নেই,
সকল বয়সের মানুষেরই এ রোগ
হয়ে থাকে । । হে ফিভার কোন
ক্রণিক রোগ নয়, বরং তৎক্ষণাৎ বা হঠাৎ
এই উপসর্গ দেখা দেয়।
ঋতু পরিবর্তনের সময় এ ধরণের
উপসর্গ বেশি দেখা যায়। অর্থাৎ বিশেষ
ঋতুতে বিশেষ কোনো ফুল
(যেমন- ঘাসফুল বা সজিনা ফুল বা যে
কোন ফুলের রেনু ) ফুটলে
বাতাসের সঙ্গে তার রেণু ভেসে
নিঃশ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ
করে ও অ্যালার্জেন সৃষ্টি করে।
সাধারণত ঘাস ফুলের রেণু থেকেই
বেশি অ্যালার্জি হয়।সাধারণত
গ্রীষ্মের শেষে এবং বর্ষা ও
শরতে এ রোগের প্রকোপ বেশি
দেখা যায়।
আগেকার দিনে মনে করা হতো খড় বা
পেঘ্রান থেকে এই রোগের
উৎপত্তি । আসলে এই রোগ দেখা
দেয় পুষ্পরেণু থেকে যা শরীরে
প্রবেশের সময় রোগ
প্রতিরোধমূলক শক্তির একটা প্রতিক্রিয়ার
মাধ্যমে। কার ও বেলায় চোখ এবং
নাকের বাতাস চলাচলের রাস্তাআক্রান্ত
হয় ।
লক্ষণ :
অনবরত হাঁচি, হঠাৎ করে একের পর এক
হাঁচি। দুর্দমনীয় হাঁচির সাথে নাক দিয়ে
তরল পানি ঝরা, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া।
নাকের আগা, চোখ ও মুখ লাল হওয়া এবং
মুখমন্ডলে ফুলাফুলা ভাব। নাকের
ভেতর শির শির করা, মাথা ব্যথা ও
ভারবোধ, চোখ চুলকায়। কোন
কোন সময় হাল্কা কাশি হতে পারে ,
শরীরে জ্বর থাকে না বা মৃদু জ্বর
থাকে ইত্যাদি —
ঋতু পরিবর্তন জনিত কারণে অ্যালার্জিক
রানাইটিস যোক্ত হয়ে এর মাত্রা একটু
বেশি বৃদ্ধি করে অনেক সময় (এ
সময়ে রাইনো ভাইরাস যোক্ত হয়ে
পরিস্থিতি কিছুটা খারাপ করে দিতে পারে )
— ঘন ঘন হাঁচি হয়– নাকের জল গড়িয়ে
পড়ে– নাকে জ্যাম জ্যাম অনুভূতি হয়।–
ক্ষেত্র বিশেষে চোখ দিয়ে জল
গড়ায়।– চোখের নিচের পাতা ফুলে
যায়–চোখে লালচে উপসর্গ তৈরি হয়–
চোখে কনজাং টিভার সংক্রমণ ও প্রদাহ
হয়। তবে সচরাচর তা ২থেকে ৭দিনের
মধ্যে সেরে যায়।
পেরিনিয়াল অ্যালার্জিক রাইনাইটিস ( সব
সময়ে নাকের সর্দি ) :
সারাবছর ধরে অ্যালার্জিক রাইনাইটিস হলে
একে পেরিনিয়াল অ্যালার্জিক রাইনাইটিস বলা
হয়। পেরিনিয়াল অ্যালার্জিক রাইনাটিসের
উপসর্গগুলো সিজনাল অ্যালার্জিক
রাইনাইটিসের মতো।কিন্ত
এক্ষেত্রে উপসর্গগুলোর তীব্রতা
কম ও স্থায়িত্বকাল বেশি হয়।
এ রোগের সম্ভাব্য কারণগুলো
হলোঃ- সারা বছর ধরে অ্যালার্জি জনিত
নাসিকা প্রদাহের একটি সুনির্দিষ্ট কারণ
হলো ঘরের অ্যালার্জি উদ্দীপক
ধূলিময়লা ( মাইট ) , ছত্রাক-স্পোর, প্রাণির
পরিত্যক্ত লোম বা ত্বকের কোষ।
আবার একই রকম উপসর্গ ভৌত কিংবা রাসায়নিক
উদ্রেককারী পদার্থ যেমন ঃ ধোঁয়া,
দূর্গন্ধ, ঠান্ডা হাওয়া, অতি শুষ্ক
পরিবেশ,অতিরিক্ত পুরাতন অপরিষ্কার
কার্পেট , ফুড এলারজি জাতীয় খাবার,
সিগারেটের ধোয়া ইত্যাদি বিষয় সমূহ
লক্ষণীয়। এই ধরণের উপসর্গ জনিত
অ্যালার্জিক রাইনাইটিসকে
ভ্যাসোমোটর রাইনাইটিস বলা হয় ।
তবে এলার্জি জনিত কারণে হলে তা
দীর্ঘস্থায়ী রোগ বা ক্রণিকে রূপ
লাভ করতে পারে। । অনেক
ক্ষেত্রে “হিউম্যান রাইনো” নামক
ভাইরাস থেকে সংক্রামিত হয়ে থাকে বা
খাবার-দাবার থেকে অ্যালার্জি হলে ও
প্রায় সারাবছরই এ ধরণের উপসর্গগুলো
দেখা দেয়। এ রোগের নামকরণে
জ্বর শব্দটি থাকলেও মূলত এটি কোন
জ্বর না। অসুখের প্রথম পর্যায়ে
কোন জিনিস থেকে এ রোগের
সূত্রপাত প্রথমে তা নির্ণয় এবং সেসব
বস্তু (যেমন- ধুলাবালি, বিশেষ কোন
খাবার) থেকে দূরে থাকলেই রোগ
সেরে যায়।
পেরিনিয়াল অ্যালার্জিক রাইনাইটিস লক্ষণ ঃ-
পেরিনিয়াল অ্যালার্জিক রাইনাইটিসের
উপসর্গগুলো সিজনাল অ্যালার্জিক
রাইনাইটিসের মতো। কিন্তু এ
ক্ষেত্রে উপসর্গগুলোর তীব্রতা
কম হয় এবং স্থায়িত্ব বেশি হয় ——( সেই
সাথে অ্যাজমা বা হাঁপানি অথবা ফুস্ফুসের
অন্যান্য অসুখ , কারও বেলায় একটু বেশি
থাকতে ও পারে )
এর উপসর্গ হচ্ছে কাশি, ঘন ঘন শ্বাসের
সঙ্গে বাঁশির মতো শব্দ হওয়া বা বুকে
চাপ চাপ লাগা, বাচ্চাদের ৰেত্রে মাঝে
মাঝে ঠাণ্ডা লাগা। রাতে ঘুম থেকে
উঠে বসে থাকা — সাইনাসের প্রদাহ
বেড়ে যাওয়া – রোগীর প্রচন্ড –
ক্লান্তি অনুভব করা । নিদ্রাহীনতায়
ভোগা – যে দিকে ঘুমানো হয় এর
উল্টো দিকের নাসারন্ধ্র বন্ধ হয়ে
থাকা -এ ধরণের আক্রান্ত রোগিরা কার ও
সাথে কথা বলতে বারে বারে নাকে
হাত নিয়ে কথা বলতে অভ্যাস হয়ে যায়
বা কাউকে দূর থেকে দেখলে সব
সময় ই নাকের ভিতর আঙ্গুল দিয়ে নাক
পরিষ্কার করার বদ অভ্যাস প্রায় ই নজরে
পরে — ইত্যাদি । এ্যাজমা রোগীরা হে
ফিভারে আক্রান্ত হলে রোগের
প্রকোপ বেড়ে যায়।
প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা কি
রোগীর পারিপার্শ্বিক বা বংশানুক্রমিক
