মোবাইল আসক্তি

মোবাইল আসক্তি !!!
মানুষ মোবাইল ফোনে আসক্ত কি না, সেটা নিয়ে বিশ্বে
গবেষণা শুরু হয়েছে। উন্নত বিশ্বে দেখা গিয়েছে যে,
শতকরা ৩৭ ভাগ প্রাপ্তবয়ষ্ক মানুষ, এবং শতকরা ৬০ ভাগ তরুন/
তরুনী মেবাইল ফোনে আসক্ত। বিশেষ করে স্মার্ট
ফোনগুলো বাজারে আসার পর এই আসক্তির মাত্রা চরমভাবে
বেড়েছে।
দেখা যাচ্ছে, আজকাল কাউকে টেলিফোনে কথা বলার জন্য
কল করলে ওপাশ থেকে সে জানাচ্ছে, কথা বলতে
পারবো না, ব্যস্ত। কি নিয়ে ব্যস্ত! হয়তো এসএমএস
পাঠাচ্ছে, নয়তো ফেসবুক করছে, নয়তো টুইট করছে।
গবেষনায় দেখা গিয়েছে, অসংখ্য মানুষ মোবাইলে আসক্ত
হয়ে পড়ছে
এমনকি অফিসের কাজ বা মিটিং-এর ভেতরও মানুষ ফেসবুকের
স্ট্যাটাস পরিবর্তন করছে - কী বোরিং একটা মিটিং! আবার
ছাত্রছাত্রীরাও ক্লাসে চলাকালীন সময়েও একই কাজটি
করছে; এবং শিক্ষকের লেকচার মনোযোগ দিয়ে শুনছে
না।
শপিং মলে কিংবা কোন ব্যস্ত জায়গায় গেলে সেটা আজকাল
আরো বেশি চোখে পড়ছে। দেখা যাচ্ছে,
ছেলেমেয়েরা রাস্তায় হাটছে, কিন্তু তাকিয়ে আছে ছোট
স্ক্রীণের দিকে; আর হরহামেশাই ধাক্কা খাচ্ছে পথচারীর
সাথে। এমনিতেই ঢাকা শহরে ধাক্কাধাক্কির পরিমান বেশি; এর
সাথে যোগ হয়েছে মোবাইল ফোনের কারণে বাড়তি
ধাক্কা।
আমি কি আসক্ত?
আমরা সবাই জানি, আমরা আমাদের দামী মোবাইল
ফোনটিকে কতটা ভালোবাসি। আর সেটা যদি হয় স্মার্ট
ফোন, তাহলে তো কথাই নেই। সঙ্গত কারণেই আপনার
মনে প্রশ্ন আসতে পারে, ‍"আমি কি আসক্ত?"
সেটা বলে দিবে আপনার ব্যবহার। এমন করে ভাবার কোনও
কারণ নেই যে, আপনি আসক্ত নন! একজন পাগলও কিন্তু মনে
করেন, সে সুস্থ্য মানুষ। তাকে আপনি কিছুতেই বুঝাতে
পারবেন না যে, সে অসুস্থ্য। একইভাবে যারা মোবাইল
ফোনে আসক্ত, তাদের নিজেদের একটি যুক্তি আছে। তারা
বলেন, বাসায় ল্যান্ডফোন নেই, প্রাইভেসী নেই,
বন্ধুদের তো একটু খোজখবর রাখতেই হয়, এমন হাজারো
যুক্তি।
এবং এই সব যুক্তির বেড়াজালে দেখা যাবে, কেউ গাড়িতে
উঠতে উঠতে এসএমএস পাঠাচ্ছে, যদিও তিনি একটু পরেই
গাড়িতে বসে সেটা করতে পারেন; বাথরুমে যেতে
যেতে ফেসবুক স্ট্যাটাস দিচ্ছেন, যদিও সেটা তিনি বাথরুম
থেকে ফিরে এসেও করতে পারেন। এমন অসংখ্য উদাহরণ
পাওয়া যাবে, যে কাজগুলো আমরা করে থাকি - এবং মনে মনে
ভেবে নেই, এগুলো তো করারই কথা!