ইতিবৃত্ত অবশ্যই ভালভাবে জানা
প্রয়োজন সেই সাথে
সিরাম আইজিইয়ের মাত্রা : সাধারণত এলার্জি
রোগীদের ক্ষেত্রে
আইজিইয়ের মাত্রা বেশি থাকে।
স্কিন প্রিক টেস্ট : এই পরীক্ষায়
রোগীর চামড়ার ওপর বিভিন্ন
এলারজেন দিয়ে পরীক্ষা করা হয় এবং
এই পরীক্ষাতে কোন কোন
জিনিসে রোগীর এলার্জি আছে তা ধরা
পড়ে এবং সঠিক এলারজেন ধরা পড়ে ।
অর্থাৎ কোন ধরণের রেনুতে
রোগীর এলার্জি রয়েছে তা অবশ্যই
খুঁজে বের করতে হবে এবং
সেক্ষেত্রে সন্দেহভাজন রেনুর
নির্যাস দেখে স্কীন টেস্ট করলে
তা জানা যায়। আর এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে
যেহেতু প্রকৃত এলার্জি সৃষ্টিকারি রেনু
সনাক্ত করা যায় তাই নির্দিষ্ট সেই রেনুর
নির্যাস ব্যবহার করে
হাইপোসেনসিটাইজেশন পদ্ধতিতে
চিকিৎসা করলে ভাল ফলাফলও পাওয়া যায়।
রক্ত পরীক্ষা বিশেষতঃ
ইয়োসিনোফিলের মাত্রা বেশি
আছে কিনা তা দেখা। সিরাম আইজিই এর
মাত্রা ঃ সাধারণত এলার্জি রোগীদের
ক্সেত্রে আইজিই এর মাত্রা বেশি
থাকে।। সাইনাসের এক্স-রে অনেক
সময় প্রয়োজন হতে পারে –
চিকিৎসাঃ-
সমন্বিতভাবে এ রোগের চিকিৎসা
হলোঃ এলারজেন পরিহার- যখন এলার্জির
সুনির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া যায় তখন তা
পরিহার করে চললেই সহজ উপায়ে
এলার্জি নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং ঠান্ডা বাতাসে
চলাফেরা না করা সেই সাথে নাকের পানি
ও এলারজি প্রতিরোধ করার জন্য ওষুধ
প্রয়োগ করতে পারেন এবং ইহা
সাময়িকভাবে এলার্জির উপশম অনেকটা
পাওয়া যায়। এ রোগের প্রধান ওষুধ
হলো এন্টিহিস্টামিন ও নেজাল
স্টেরয়েড। এন্টিহিস্টামিন, নেসাল
স্টেরয়েড ইত্তাদির ব্যবহারে
রোগের লক্ষণ তাৎক্ষণিকভাবে
উপশম হয়। যেহেতু স্টেরয়েডের
বহুল পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া তাই এ ওষুধ
একনাগাড়ে বেশিদিন ব্যবহার করা যায় না।
যতদিন ব্যবহার করা যায় ততদিনই ভাল থাকে
এবং ওষুধ বন্ধ করলেই আবার রোগের
লক্ষ্মণগুলো দেখা দেয়।
( চিকিৎসকের পরামর্ষ নিয়েই নিচের
ব্যাবস্থা গ্রহন করা উচিৎ ) যেমন ঃ-
– অ্যান্টি হিস্টামিন জাতীয় ঔষধ সেবন ঃ
লোরাটাডিন ১০ মিঃ গ্রাঃ দৈনিক ১টা করে
একমাস।
সোডিয়াম ক্রোমোগ্লাইকেট
ন্যাসাল স্প্রে- দুই নাকের ছিদ্রে দিনে
৪ হতে ৬ বার।
বেকলোমিথাসোন ডাই
প্রোপিওনেট বা বুডিসোনাইড
জলীয় ন্যাসাল স্প্রে প্রতি নাকের
ছিদ্রে দিনে ২বার ব্যবহার ।
যে সকল রোগী উপরের চিকিৎসায়
বিফল তাদের ক্ষেত্রে দীর্ঘ-
কার্যকরী কর্টিকোস্টেরয়েড
মাংশে ইনজেকশেন রূপে ব্যবহার
করলে উপসর্গ উপশম হয় তবে তা
বেশি দিন ব্যাবহার করলে জীবন
ধংশকারির মত মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন
হতে পারেন । )
পুরানো অবস্থায় নাকের অসুবিধা থাকলে
বা নাক বেশি বন্ধ হলে Spray Antazol;
মাত্রা – শিশুদের জন্য ০.০৫% এবং
বয়স্কদের জন্য ০.১% নাকের ভিতর দিন
২-৩ বার দিতে পারেন –
শরীরে দূর্বলতা থাকলে ভিটামিন বি-
কমপ্লেক্স (B-Complex) জাতীয় ঔষধ
রক্তশুন্যতা থাকলে রক্তবর্ধক ঔষধ
Syp. Ferglucon জাতীয় ঔষধ
প্রয়োজন হতে পারে
এই ওষুধগুলো নিয়মিত এবং যথানিয়মে
ব্যবহার করতে হবে। সেই সঙ্গে
নিম্নের ঔষধ সমূহ দেওয়ার জন্য ও
উপদেশ দিয়ে থাকেন বিশেষজ্ঞরা ।
যেমন-চোখে মেডিকেটেড ড্রপ
ব্যবহারে আরাম পাওয়া যায়। এতে থাকে
উপশমী লুব্রিকান্ট, এন্টিহিস্টামিন এবং
স্টেরয়েড। নিয়মিত ব্যবহারে প্রদাহ
অনেক কমে যায়।
স্যুড্রোফেড্রিন টেবলেট নাকের
রাস্তা পরিষ্কার করে দেয় এবং শুষ্ক
রাখে। তবে এই ওষুধের কিছু
পার্শ¦প্রতিক্রিয়া আছে। যেমন
শরীরে মৃদু কম্পন, মুখের অসুবিধা,
দুশ্চিন্তা এবং রক্ত্চাপ বেড়ে যাওয়া সেই
কারণে যাদের উচ্চ রক্তচাপ আছে, তারা
এই ওষুধটি খাবেন না
।কার্টিসোল স্টেরয়েড ইঞ্জেকশন
না নেয়াই উত্তম। ইঞ্জেকশনের
ফলে মাত্র এক বা দুই সপ্তাহের উপশম
হয়। ফলে বার বার ইঞ্জেকশন দিতে
হয়। এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অনেক
মারাত্মক। সেই কারণে ক্যাটিনোল
স্প্রে নেয়া ভালো।
তবে ভ্যাসোমোটর অ্যালার্জিক
রাইনাইটিস চিকিৎসা দ্বারা নির্মূল করা খুভ
কঠিন। তবে এক্ষেত্রে
ইপ্রাট্রোপিয়াম ব্রোমাইড নাকের
ছিদ্রে দিনে ৩ হতে ৪ বার ব্যবহার
করলে উপকার পাওয়া যায়। মুলত এর জন্য
পরবিশে ও জল্বায়ুর পরিবর্তন করলে
অনেকে তা সেরে যায়
হার্বাল চিকিৎসা ঃ –
প্রথম অবস্থায় – আদার রস, বাসক পাতার
রস, তুলসী পাতার রস মধু দিয়ে খেলে
উপকার হয়।– গরম আদার চা খুবই
উপকারী।– ভিটামিন-সি যুক্ত ফল খাওয়া– .
কালোজিরা পুটলিতে বেধে নাক দিয়ে
ঘ্রাণ নিলে সর্দি ও হাঁচি বন্ধ হয়।
লবণ মিশ্রিত গরম পানি ব্যবহার ঃ- নাক বন্ধ
হয়ে গেল আধা গ্লাস হাল্কা গরম
পানিতে কয়েক চিমটি লবণ মিশিয়ে তা
নাকে টেনে নেয়া। বা আদা ও তুলসি
পাতার রস মধুর সাথে মিশিয়ে সেবন
করলে উপকার পাওয়া যায়। প্রাকৃতিক
উপাদানের মধ্যে রসুন বেশ উপকারী
।
সর্বশেষ প্রমাণিত কিছু ভেষজ এলারজিক
রানাইটিসের জন্য
বাটারবার ( Butterbur ) ঃ- (Petasites
hybridus, 500 mg per day) — ইহা
সাধারনত হাঁপানি এবং ব্রঙ্কাইটিসের মিউকাস
জাতীয় কাশি বাহির করতে খুভি ফলদায়ক
বিদায় এলারজিক রানাইটিসে ভাল সহায়ক
হিসাবে প্রমাণিত । ( রিসাচ ল্যাব )
বিছুটি জাতের গাছ Stinging nettle ঃ- (Urtica
dioica, 600 mg per day for one week)
— এলারজিক রানাইটিসের জন্য ফলদায়ক
তবে গর্ভ বতি মা এবং শিশুদের জন্য
নিষেধ ।
গুলঞ্চ Tinospora cordifolia ঃ- (300 mg
three times daily) — কিছুটা উপকারী
তবে দুধদাতা মা এবং শিশুদের জন্য
ক্ষতিকর ( রিচারচ চলিতেছে )
ভ্যাসোমোটর অ্যালার্জিক রাইনাইটিস
( Vasomotor rhinitis ) ঃ-
ইহা ও এক ধরণের হে ফিভার বা নাকের
সর্দি কিন্তু এর জন্য কোন ভাইরাস দায়ি
নয় – ( non-allergic rhinitis )
কারন সমূহ কি ? ঃ- শুষ্ক বায়ুমন্ডলের
আবহাওয়া , বায়ু দূষণ, অ্যালকোহল,
সিগারেট, কিছু ঔষধ, মসলাযুক্ত খাবার বা
শক্তিশালী কিছু রাসায়নিক পদার্থের
পাশে জীবন যাপন ইত্যাদি
লক্ষণ চিকিৎসা সব ই পেরিনিয়াল অ্যালার্জিক
রাইনাইটিস এর মত এবং শুধু মাত্র এর জন্য
সবচেয়ে ভাল ব্যাবস্তা বলতে একমাত্র
জলবায়ু পরিবর্তন করা ছাড়া সম্পূর্ণ ভাল
হওয়ার আসা করা অসম্বভ ( যেমন
গ্রীষ্ম প্রধান দেশের মানুষ যখন
শীত প্রধান দেশে এসে বস বাস
করেন তাদের মধ্যেই এই অসুখ টি
বেশি দেখা যায় ) এর জন্য ৮০% বেলায়
জলবায়ু বা পরিবেষ পরিবর্তন না করলে
সম্পূর্ণ ভাল হওয়া খুভি কস্টকর ।
ধুলোর জীবাণুগুলো কী কী
অতি ক্ষদ্র আনুবীক্ষণিক এ
প্রাণীগুলো আটপায়ের অ্যারাকনাইড়
পরিবারের অন্তর্গত। অাঁটুলি পোকা এবং
চিগার একই পরিবারভুক্ত। এগুলো শক্ত
দেহের অধিকারী। এরা ৭০ ডিগ্রী
ফারেনহাইট বা তার উচ্চ তাপমাত্রায়
ভালোভাবে বাঁচতে পারে। ৭৫-৮০
শতাংশ আর্দ্রতাই এদের পছন্দ। আর্দ্রতা
৪০-৫০ শতাংশের কম হলে এদের বংশ
বৃদ্ধি হয় না। শুষ্ক আবহাওয়ায় এদের দেখা
যায় না।
দেখা গেছে, শতকরা ১০ ভাগ মানুষ
এদের কারণে আক্রান্ত হয়। অ্যাজমা
রোগীদের মধ্যে শতকরা ৯০ জনই
এদের সংস্পর্শে এলে অ্যালার্জি
প্রতিক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়।
এ জীবাণুদের নুখ মুখ বা মলের
সংস্পর্শে মানুষের শরীর আসলেই
অ্যালার্জি হয়। এদের সবচেয়ে বেশি
দেখা যায় বালিশে, মাদুরে, কার্পেটের
ভাঁজে এবং আসবাবপত্রের তলায়। ঝাডু
দিলে বা ভ্যাকুয়াম ক্লিনার প্রয়োগ
করলে এরা বাতাসে ভাসতে থাকে অথবা
হেঁটে হেঁটে অন্যপ্রান্তে সরে
যায়। অ্যালার্জি রোগীদের শ্বাসের
সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করে এবং
উপসর্গ বাড়িয়ে দেয়। এক মুঠো
ধুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ১৯০০০
পর্যন্ত জীবাণু থাকতে পারে। গড়ে
এ সংখ্যা প্রতি গ্রামে ১০০০০। প্রত্যেক
জীবাণু দিনে ১০টি নতুন মাইটস সৃষ্টি
করে। এদের বেঁচে থাকার মেয়াদ ৩০
দিন। – ( আর ও জানতে ধুলা মাইটসে
দেখুন – )
অ্যালার্জি প্রতিরোধ ঃ-
অ্যালার্জি প্রতিরোধের একমাত্র উপায়
হলো, মুল কারণগুলো শনাক্ত করে তা
এড়িয়ে চলা। বিশেষ করে
রোগীকে খুব সতর্কতার সঙ্গে
খুঁজে বের করতে হবে তার
শরীরে কী কী কারণে অ্যালার্জি
হয়।
অ্যালার্জি চিকিৎসার বিভিন্ন ধাপ অনুসরণ করার
পর —রোগের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস এবং
অ্যালার্জির প্রকৃত কারণ শনাক্ত করার পর
ভ্যাকসিনের মাধ্যমে প্রতিরোধ করা
যেতে পারে। ( ১০০% নিশ্চিত )
এলার্জি ভ্যাকসিন বা ইমুথেরাপি ঃ এর মূল
উদ্দেশ্য হলো যে মাইট দ্বারা
এলার্জিক রাইনাইটিস সমস্যা হচ্ছে সেই
মাইট এলারজেন স্বল্প মাত্রায় প্রয়োগ
করা হয়। ক্রমান্বয়ে সহনীয় বেশি
মাত্রায় দেয়া হয় যাতে শরীরের
এলার্জির কোন প্রতিক্রিয়া দেখা না দেয়
কিন্তু শরীরের ইমিউন সিস্টিমের
পরিবর্তন ঘটায় বা শরীরের এলার্জির
বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলে
অর্থাৎ আইজিইকে আইজিজিতে পরিণত
করে ) তাই এ ধরনের এলার্জিক
রাইনাইটিসের ক্ষেত্রে
ইমুনোথেরাপি বা ভ্যাকসিন বেশি
কার্যকর।
গরম ও উষ্ণ তরল খাবার খাওয়া – নাকের
ভিতর পরিষ্কার রাখ উচিত-পরাগরেণুর
সংস্পর্শে না আসা– শীত বা বর্ষা
মৌসুমে যখন বাতাসে পরাগরেণু
ভেসে বেড়ায় তখন দরজা জানালা বন্ধ
রাখা-