মোবাইল ফোন এবং স্মার্ট ফোনগুলো অফিস আর
ব্যক্তিগত সময়ের কোন পার্থক্য রাখছে না। অফিসে বসে
ব্যক্তিগত কল রিসিভ করাটা যেমন ঠিক নয়, আবার ব্যক্তিগত
সময়ে অফিসের কল আসাটাও ভালো কিছু নয়। কিন্তু আমরা কি
সেই সীমারেখা মানছি? কিংবা মানতে পারছি?
আপনি কি ফোন বন্ধ করে রাখতে পারেন?
ফোন বন্ধ করে রাখুন
আমরা বেশিরভাগ মানুষই দিনরাত ২৪ ঘন্টাই ফোন অন করে রাখি;
আর মনে মনে ভাবি, যদি জরুরী কোন ফোন আসে, কিংবা
কোনও ম্যাসেজ! কতজন মানুষ মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে
ফোন বন্ধ রাখেন! খুবই কম। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন,
মোবাইল ফোন বা স্মার্ট ফোন হলো আপনার ব্যক্তিগত
ফোন। দিনের কিছুটা সময় ইচ্ছে করেই ওটাকে বন্ধ করে
রাখুন। তখন দেখবেন, আপনার মনোযোগ অন্য দিকে
যাবে, আপনি তখন বুঝতে পারবেন, আরো কত কিছুই করার
আছে যেগুলো আপনি করছেন না - আপনার যাবতীয়
মনোযোগ হলো ওই ছোট্ট পর্দাটার দিকে।
কিন্তু অনেকেই আছেন, ফোন বন্ধ করে স্বাভাবিক
থাকতে পারবেন না। তার সবসময়ই মনে হবে, ইস কেউ
ফোন করলো কি না, কেউ ম্যাসজ দিল কি না, কেউ ইমেল
করলো কি না! তিনি বরং অস্থির হয়ে থাকবেন। এবং সেই
অস্থিরতার চেয়ে ফোনটা খোলা রাখা হয়তো অনেক
বেশি স্বস্থির হবে।
আসক্তির লক্ষণ
এবারে জানিয়ে দিচ্ছি, মোবাইল বা স্মার্ট ফোনের প্রতি
আপনি আসক্ত কি না, সেটা বুঝার জন্য লক্ষণগুলো। নীচে
মোট ১০টি লক্ষণ দেয়া হলো। এর থেকে যদি ৭টি বা
আরো বেশি বিষয় আপনার বেলায় সঠিক হয়, তাহলে বুঝতে
হবে আপনি মোবাইল ফোনে বা স্মার্ট ফোনে
আসক্ত।
আপনি কি মোবাইলাসক্ত ???
১. কখনই আপনার মোবাইল ফোনটি বন্ধ করেন না?
২. টিভি না দেখে মোবাইল নিয়ে সময় কাটান?
৩. রাস্তায় চলতে চলতে এসএমএস পাঠান?
৪. নিরিবিল পরিবেশেও (যেমন সিনেমা হল, লাইব্রেরী
ইত্যাদি) ফোন করার তৃষ্ঠা অনুভব করেন?
৫. কাজে/ক্লাসে বসে ব্যক্তিগত কল করেন এবং রিসিভ
করেন?
৬. টয়লেটে গিয়েও প্রায়শই মোবাইল ব্যবহার করেন?
৭. ক্লাসে বসে কিংবা অফিসের কাজের মাঝে ফেসবুকে
স্ট্যাটাস পরিবর্তন করেন?
৮. সকালে ঘুম থেকে উঠে ফেসবুক বা টুইটারের
আপডেট দেখেন?
৯. রাতের খাবারের টেবিলে সবার সাথে বসেই মোবাইল
ব্যবহার করেন?
আপনার আসক্তি যদি পজিটিভ হয়, তাহলে সেটা কাটিয়ে ওঠার
ব্যবস্থা নিন...
22 September