যে উদ্দীপক অ্যালার্জি তৈরি করে
ত্বকের সংবেদন পরীক্ষার মাধ্যমে
সেই অ্যালার্জেন হতে দূরে থাকা
যেমন ঃ- অনেক ধরণের খাবার আছে যা
শুধু মাত্র আক্রান্ত ব্যাক্তি কে এড়িয়ে
চলতে হবে অর্থাৎ যার জন্য এ অ্যালার্জি
হয় তা থেকে দূরে থাকা উচিত
( সকলের এক ধরণের খাবারে এলারজি
বাড়ে ইহা ও সত্য নয়, তারপর ও চিংরি, বাদাম
এই সব খাবার একটু বেশি এলারজেটিক,
তবে সকলের বেলায় নয় )
সিজনাল সময়ে ঃ- ( ফ্যানের বাতাস বন্ধ
রাখুন এবং বাহিত থেকে রুমে আনা সাময়িক
বন্ধ করুন – বাহিরের রুদ্রে কাপড়
চোপড় না শুকানো ভাল –
গোসলের সময় জামা কাপড়ের
পরিবর্তন নিত্য করা উচিৎ – যদি পারেন
ইয়ার ফিল্টার রুমে ব্যাবহার সবছেয়ে
ভাল – )
যাদের সব সময় লেগে থাকে ঃ- সব
সময় আপনার বালিশ বা তোশকের কবার
পরিষ্কার না রাখলে মাইট থেকে হয়ে
থাকে । পুরাতন কার্পেট ,ফ্লোর অথবা
অথবা ব্যাবহারিক জিনিস পত্র এবং দরজা
জানালার পর্দা ইত্যাদি থেকে , ঘরের
পোষা পালিত যে কোন প্রানির লোম
থেকে হয় বিধায় এই সব বিষয় এড়িয়ে চলা
পুষ্পরেণু থেকে মুক্ত থাকার কিছু টিপস্ :
( সংগৃহীত )
দুপুর পর্যন্ত ঘরে থাকুন দুপুরের পরে
বাতাসে পুষ্পরেণুর পরিমাণ অপেক্ষাকৃত
কম হয়। ঝড়ো দিনে বা প্রবল বাতাস
থাকলে বাইরে যাবেন না।
* চোখ বাঁচানোর জন্য সানগ্লাস ব্যবহার
করুন
* বাগানের ঘাস কাটার কাজে নিয়োজিত
হওয়া চলবে না যদি কাটতেই হয়, তাহলে
মাস্ক পরে কাজ করবেন।
* বাড়ির বাগানে এমন ধরনের গাছ বেছে
বেছে লাগান যেগুলো এলার্জি তৈরি
করে না।
* বাড়ির জানালা বন্ধ রাখুন। বিশেষ করে
রাস্তায় চলার সময় গাড়ির কাঁচ তুলে
দেবেন।
* পরাগায়নের মৌসুমে বনভোজনে
অংশ নেয়া থেকে বিরত থাকুন।
* ছুটির দিনগুলো দূষণমুক্ত এলাকায়,
বিশেষ করে নদী বা সমুদ্রতীরে
কাটাতে পারেন।
* বাড়ির বাগানের কোন গাছ বা আগাছার
কারণে এলার্জি হচ্ছে, তা নিশ্চিতরূপ
জানতে পারলে গাছটি অপসারণ করুন।
* কাজ শেষে বাড়িতে ফিরেই
গোসল করুন। সুযোগ পেলেই
চোখে পানি দিয়ে পরিষ্কার করুন।
* সঙ্গে সব সময় রুমাল বা টিস্যু পেপার
রাখুন।
ধন্যবাদ ————— ( চলবে )
যারা নাকের সর্দিতে ভোগেন প্রায়
সময় , তারা সত্য কিছু কথা জেনে নেওয়া
ভাল !!!!
ইউকে ,ইউরোপ অ্যামেরিকা বা শীত
প্রধান দেশে ৮০% এর বেলায় নাকের
সর্দি, শিশুদের ঘন ঘন নিউমোনিয়া,হাঁপানি
বা শ্বাস কস্ট ইত্যাদি দেখা দেওয়ার মুল
কারন ঘরের কার্পেটের জমে থাকা
ডাস্ট এবং বিশুদ্ধ বাতাস ঘরে ঢুকতে না
দেওয়া ঠিক তদ্রুপ প্রাপ্ত বয়স্কদের
বেলায় যারা সব সময় গড়ি ব্যাবহার করেন
তাদের বেলায় না কমার কারন গাড়ির
ভিতরের ডাস্ট এবং বাহিরের কিছু ফ্রেস
বাতাস গাড়িতে ঢুকতে না দেওয়া – তাই
সামান্য বিষয় একটু খেয়াল রাখলে অনেক
ধরণের মারাত্মক অসুখের ঝুঁকি থেকে
রেহাই পেতে পারেন বলে আমার
বিশ্বাস —
অ্যালার্জি হলে ভালো হয় না ইহা সম্পূর্ণ
সত্য নয় । বিশেষ করে রোগীকে
খুব সতর্কতার সঙ্গে খুঁজে বের
করতে হবে তার শরীরে
কোনঅ্যালার্জেনের কারণে
অ্যালার্জি হয়েছে এবং সে জন্য
হাইপোসেনসিটাইজেশন পদ্ধতিতে
অনুসরণ করে বুজে নিবেন আপনার
কিসে অসুবিধা এবং তা থেকে বিরত
থাকলে ১০০% আশা করতে পারেন
সম্পূর্ণ সুস্থ থাকার এবং সেই সাথে
এলার্জি ভ্যাকসিন দিয়ে রাখুন যাতে আবার
পুন আক্রান্ত না হন – তবে পরিবেষ গত
কারণে হলে জল্বায়ুর পরিবর্তন না
করলে অনেক সময় তা কমানো খুভ
অস্টকর হয়ে যায় ।
এ ছাড়াও আমারা সবাই জানি এ জাতীয়
রোগের প্রধান ওষুধ হলো
এন্টিহিস্টামিন ও নেজাল স্টেরয়েড।
এন্টিহিস্টামিন, নেসাল স্টেরয়েড
ব্যবহার রোগের লক্ষণ
তাৎক্ষণিকভাবে ভাল হয় শুধু মাত্র সিসনাল
সর্দিতে কিন্তু যারা সারা বছর ধরে
ভোগেন তাদের বেলায় এ জাতীয়
ঔষধ সাময়িক কিছুটা ধ্মানো ছাড়া আর অন্য
কিছু নয় । অর্থাৎ স্টেরয়েডের বহুল
পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া তাই এ ওষুধ একনাগাড়ে
বেশিদিন ব্যবহার করা যায় না। যতদিন
ব্যবহার করা যায় ততদিনই ভাল থাকে এবং
ওষুধ বন্ধ করলেই আবার রোগের
লক্ষ্মণগুলো দেখা দেয়। অন্য দিকে
নাকের ড্রপ বেশি দিন ব্যাবহার করলে
নাকের পিছনের হাড়ের প্রদাহ বেড়ে
যায় বা বাকা হয়ে যায় – সে জন্য বেশি
দিন এই সব ঔষধ নিজের ইছছায় সেবন
থেকে বিরত থাকবেন ।
ধন্যবাদ
Hunter-Fleming Ltd ( Int. school of
Bristol Med. Uni ) , Virology and
Immunology support group ( UK ) –
Bangladesh Journal of
Otorhinolaryngology –IACIB ( Dhaka )
Updated And created by Dr.H.Kamaly )
মুল তথ্য আবিস্কারক ঃ ১৮১৯ সালে চিকিসক
জন বোস্টক প্রথম হে ফিভার শনাক্ত
করেন এবং ১৯০৬ সালে বিজ্ঞানী
ক্লোমেনস্ পিরকোয়েট অ্যালার্জির
কৌশল আবিষ্কার করেন। )
অ্যালার্জি কি ?
সাধারণত মানুষের শরীর সবসময়ই
ক্ষতিকর বস্তুকে (পরজীবী, ছত্রাক,
ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া) প্রতিরোধের
মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধের চেষ্টা
করে বা এই প্রচেষ্টাকে রোগ
প্রতিরোধ প্রক্রিয়া বা ইমিউন বলা হয়
কিন্ত কখনো কখনো আমাদের
শরীর সাধারণত ক্ষতিকর নয় এমন
অনেক ধরনের বস্তুকেও ইমিউন
সিস্টেম ক্ষতিকর ভেবে
প্রতিরোধের চেষ্টা করে। অথচ তা
ক্ষতিকর নয় এমনসব বস্তুর প্রতি
শরীরের এ অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়াকে
অ্যালার্জি বলা হয়।অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী
বহিরাগত বস্তুগুলোকে অ্যালার্জি
উৎপাদক বা অ্যালাজেন বলা হয়। এ সময়
প্রতিরোধক এন্টিবডির সাথে একত্রিত
হয় শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন
আরো অনেক রাসায়নিক পদার্থ। এরপর
শুরু হয় প্রতিক্রিয়া। সব শেষে
প্রতিরোধ ব্যবস্থার অংশ হিসেবে
বের হয় হিস্টামিন। কোনো
কোনো ক্ষেত্রে রাসায়নিক পদার্থটি
বহিরাগত অচেনা বস্তুটিকে নিষ্ক্রিয় এবং
নিষ্ক্রান্ত করে, আবার অনেক সময় এই
ভয়ানক প্রতিক্রিয়ায় শরীর নিজেই
অসুস্থ হয়ে পড়ে। ইহাই অ্যালার্জি ।
অ্যালার্জিক রাইনাইটিস বা নাকের এলার্জি দুই
ধরনের ১- সিজনাল অ্যালার্জিক রাইনাইটিস
২- পেরিনিয়াল অ্যালার্জিক রাইনাইটিস
হে ফিভার বা নাকের সর্দির এর কারণ :
বিভিন্ন কারণে এই সংক্রমণ হতে পারে।
এর নির্দিষ্ট একক কোন কারণে নেই।
এলার্জিক হওয়ায় কারন একেক জনের
কাছে একেক রকম কারণে তা হয় ।
যেমন- ধূলাবালি, ফুলের রেণু, হঠাৎ
ঠান্ডা-গরমের মিশ্রণ, অতিরিক্ত গরম,
অতিরিক্ত ঠান্ডা, আবহাওয়ার পরিবর্তন, সুতার
আঁশ, রান্নার গন্ধ, মসল্লার উগ্র খাবারের
গন্ধ, এলার্জিক খাবার ইত্যাদি (ব্যক্তি
ভেদে একেক জনের নিকট একেক
খাদ্য)। ধূলাবালি এবং ফুলের রেণু বিশেষ
করে ঘাস ফুলের রেণু থেকে
ছড়ানো এলার্জি হে ফিভারের অন্যতম
কারণ।
সিজনাল অ্যালার্জিক রাইনাইটিস : ( ঋতু
পরিবর্তনে নাকের সর্দি )
বছরের একটি নির্দিষ্ট সময় অ্যালার্জিক
রাইনাইটিস হলে একে সিজনাল অ্যালার্জিক
রাইনাইটিস বলা হয়। । এই রোগের
কোনো নির্দিষ্ট বয়সসীমা নেই,
সকল বয়সের মানুষেরই এ রোগ
হয়ে থাকে । । হে ফিভার কোন
ক্রণিক রোগ নয়, বরং তৎক্ষণাৎ বা হঠাৎ
এই উপসর্গ দেখা দেয়।
ঋতু পরিবর্তনের সময় এ ধরণের
উপসর্গ বেশি দেখা যায়। অর্থাৎ বিশেষ
ঋতুতে বিশেষ কোনো ফুল
(যেমন- ঘাসফুল বা সজিনা ফুল বা যে
কোন ফুলের রেনু ) ফুটলে
বাতাসের সঙ্গে তার রেণু ভেসে
নিঃশ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ
করে ও অ্যালার্জেন সৃষ্টি করে।
সাধারণত ঘাস ফুলের রেণু থেকেই
বেশি অ্যালার্জি হয়।সাধারণত
গ্রীষ্মের শেষে এবং বর্ষা ও
শরতে এ রোগের প্রকোপ বেশি
দেখা যায়।
আগেকার দিনে মনে করা হতো খড় বা
পেঘ্রান থেকে এই রোগের
উৎপত্তি । আসলে এই রোগ দেখা
দেয় পুষ্পরেণু থেকে যা শরীরে
প্রবেশের সময় রোগ
প্রতিরোধমূলক শক্তির একটা প্রতিক্রিয়ার
মাধ্যমে। কার ও বেলায় চোখ এবং
নাকের বাতাস চলাচলের রাস্তাআক্রান্ত
হয় ।
লক্ষণ :
অনবরত হাঁচি, হঠাৎ করে একের পর এক
হাঁচি। দুর্দমনীয় হাঁচির সাথে নাক দিয়ে
তরল পানি ঝরা, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া।
নাকের আগা, চোখ ও মুখ লাল হওয়া এবং
মুখমন্ডলে ফুলাফুলা ভাব। নাকের
ভেতর শির শির করা, মাথা ব্যথা ও
ভারবোধ, চোখ চুলকায়। কোন
কোন সময় হাল্কা কাশি হতে পারে ,
শরীরে জ্বর থাকে না বা মৃদু জ্বর
থাকে ইত্যাদি —
ঋতু পরিবর্তন জনিত কারণে অ্যালার্জিক
রানাইটিস যোক্ত হয়ে এর মাত্রা একটু
বেশি বৃদ্ধি করে অনেক সময় (এ
সময়ে রাইনো ভাইরাস যোক্ত হয়ে
পরিস্থিতি কিছুটা খারাপ করে দিতে পারে )
— ঘন ঘন হাঁচি হয়– নাকের জল গড়িয়ে
পড়ে– নাকে জ্যাম জ্যাম অনুভূতি হয়।–
ক্ষেত্র বিশেষে চোখ দিয়ে জল
গড়ায়।– চোখের নিচের পাতা ফুলে
যায়–চোখে লালচে উপসর্গ তৈরি হয়–
চোখে কনজাং টিভার সংক্রমণ ও প্রদাহ
হয়। তবে সচরাচর তা ২থেকে ৭দিনের
মধ্যে সেরে যায়।
পেরিনিয়াল অ্যালার্জিক রাইনাইটিস ( সব
সময়ে নাকের সর্দি ) :
সারাবছর ধরে অ্যালার্জিক রাইনাইটিস হলে
একে পেরিনিয়াল অ্যালার্জিক রাইনাইটিস বলা
হয়। পেরিনিয়াল অ্যালার্জিক রাইনাটিসের
উপসর্গগুলো সিজনাল অ্যালার্জিক
রাইনাইটিসের মতো।কিন্ত
এক্ষেত্রে উপসর্গগুলোর তীব্রতা
কম ও স্থায়িত্বকাল বেশি হয়।
এ রোগের সম্ভাব্য কারণগুলো
হলোঃ- সারা বছর ধরে অ্যালার্জি জনিত
নাসিকা প্রদাহের একটি সুনির্দিষ্ট কারণ
হলো ঘরের অ্যালার্জি উদ্দীপক
ধূলিময়লা ( মাইট ) , ছত্রাক-স্পোর, প্রাণির
পরিত্যক্ত লোম বা ত্বকের কোষ।
আবার একই রকম উপসর্গ ভৌত কিংবা রাসায়নিক
উদ্রেককারী পদার্থ যেমন ঃ ধোঁয়া,
দূর্গন্ধ, ঠান্ডা হাওয়া, অতি শুষ্ক
পরিবেশ,অতিরিক্ত পুরাতন অপরিষ্কার
কার্পেট , ফুড এলারজি জাতীয় খাবার,
সিগারেটের ধোয়া ইত্যাদি বিষয় সমূহ
লক্ষণীয়। এই ধরণের উপসর্গ জনিত
অ্যালার্জিক রাইনাইটিসকে
ভ্যাসোমোটর রাইনাইটিস বলা হয় ।
তবে এলার্জি জনিত কারণে হলে তা
দীর্ঘস্থায়ী রোগ বা ক্রণিকে রূপ
লাভ করতে পারে। । অনেক
ক্ষেত্রে “হিউম্যান রাইনো” নামক
ভাইরাস থেকে সংক্রামিত হয়ে থাকে বা
খাবার-দাবার থেকে অ্যালার্জি হলে ও
প্রায় সারাবছরই এ ধরণের উপসর্গগুলো
দেখা দেয়। এ রোগের নামকরণে
জ্বর শব্দটি থাকলেও মূলত এটি কোন
জ্বর না। অসুখের প্রথম পর্যায়ে
কোন জিনিস থেকে এ রোগের
সূত্রপাত প্রথমে তা নির্ণয় এবং সেসব
বস্তু (যেমন- ধুলাবালি, বিশেষ কোন
খাবার) থেকে দূরে থাকলেই রোগ
সেরে যায়।
পেরিনিয়াল অ্যালার্জিক রাইনাইটিস লক্ষণ ঃ-
পেরিনিয়াল অ্যালার্জিক রাইনাইটিসের
উপসর্গগুলো সিজনাল অ্যালার্জিক
রাইনাইটিসের মতো। কিন্তু এ
ক্ষেত্রে উপসর্গগুলোর তীব্রতা
কম হয় এবং স্থায়িত্ব বেশি হয় ——( সেই
সাথে অ্যাজমা বা হাঁপানি অথবা ফুস্ফুসের
অন্যান্য অসুখ , কারও বেলায় একটু বেশি
থাকতে ও পারে )
এর উপসর্গ হচ্ছে কাশি, ঘন ঘন শ্বাসের
সঙ্গে বাঁশির মতো শব্দ হওয়া বা বুকে
চাপ চাপ লাগা, বাচ্চাদের ৰেত্রে মাঝে
মাঝে ঠাণ্ডা লাগা। রাতে ঘুম থেকে
উঠে বসে থাকা — সাইনাসের প্রদাহ
বেড়ে যাওয়া – রোগীর প্রচন্ড –
ক্লান্তি অনুভব করা । নিদ্রাহীনতায়
ভোগা – যে দিকে ঘুমানো হয় এর
উল্টো দিকের নাসারন্ধ্র বন্ধ হয়ে
থাকা -এ ধরণের আক্রান্ত রোগিরা কার ও
সাথে কথা বলতে বারে বারে নাকে
হাত নিয়ে কথা বলতে অভ্যাস হয়ে যায়
বা কাউকে দূর থেকে দেখলে সব
সময় ই নাকের ভিতর আঙ্গুল দিয়ে নাক
পরিষ্কার করার বদ অভ্যাস প্রায় ই নজরে
পরে — ইত্যাদি । এ্যাজমা রোগীরা হে
ফিভারে আক্রান্ত হলে রোগের
প্রকোপ বেড়ে যায়।
প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা কি
রোগীর পারিপার্শ্বিক বা বংশানুক্রমিক
ইতিবৃত্ত অবশ্যই ভালভাবে জানা
প্রয়োজন সেই সাথে
সিরাম আইজিইয়ের মাত্রা : সাধারণত এলার্জি
রোগীদের ক্ষেত্রে
আইজিইয়ের মাত্রা বেশি থাকে।
স্কিন প্রিক টেস্ট : এই পরীক্ষায়
রোগীর চামড়ার ওপর বিভিন্ন
এলারজেন দিয়ে পরীক্ষা করা হয় এবং
এই পরীক্ষাতে কোন কোন
জিনিসে রোগীর এলার্জি আছে তা ধরা
পড়ে এবং সঠিক এলারজেন ধরা পড়ে ।
অর্থাৎ কোন ধরণের রেনুতে
রোগীর এলার্জি রয়েছে তা অবশ্যই
খুঁজে বের করতে হবে এবং
সেক্ষেত্রে সন্দেহভাজন রেনুর
নির্যাস দেখে স্কীন টেস্ট করলে
তা জানা যায়। আর এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে
যেহেতু প্রকৃত এলার্জি সৃষ্টিকারি রেনু
সনাক্ত করা যায় তাই নির্দিষ্ট সেই রেনুর
নির্যাস ব্যবহার করে
হাইপোসেনসিটাইজেশন পদ্ধতিতে
চিকিৎসা করলে ভাল ফলাফলও পাওয়া যায়।
রক্ত পরীক্ষা বিশেষতঃ
ইয়োসিনোফিলের মাত্রা বেশি
আছে কিনা তা দেখা। সিরাম আইজিই এর
মাত্রা ঃ সাধারণত এলার্জি রোগীদের
ক্সেত্রে আইজিই এর মাত্রা বেশি
থাকে।। সাইনাসের এক্স-রে অনেক
সময় প্রয়োজন হতে পারে –
চিকিৎসাঃ-
সমন্বিতভাবে এ রোগের চিকিৎসা
হলোঃ এলারজেন পরিহার- যখন এলার্জির
সুনির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া যায় তখন তা
পরিহার করে চললেই সহজ উপায়ে
এলার্জি নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং ঠান্ডা বাতাসে
চলাফেরা না করা সেই সাথে নাকের পানি
ও এলারজি প্রতিরোধ করার জন্য ওষুধ
প্রয়োগ করতে পারেন এবং ইহা
সাময়িকভাবে এলার্জির উপশম অনেকটা
পাওয়া যায়। এ রোগের প্রধান ওষুধ
হলো এন্টিহিস্টামিন ও নেজাল
স্টেরয়েড। এন্টিহিস্টামিন, নেসাল
স্টেরয়েড ইত্তাদির ব্যবহারে
রোগের লক্ষণ তাৎক্ষণিকভাবে
উপশম হয়। যেহেতু স্টেরয়েডের
বহুল পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া তাই এ ওষুধ
একনাগাড়ে বেশিদিন ব্যবহার করা যায় না।
যতদিন ব্যবহার করা যায় ততদিনই ভাল থাকে
এবং ওষুধ বন্ধ করলেই আবার রোগের
লক্ষ্মণগুলো দেখা দেয়।
( চিকিৎসকের পরামর্ষ নিয়েই নিচের
ব্যাবস্থা গ্রহন করা উচিৎ ) যেমন ঃ-
– অ্যান্টি হিস্টামিন জাতীয় ঔষধ সেবন ঃ
লোরাটাডিন ১০ মিঃ গ্রাঃ দৈনিক ১টা করে
একমাস।
সোডিয়াম ক্রোমোগ্লাইকেট
ন্যাসাল স্প্রে- দুই নাকের ছিদ্রে দিনে
৪ হতে ৬ বার।
বেকলোমিথাসোন ডাই
প্রোপিওনেট বা বুডিসোনাইড
জলীয় ন্যাসাল স্প্রে প্রতি নাকের
ছিদ্রে দিনে ২বার ব্যবহার ।
যে সকল রোগী উপরের চিকিৎসায়
বিফল তাদের ক্ষেত্রে দীর্ঘ-
কার্যকরী কর্টিকোস্টেরয়েড
মাংশে ইনজেকশেন রূপে ব্যবহার
করলে উপসর্গ উপশম হয় তবে তা
বেশি দিন ব্যাবহার করলে জীবন
ধংশকারির মত মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন
হতে পারেন । )
পুরানো অবস্থায় নাকের অসুবিধা থাকলে
বা নাক বেশি বন্ধ হলে Spray Antazol;
মাত্রা – শিশুদের জন্য ০.০৫% এবং
বয়স্কদের জন্য ০.১% নাকের ভিতর দিন
২-৩ বার দিতে পারেন –
শরীরে দূর্বলতা থাকলে ভিটামিন বি-
কমপ্লেক্স (B-Complex) জাতীয় ঔষধ
রক্তশুন্যতা থাকলে রক্তবর্ধক ঔষধ
Syp. Ferglucon জাতীয় ঔষধ
প্রয়োজন হতে পারে
এই ওষুধগুলো নিয়মিত এবং যথানিয়মে
ব্যবহার করতে হবে। সেই সঙ্গে
নিম্নের ঔষধ সমূহ দেওয়ার জন্য ও
উপদেশ দিয়ে থাকেন বিশেষজ্ঞরা ।
যেমন-চোখে মেডিকেটেড ড্রপ
ব্যবহারে আরাম পাওয়া যায়। এতে থাকে
উপশমী লুব্রিকান্ট, এন্টিহিস্টামিন এবং
স্টেরয়েড। নিয়মিত ব্যবহারে প্রদাহ
অনেক কমে যায়।
স্যুড্রোফেড্রিন টেবলেট নাকের
রাস্তা পরিষ্কার করে দেয় এবং শুষ্ক
রাখে। তবে এই ওষুধের কিছু
পার্শ¦প্রতিক্রিয়া আছে। যেমন
শরীরে মৃদু কম্পন, মুখের অসুবিধা,
দুশ্চিন্তা এবং রক্ত্চাপ বেড়ে যাওয়া সেই
কারণে যাদের উচ্চ রক্তচাপ আছে, তারা
এই ওষুধটি খাবেন না
।কার্টিসোল স্টেরয়েড ইঞ্জেকশন
না নেয়াই উত্তম। ইঞ্জেকশনের
ফলে মাত্র এক বা দুই সপ্তাহের উপশম
হয়। ফলে বার বার ইঞ্জেকশন দিতে
হয়। এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অনেক
মারাত্মক। সেই কারণে ক্যাটিনোল
স্প্রে নেয়া ভালো।
তবে ভ্যাসোমোটর অ্যালার্জিক
রাইনাইটিস চিকিৎসা দ্বারা নির্মূল করা খুভ
কঠিন। তবে এক্ষেত্রে
ইপ্রাট্রোপিয়াম ব্রোমাইড নাকের
ছিদ্রে দিনে ৩ হতে ৪ বার ব্যবহার
করলে উপকার পাওয়া যায়। মুলত এর জন্য
পরবিশে ও জল্বায়ুর পরিবর্তন করলে
অনেকে তা সেরে যায়
হার্বাল চিকিৎসা ঃ –
প্রথম অবস্থায় – আদার রস, বাসক পাতার
রস, তুলসী পাতার রস মধু দিয়ে খেলে
উপকার হয়।– গরম আদার চা খুবই
উপকারী।– ভিটামিন-সি যুক্ত ফল খাওয়া– .
কালোজিরা পুটলিতে বেধে নাক দিয়ে
ঘ্রাণ নিলে সর্দি ও হাঁচি বন্ধ হয়।
লবণ মিশ্রিত গরম পানি ব্যবহার ঃ- নাক বন্ধ
হয়ে গেল আধা গ্লাস হাল্কা গরম
পানিতে কয়েক চিমটি লবণ মিশিয়ে তা
নাকে টেনে নেয়া। বা আদা ও তুলসি
পাতার রস মধুর সাথে মিশিয়ে সেবন
করলে উপকার পাওয়া যায়। প্রাকৃতিক
উপাদানের মধ্যে রসুন বেশ উপকারী
।
সর্বশেষ প্রমাণিত কিছু ভেষজ এলারজিক
রানাইটিসের জন্য
বাটারবার ( Butterbur ) ঃ- (Petasites
hybridus, 500 mg per day) — ইহা
সাধারনত হাঁপানি এবং ব্রঙ্কাইটিসের মিউকাস
জাতীয় কাশি বাহির করতে খুভি ফলদায়ক
বিদায় এলারজিক রানাইটিসে ভাল সহায়ক
হিসাবে প্রমাণিত । ( রিসাচ ল্যাব )
বিছুটি জাতের গাছ Stinging nettle ঃ- (Urtica
dioica, 600 mg per day for one week)
— এলারজিক রানাইটিসের জন্য ফলদায়ক
তবে গর্ভ বতি মা এবং শিশুদের জন্য
নিষেধ ।
গুলঞ্চ Tinospora cordifolia ঃ- (300 mg
three times daily) — কিছুটা উপকারী
তবে দুধদাতা মা এবং শিশুদের জন্য
ক্ষতিকর ( রিচারচ চলিতেছে )
ভ্যাসোমোটর অ্যালার্জিক রাইনাইটিস
( Vasomotor rhinitis ) ঃ-
ইহা ও এক ধরণের হে ফিভার বা নাকের
সর্দি কিন্তু এর জন্য কোন ভাইরাস দায়ি
নয় – ( non-allergic rhinitis )
কারন সমূহ কি ? ঃ- শুষ্ক বায়ুমন্ডলের
আবহাওয়া , বায়ু দূষণ, অ্যালকোহল,
সিগারেট, কিছু ঔষধ, মসলাযুক্ত খাবার বা
শক্তিশালী কিছু রাসায়নিক পদার্থের
পাশে জীবন যাপন ইত্যাদি
লক্ষণ চিকিৎসা সব ই পেরিনিয়াল অ্যালার্জিক
রাইনাইটিস এর মত এবং শুধু মাত্র এর জন্য
সবচেয়ে ভাল ব্যাবস্তা বলতে একমাত্র
জলবায়ু পরিবর্তন করা ছাড়া সম্পূর্ণ ভাল
হওয়ার আসা করা অসম্বভ ( যেমন
গ্রীষ্ম প্রধান দেশের মানুষ যখন
শীত প্রধান দেশে এসে বস বাস
করেন তাদের মধ্যেই এই অসুখ টি
বেশি দেখা যায় ) এর জন্য ৮০% বেলায়
জলবায়ু বা পরিবেষ পরিবর্তন না করলে
সম্পূর্ণ ভাল হওয়া খুভি কস্টকর ।
ধুলোর জীবাণুগুলো কী কী
অতি ক্ষদ্র আনুবীক্ষণিক এ
প্রাণীগুলো আটপায়ের অ্যারাকনাইড়
পরিবারের অন্তর্গত। অাঁটুলি পোকা এবং
চিগার একই পরিবারভুক্ত। এগুলো শক্ত
দেহের অধিকারী। এরা ৭০ ডিগ্রী
ফারেনহাইট বা তার উচ্চ তাপমাত্রায়
ভালোভাবে বাঁচতে পারে। ৭৫-৮০
শতাংশ আর্দ্রতাই এদের পছন্দ। আর্দ্রতা
৪০-৫০ শতাংশের কম হলে এদের বংশ
বৃদ্ধি হয় না। শুষ্ক আবহাওয়ায় এদের দেখা
যায় না।
দেখা গেছে, শতকরা ১০ ভাগ মানুষ
এদের কারণে আক্রান্ত হয়। অ্যাজমা
রোগীদের মধ্যে শতকরা ৯০ জনই
এদের সংস্পর্শে এলে অ্যালার্জি
প্রতিক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়।
এ জীবাণুদের নুখ মুখ বা মলের
সংস্পর্শে মানুষের শরীর আসলেই
অ্যালার্জি হয়। এদের সবচেয়ে বেশি
দেখা যায় বালিশে, মাদুরে, কার্পেটের
ভাঁজে এবং আসবাবপত্রের তলায়। ঝাডু
দিলে বা ভ্যাকুয়াম ক্লিনার প্রয়োগ
করলে এরা বাতাসে ভাসতে থাকে অথবা
হেঁটে হেঁটে অন্যপ্রান্তে সরে
যায়। অ্যালার্জি রোগীদের শ্বাসের
সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করে এবং
উপসর্গ বাড়িয়ে দেয়। এক মুঠো
ধুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ১৯০০০
পর্যন্ত জীবাণু থাকতে পারে। গড়ে
এ সংখ্যা প্রতি গ্রামে ১০০০০। প্রত্যেক
জীবাণু দিনে ১০টি নতুন মাইটস সৃষ্টি
করে। এদের বেঁচে থাকার মেয়াদ ৩০
দিন। – ( আর ও জানতে ধুলা মাইটসে
দেখুন – )
অ্যালার্জি প্রতিরোধ ঃ-
অ্যালার্জি প্রতিরোধের একমাত্র উপায়
হলো, মুল কারণগুলো শনাক্ত করে তা
এড়িয়ে চলা। বিশেষ করে
রোগীকে খুব সতর্কতার সঙ্গে
খুঁজে বের করতে হবে তার
শরীরে কী কী কারণে অ্যালার্জি
হয়।
অ্যালার্জি চিকিৎসার বিভিন্ন ধাপ অনুসরণ করার
পর —রোগের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস এবং
অ্যালার্জির প্রকৃত কারণ শনাক্ত করার পর
ভ্যাকসিনের মাধ্যমে প্রতিরোধ করা
যেতে পারে। ( ১০০% নিশ্চিত )
এলার্জি ভ্যাকসিন বা ইমুথেরাপি ঃ এর মূল
উদ্দেশ্য হলো যে মাইট দ্বারা
এলার্জিক রাইনাইটিস সমস্যা হচ্ছে সেই
মাইট এলারজেন স্বল্প মাত্রায় প্রয়োগ
করা হয়। ক্রমান্বয়ে সহনীয় বেশি
মাত্রায় দেয়া হয় যাতে শরীরের
এলার্জির কোন প্রতিক্রিয়া দেখা না দেয়
কিন্তু শরীরের ইমিউন সিস্টিমের
পরিবর্তন ঘটায় বা শরীরের এলার্জির
বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলে
অর্থাৎ আইজিইকে আইজিজিতে পরিণত
করে ) তাই এ ধরনের এলার্জিক
রাইনাইটিসের ক্ষেত্রে
ইমুনোথেরাপি বা ভ্যাকসিন বেশি
কার্যকর।
গরম ও উষ্ণ তরল খাবার খাওয়া – নাকের
ভিতর পরিষ্কার রাখ উচিত-পরাগরেণুর
সংস্পর্শে না আসা– শীত বা বর্ষা
মৌসুমে যখন বাতাসে পরাগরেণু
ভেসে বেড়ায় তখন দরজা জানালা বন্ধ
রাখা-
যে উদ্দীপক অ্যালার্জি তৈরি করে
ত্বকের সংবেদন পরীক্ষার মাধ্যমে
সেই অ্যালার্জেন হতে দূরে থাকা
যেমন ঃ- অনেক ধরণের খাবার আছে যা
শুধু মাত্র আক্রান্ত ব্যাক্তি কে এড়িয়ে
চলতে হবে অর্থাৎ যার জন্য এ অ্যালার্জি
হয় তা থেকে দূরে থাকা উচিত
( সকলের এক ধরণের খাবারে এলারজি
বাড়ে ইহা ও সত্য নয়, তারপর ও চিংরি, বাদাম
এই সব খাবার একটু বেশি এলারজেটিক,
তবে সকলের বেলায় নয় )
সিজনাল সময়ে ঃ- ( ফ্যানের বাতাস বন্ধ
রাখুন এবং বাহিত থেকে রুমে আনা সাময়িক
বন্ধ করুন – বাহিরের রুদ্রে কাপড়
চোপড় না শুকানো ভাল –
গোসলের সময় জামা কাপড়ের
পরিবর্তন নিত্য করা উচিৎ – যদি পারেন
ইয়ার ফিল্টার রুমে ব্যাবহার সবছেয়ে
ভাল – )
যাদের সব সময় লেগে থাকে ঃ- সব
সময় আপনার বালিশ বা তোশকের কবার
পরিষ্কার না রাখলে মাইট থেকে হয়ে
থাকে । পুরাতন কার্পেট ,ফ্লোর অথবা
অথবা ব্যাবহারিক জিনিস পত্র এবং দরজা
জানালার পর্দা ইত্যাদি থেকে , ঘরের
পোষা পালিত যে কোন প্রানির লোম
থেকে হয় বিধায় এই সব বিষয় এড়িয়ে চলা
পুষ্পরেণু থেকে মুক্ত থাকার কিছু টিপস্ :
( সংগৃহীত )
দুপুর পর্যন্ত ঘরে থাকুন দুপুরের পরে
বাতাসে পুষ্পরেণুর পরিমাণ অপেক্ষাকৃত
কম হয়। ঝড়ো দিনে বা প্রবল বাতাস
থাকলে বাইরে যাবেন না।
* চোখ বাঁচানোর জন্য সানগ্লাস ব্যবহার
করুন
* বাগানের ঘাস কাটার কাজে নিয়োজিত
হওয়া চলবে না যদি কাটতেই হয়, তাহলে
মাস্ক পরে কাজ করবেন।
* বাড়ির বাগানে এমন ধরনের গাছ বেছে
বেছে লাগান যেগুলো এলার্জি তৈরি
করে না।
* বাড়ির জানালা বন্ধ রাখুন। বিশেষ করে
রাস্তায় চলার সময় গাড়ির কাঁচ তুলে
দেবেন।
* পরাগায়নের মৌসুমে বনভোজনে
অংশ নেয়া থেকে বিরত থাকুন।
* ছুটির দিনগুলো দূষণমুক্ত এলাকায়,
বিশেষ করে নদী বা সমুদ্রতীরে
কাটাতে পারেন।
* বাড়ির বাগানের কোন গাছ বা আগাছার
কারণে এলার্জি হচ্ছে, তা নিশ্চিতরূপ
জানতে পারলে গাছটি অপসারণ করুন।
* কাজ শেষে বাড়িতে ফিরেই
গোসল করুন। সুযোগ পেলেই
চোখে পানি দিয়ে পরিষ্কার করুন।
* সঙ্গে সব সময় রুমাল বা টিস্যু পেপার
রাখুন।
ধন্যবাদ ————— ( চলবে )
যারা নাকের সর্দিতে ভোগেন প্রায়
সময় , তারা সত্য কিছু কথা জেনে নেওয়া
ভাল !!!!
ইউকে ,ইউরোপ অ্যামেরিকা বা শীত
প্রধান দেশে ৮০% এর বেলায় নাকের
সর্দি, শিশুদের ঘন ঘন নিউমোনিয়া,হাঁপানি
বা শ্বাস কস্ট ইত্যাদি দেখা দেওয়ার মুল
কারন ঘরের কার্পেটের জমে থাকা
ডাস্ট এবং বিশুদ্ধ বাতাস ঘরে ঢুকতে না
দেওয়া ঠিক তদ্রুপ প্রাপ্ত বয়স্কদের
বেলায় যারা সব সময় গড়ি ব্যাবহার করেন
তাদের বেলায় না কমার কারন গাড়ির
ভিতরের ডাস্ট এবং বাহিরের কিছু ফ্রেস
বাতাস গাড়িতে ঢুকতে না দেওয়া – তাই
সামান্য বিষয় একটু খেয়াল রাখলে অনেক
ধরণের মারাত্মক অসুখের ঝুঁকি থেকে
রেহাই পেতে পারেন বলে আমার
বিশ্বাস —
অ্যালার্জি হলে ভালো হয় না ইহা সম্পূর্ণ
সত্য নয় । বিশেষ করে রোগীকে
খুব সতর্কতার সঙ্গে খুঁজে বের
করতে হবে তার শরীরে
কোনঅ্যালার্জেনের কারণে
অ্যালার্জি হয়েছে এবং সে জন্য
হাইপোসেনসিটাইজেশন পদ্ধতিতে
অনুসরণ করে বুজে নিবেন আপনার
কিসে অসুবিধা এবং তা থেকে বিরত
থাকলে ১০০% আশা করতে পারেন
সম্পূর্ণ সুস্থ থাকার এবং সেই সাথে
এলার্জি ভ্যাকসিন দিয়ে রাখুন যাতে আবার
পুন আক্রান্ত না হন – তবে পরিবেষ গত
কারণে হলে জল্বায়ুর পরিবর্তন না
করলে অনেক সময় তা কমানো খুভ
অস্টকর হয়ে যায় ।
এ ছাড়াও আমারা সবাই জানি এ জাতীয়
রোগের প্রধান ওষুধ হলো
এন্টিহিস্টামিন ও নেজাল স্টেরয়েড।
এন্টিহিস্টামিন, নেসাল স্টেরয়েড
ব্যবহার রোগের লক্ষণ
তাৎক্ষণিকভাবে ভাল হয় শুধু মাত্র সিসনাল
সর্দিতে কিন্তু যারা সারা বছর ধরে
ভোগেন তাদের বেলায় এ জাতীয়
ঔষধ সাময়িক কিছুটা ধ্মানো ছাড়া আর অন্য
কিছু নয় । অর্থাৎ স্টেরয়েডের বহুল
পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া তাই এ ওষুধ একনাগাড়ে
বেশিদিন ব্যবহার করা যায় না। যতদিন
ব্যবহার করা যায় ততদিনই ভাল থাকে এবং
ওষুধ বন্ধ করলেই আবার রোগের
লক্ষ্মণগুলো দেখা দেয়। অন্য দিকে
নাকের ড্রপ বেশি দিন ব্যাবহার করলে
নাকের পিছনের হাড়ের প্রদাহ বেড়ে
যায় বা বাকা হয়ে যায় – সে জন্য বেশি
দিন এই সব ঔষধ নিজের ইছছায় সেবন
থেকে বিরত থাকবেন ।
ধন্যবাদ






0 মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন